আমু-দীপু মনিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ চলতি সপ্তাহেই

ট্রাইব্যুনালে আইনজীবীদের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

আমু-দীপু মনিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ চলতি সপ্তাহেই

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী। অন্যদিকে জুলাই-আগস্টে গণহত্যার ঘটনায় আমির হোসেন আমু ও ডা. দীপু মনিসহ শীর্ষ ৭ রাজনৈতিক নেতা এবং মিরপুরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

দীর্ঘ এক মাস বিদেশ সফর শেষে ফিরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিং এ এসব কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।

আমিনুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মামলার রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের দুজন আইনজীবী ও সহকর্মী ফেসবুক পোস্টে ট্রাইব্যুনাল নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। সাধারণত ট্রাইব্যুনাল এসব বিষয় আমলে না নেয়ার চেষ্টা করলেও প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের এমন আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের তলব করা হয়। আজ শুনানিতে তাদের আইনজীবী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী ট্রাইব্যুনালকে জানান, বিতর্কিত পোস্টটি ইতিমধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির জন্য ভুল স্বীকার করে মৌখিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য সময় আবেদন করায় ট্রাইব্যুনাল আগামী ২৫শে জানুয়ারি পর্যন্ত আদালত অবমাননার কার্যক্রম মুলতবি করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীদের কাছ থেকে আদালতের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। তারা পেশায় নতুন বা অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে এমন ভুল করতে পারেন; তবে দেরিতে হলেও ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি আইনের ইতিবাচক চর্চা। আগামী ২৫ জানুয়ারি তাদের লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
এদিকে কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ সাত নেতার মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানানো হয়, তদন্ত সংস্থা ইতিমধ্যে তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছে। প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ প্রস্তুত করেছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে তা দাখিল করা হবে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়, অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বের মতো তাদের বিরুদ্ধেও 'সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি' (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়), কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত, নীতিনির্ধারণী বৈঠক এবং আন্দোলন দমনে হত্যাকাণ্ডের সামগ্রিক পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত এই সাতজন নেতা হলেন—আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, ড. আবদুর রাজ্জাক, দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

এছাড়া মিরপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও হাতে এসেছে এবং ফরমাল চার্জ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই মামলাটিও চলতি সপ্তাহেই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। ওই মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহসহ অন্যান্যরা আসামি হিসেবে রয়েছেন।

চিপ প্রসিকিউটর আরও জানায়, ট্রাইব্যুনালে আরও প্রায় তিনটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে এবং আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেগুলোরও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।