আহসান হাবীব তুহিন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অন্যতম সহচর। বগুড়া জেলা এবং আদমদীঘি উপজেলার আওয়ামী নেতাদের কাছের মানুষ হিসেবে তিনি বেশ পরিচিত। জুলাই বিপ্লবে বাংলাদেশের রাজনীতির গতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও রাতারাতি পাল্টে ফেলেন তুহিন। বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার গুনাহার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বগুড়া জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক নুর মোহাম্মদ আবু তাহেরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। ক্রমে তার একান্ত মানুষ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে নুর মোহাম্মদ আবু তাহের দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি আসন থেকে সাংসদ নির্বাচন করেন। তার সেই নির্বাচনে সামনের সারিতে থেকে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা করেন তুহিন। তার কার্যক্রমে মুহূর্তেই ওই নেতার আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তুহিন। ফলে জামায়াতের চিরায়িত রাজনীতির রীতি ভেঙে উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো চেয়ারম্যান প্রার্থী বনে যান তুহিন। রোববার সন্ধ্যায় জামায়াতের আদমদীঘি উপজেলা দায়িত্বশীল বৈঠকে এ ঘোষণা দেন বগুড়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যাসিস্টের দোসর তুহিনের প্রার্থী ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিমিষেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। খোদ জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান। কেউ প্রকাশ্যে আবার কেউ গোপনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় দায়িত্বশীল মানবজমিনকে বলেন, হাতে গোনা দুই-একজন নেতার আস্থাভাজন বলে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের একজন চিহ্নিত ব্যক্তিকে জামায়াত আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার ফলে জামায়াতের মধ্যে স্পষ্ট ফাটল ধরলো। ইতিমধ্যেই জামায়াতের সিংহভাগ নেতাকর্মী এই প্রার্থীকে বয়কট করেছে। তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না। দলের ঊর্ধ্বতনদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেলে সঙ্গে সঙ্গে রোকন পদ চলে যাবে। এই ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলছেন না। তবে ঘোরতর সমর্থকরা প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনও কথা উঠেছে, যদি এই সিদ্ধান্ত থেকে জামায়াত সরে না আসে, তাহলে একটা বড় অংশ প্রকাশ্যে জামায়াতের বিরোধিতা করবে। যার প্রভাব স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপকভাবে পড়বে।
বিষয়টি নিয়ে জামায়াত ঘোষিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আহসান হাবীব তুহিনের আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ না করে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। একাধিকবার আদমদীঘি উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ মাওলানা আতোয়ার রহমানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বগুড়া জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও আদমদীঘি উপজেলা জামায়াতের তত্ত্বাবধায়ক নুর মোহাম্মদ আবু তাহের। তিনি অকপটে তুহিনের আওয়ামী সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বলেন, তুহিন পদধারী নেতা ছিল না। ’২৪ এর পরবর্তী সময়ে তিনি জামায়াতে যোগ দেন। তার মধ্যে রাজনৈতিক দক্ষতা আছে। সে দুই বছর ধরে জামায়াতের যুব বিভাগে কাজ করেছে। তার দলীয় পারফরম্যান্স ভালো। ভোট করার দক্ষতা আছে। সাংসদ নির্বাচনের সময় তার ভূমিকা খুব ভালো ছিল। আদমদীঘিতে জামায়াতের যোগ্য অন্য কোনো প্রার্থী ছিল কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, নেতৃত্বের সংকটের জন্যই তাকে মূলত প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যরা যারা আছেন, তারা নির্বাচন করে বের হয়ে আসতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন এই নেতা।
