চট্টগ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার এসআরবি, গ্রেপ্তার ৫

চট্টগ্রামে আসামি ধরতে গিয়ে হামলার শিকার এসআরবি, গ্রেপ্তার ৫

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে একাধিক মামলার আসামি মো. আলমগীরকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা। এ ঘটনায় বাহিনীর চার থেকে পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এসআরবি।
সোমবার এসআরবি-৭-এর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানে হামলার বিষয়টি জানানো হয়। হামলার পর এসআরবি-৭ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দু’টি দেশীয় অস্ত্র। এসআরবি-৭-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪শে অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী গ্রামের ঘাটকুল পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় ২০টির বেশি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ও এজাহারনামীয় পলাতক আসামি হিসেবে আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় এসআরবি’র একটি দল। এ সময় আলমগীরের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি করেছে বাহিনী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসআরবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে আলমগীর চিৎকার করে ৪০ থেকে ৫০ জনকে জড়ো করে। পরে তারা অতর্কিত হামলা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজেদের জীবন ও সরকারি অস্ত্র-গোলাবারুদ রক্ষায় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন এসআরবি সদস্যরা।
ঘটনার দিন তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২৫শে অক্টোবর রাত ১টা ২০ মিনিটে এসআরবি-৭ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে উত্তর কানাইমাদারী এলাকা থেকে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— মেহেদী হাসান সিফাত (২৩), জাহাঙ্গীর আলম (২৮), আজিজুর রহমান সবুজ (২১), মঞ্জুর ইসলাম (৩৯) ও মো. নবাব শরীফ ওরফে নবাব মিয়া (৩৪)।

চন্দনাইশের বরকল ইউনিয়নের কানাইমাদারী নিদাগের পাড়ার বাসিন্দা আলমগীর। সূত্র জানায়, তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতিসহ ২৯টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি মামলায় সাজা পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার বাদী হাসানুর রশিদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৩রা জুন ১০ লাখ টাকার চেক প্রতারণার একটি মামলায় আদালত আলমগীরকে ১০ মাসের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। তার অভিযোগ, সাজা পরোয়ানা জারি হলেও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস খান বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগ দিয়েছেন। ওয়ারেন্টভুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত আসামি থাকলে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এসআরবি’র ওপর হামলার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।