বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে বাঘ এসেছে এবং ধানক্ষেতে বাঘের পায়ের ছাপ ও চলাচলের চিহ্ন ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোকালয়ে বাঘের বিচরণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বন সংলগ্ন পাঁচ গ্রামের মানুষ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছে বন বিভাগ ও স্থানীয়দের সতর্ক করতে চলছে মাইকিং।
এলাকাবাসী জানায়, রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবনের একটি বাঘ বনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের জব্বার ডাক্তারের বাড়ি থেকে ধানক্ষেতে নেমে যায়। পরে রাতে পার্শ্ববর্তী লতিফ মেম্বারের বাড়ির সামনের ধানক্ষেতে আবারো বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান এলাকাবাসী। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের সদস্যরা বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ সঙ্গীয় বনরক্ষীদের নিয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘের উপস্থিতি ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। সোমবার সকালেও বন বিভাগের সদস্যরা স্থানীয় কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ধানক্ষেত ও আশপাশের বাড়িঘরে তল্লাশি চালান। পাশাপাশি মাইকিং করে গ্রামবাসীকে সতর্ক করে। আর এ ঘটনায় সুন্দরবন সংলগ্ন সোনাতলা, বকুলতলা, জলের ঘাট, উত্তর তাফালবাড়ি ও দক্ষিণ তাফালবাড়ীসহ পাঁচ গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, মাত্র তিনদিন আগেও বনসংলগ্ন পানিরঘাট এলাকায় ভোলা নদী পেরিয়ে একটি বাঘ লোকালয় এসেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। অল্প সময়ের ব্যবধানে একই গ্রামে একাধিকবার বাঘের উপস্থিতির ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ বলেন, বাঘের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য তারা মাঠে রয়েছেন। বাঘটি যাতে স্বাভাবিকভাবে বনে ফিরে যেতে পারে, সে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। এ অবস্থায় স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পাশাপাশি বাঘের কাছে না যাওয়া এবং বাঘের উপস্থিতি দেখতে পেলে বন বিভাগকে জানানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
