আকাশ থেকে কেন হারিয়ে যাচ্ছে চার ইঞ্জিনের সেই অদ্ভুত যাত্রীবাহী বিমান?

আকাশ থেকে কেন হারিয়ে যাচ্ছে চার ইঞ্জিনের সেই অদ্ভুত যাত্রীবাহী বিমান?

ফন্ট সাইজ:

গত তিন দশক ধরে আকাশে উড়লেও এয়ারবাস এ৩৪০-৬০০ বিমানটিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হিসেবেই দেখা হয়। চালুর পরপরই এটি প্রতিদ্বন্দ্বী বিমানগুলোর কাছে পিছিয়ে পড়ে। এর চারটি ইঞ্জিন প্রচুর জ্বালানি খরচ করে এবং এর রেকর্ড ভাঙা দৈর্ঘ্যের কারণে রানওয়েতে বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। তবে বিমানটির অদ্ভুত নকশা যাত্রীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। সম্প্রতি জার্মান এয়ারলাইন্স লুফথানসা বিমানটির সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। ওয়াশিংটন ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টগামী একটি ফ্লাইটের মাধ্যমে লুফথানসা এই বিমানটিকে বিদায় জানায়। ১৭ বছর বয়সী বিমানটি যখন টার্মিনালের সামনে আসে, তখন বিমানপ্রেমীরা ভিড় জমান। বার্লিন থেকে আসা ক্রিস গোডেনশওয়েজ বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক, বিমানটির একটি শক্তিশালী রূপ রয়েছে। চার ইঞ্জিনের এই দীর্ঘ পাল্লার বিমানটি বিমানপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হলেও এটি কখনোই বাণিজ্যিক লক্ষ্য পূরণে সফল হয়নি।

২০০২ সালের আগস্টে যখন এটি প্রথম বাজারে আসে, তখন ২৪৭ ফুট দীর্ঘ কাঠামো নিয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রীবাহী বিমানের খেতাব পেয়েছিল। আট বছর পর বোয়িং ৭৪৭-৮ ইন্টারকন্টিনেন্টাল এই রেকর্ড ভেঙে দেয়। বিশাল আকারের কারণে টারমার্কে চলাচলের সময় পাইলটদের জন্য ব্যাকআপ ক্যামেরার প্রয়োজন হতো। বিমানটির আরেকটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ছিল এর নিচের তলার টয়লেট, যা মূলত কার্গোর জন্য সংরক্ষিত স্থানে তৈরি করা হয়েছিল। বোয়িংয়ের টুইন ইঞ্জিনের ৭৭৭-৩০০ এবং দীর্ঘ পাল্লার ৭৭৭-৩০০ইআর বাজারে আসার পর চার ইঞ্জিনের এয়ারবাস এ৩৪০-৬০০ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। কম খরচে চলা টুইন ইঞ্জিনের বিমানগুলো দ্রুত বাজার দখল করে নেয়।