উল্লাপাড়া পৌরসভায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদীর পাড়ে স্থাপিত বিশুদ্ধ পানি শোধনাগারের সাপ্লাই লাইনে পানি সরবরাহ না হতেই রিডিং মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। গত কয়েকদিনে অন্তত ১৫০টি বাসা বাড়ির মিটার চুরি হয়েছে। তবে, এই চুরির ঘটনা ঘটলেও রহস্যজনকভাবে চোরেরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পৌরবাসী।
জানা গেছে, উল্লাপাড়া পৌর এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন শীর্ষক’ প্রকল্পে আওতায় ঘাটিনা এলাকার করতোয়া নদীর পাড়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূপৃষ্ঠস্থ পানি শোধনাগারটি স্থাপন করা হয়। যার মধ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন বাবদ ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ও পৌরসভা পাইপ লাইন বাবদ ১০ কোটি টাকার অধিক ব্যয় করে। এ প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে পৌরসভার ৩ হাজার ৩শ’ পরিবারকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। পরবর্তীতে সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। সেই লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে পরিক্ষামূলকভাবে গত ২২শে সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। কিন্তু সাপ্লাই লাইন স্থাপন করা হলেও গ্রাহকের বাড়িতে রিডিং মিটার না দেয়ায় পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির সুফল পায়নি। পরবর্তীতে পৌরসভা ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে গত কয়েকদিনে অন্তত ২ হাজার ৬শ’ সুফলভোগী পরিবারের বাড়িতে মিটার স্থাপন করে। বাকি ৭শ’ বাড়িতে মিটার স্থাপন করেই পুরোদমে পানি সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল পৌরসভার। তবে, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই দেড় শতাধিক মিটার চুরি হওয়ায় পানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন অনেকেই। মিটার চুরির ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পৌরসভার ঝিকড়া মহল্লার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য মিটার স্থাপন করা হলেও তারা এখন পানি পায়নি।
এরই মধ্যে আবার মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। এখন কবে নাগাদ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ শুরু হবে, সেটা তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার দাবি, চোর শনাক্ত, চুরি হয়ে যাওয়া মিটার পুনঃস্থাপন ও দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি সরবরাহ চালু করা হোক। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া মিটার চুরির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত কয়েকদিনে দেড় শতাধিক গ্রাহকের বাড়ি থেকে মিটার চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তারা থানায় অভিযোগও দিয়েছেন। এই চুরির সঙ্গে উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের বাহাদুর মল্লিকের ছেলে বাদল জড়িত বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপ-সহকারী মেহেদী হাসান বলেন, প্রকল্পটি পৌরসভার অধিনেই পরিচালিত হবে। আমরা শুধু ২১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করে দিয়েছি। এখন মিটার সংযোগ শেষ হলেই পানি সরবরাহ শুরু হবে। উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, পৌরসভায় মিটার চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জোরালো চেষ্টা চলছে।
