মুন্সীগঞ্জে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে ভুক্তভোগী ওই নারী মামলা করেছেন। সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। গত রোববার রাতে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার কাটাখালী এলাকার ফাহিম মোল্লা (২১), রবিন মোল্লা (২২) ও জিসান দেওয়ান (২০)।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত রোববার বেলা আড়াইটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার রনছ হাওলাদার পাড়া এলাকায় বসবাসরত এক নারী জামাকাপড় পরিবর্তন করার সময় তার অজান্তে কৌশলে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। পরে ‘লামিয়া খান’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ওই নারীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হয়। ওই আইডি থেকে ধারণ করা ভিডিও পাঠিয়ে তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘটনাটি পুলিশকে জানার পর পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলমের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানে নামে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইসতিয়াক আশফাক রাসেল বলেন, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাদের কাছ থেকে ভিডিও ধারণে ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে ভুক্তভোগী ওই নারী মামলা করেছেন। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
