নেত্রকোণার পূর্বধলায় এক গৃহবধূ, তার বৃদ্ধা মা ও শিশু কন্যাকে অটোতে অপহরণ চেষ্টা এবং একই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় পৃথক দু’টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী হেনা আক্তার (৩৪) বনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, ২০০৮ সালের ১০ই আগস্ট বহুলী গ্রামের মো. আব্দুল হাসিম খানের (৪০) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৬ বছরের ছেলে ও ১২ বছরের মেয়ে রয়েছে। হেনার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হতো। এ পর্যন্ত তার মায়ের কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করে নির্যাতন করায় তিনি সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। গত ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি গাজীপুর নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তালাক প্রদান করেন। তালাকের পর থেকে হুমকি অব্যাহত থাকায় মানসিক চাপে তার মেয়ে গত ২৫শে অক্টোবর সকালে বিষপান করে। ময়মনসিংহে চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়ি আনা হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্ত আব্দুল হাসিম খান, পূর্বধলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী তুরাগ (৩০), পূর্বধলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শান্ত মিয়া (২৪), ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পিয়াস মিয়া (২৮)সহ অজ্ঞাত ৮-১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে, তার মা ও মেয়েকে জোরপূর্বক অটোতে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে রাজাবাজার ব্রিজ এলাকায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে।
অপরদিকে, একই ঘটনার জেরে রাত ৮টা ২০ মিনিটে একই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ করেছেন ছোট ইলাশপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মঞ্জুরুল হক (৩৭)। তিনি জানান, হেনা আক্তার তার খালাতো বোন। অপহরণের সময় তাকে ফোনে জানালে তিনি উদ্ধারে সহায়তা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাতেই অভিযুক্তরা ৭-৮টি মোটরসাইকেলযোগে এসে চৌরাস্তা বাজার মোড়ে তার মোটরসাইকেল পার্টস ও বিকাশের দোকান এবং গোডাউনে রামদা ও লোহার পাইপ দিয়ে হামলা, ভাঙচুর চালায় এবং ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দু’টি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
