কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে নবজাতককে বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযানের মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানিয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—জোবেদা আক্তার সানজিদা, নজরুল ইসলাম মনির, স্বপ্না বেগম ও রিপন।
পুলিশ জানায়, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকট গ্রামের বাসিন্দা আবির হোসেনের (১৯) সঙ্গে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আবির একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কে জড়ান। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
পরবর্তী সময়ে তারুণীর পরিবার বিষয়টি আবিরের পরিবারকে জানায়। তখন আবিরের মা জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), চাচা নজরুল ইসলাম মনির (৪৮) এবং স্থানীয় মাতব্বর হাজী মোস্তফা মোল্লা বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৩ অক্টোবর চৌদ্দগ্রামের ‘প্রাইম’ নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছেলেসন্তানের জন্ম দেন খাদিজা। এরপর নবজাতকের পিতৃপরিচয় গোপন করতে নবজাতাক বিক্রি করে দেন।
পুলিশের তথ্যমতে, এ ঘটনায় স্বপ্না বেগম, কাজী বাছির, মো. নাজিম উদ্দীন ও রিপনসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে হয়তো নবজাতককে কারও কাছে দত্তক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নবজাতককে উদ্ধারের সময় একশ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পও পাওয়া গেছে। সেখানে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে নবজাতককে অন্যত্র হস্তান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করা আছে।
এ ঘটনায় তাদের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান। এছাড়াও বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেয়েছে।
