যুক্তরাষ্ট্র রোববারই (২৫ অক্টোবর) ইরানে ফের হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার তেহরানের বিরুদ্ধে আরেকটি ছোট্ট ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালানোর হুমকি দেয়ার একদিন পর শনিবার এ কথা বলেছেন তিনি।
তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে একটি ‘চমৎকার, বড় ও সুন্দর’ চুক্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প।
শনিবার ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প।
এদিন তাকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাবে কিনা। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব?’
সে সময় সাংবাদিক আবারও প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমাদের তো জিজ্ঞাসা করতেই হবে।’
এমন প্রশ্নকে ‘বোকামিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। তবে ইরানে হামলার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হয়তো আগামীকালই (রোববার) হামলা চালানোর সম্ভাবনা আছে। আবার চমৎকার, বড় ও সুন্দর একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তি মেনে চলবে?’
ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে কারণেই দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে এদিন আবারও দাবি করেন ট্রাম্প।
‘আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি’
গত শুক্রবারই ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারি।’ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অভিযানের নাম ‘এপিক ফিউরি’।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না।
তবে শুক্রবার তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও বলেন, চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা হতে পারে।
একটি পডকাস্টে ব্যারাক বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে কি হামলা হতে পারে? অবশ্যই পারে।’
এ ছাড়া বার্তা সংস্থা এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষমতা মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং আরেকটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তোলা হচ্ছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের বোমা হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মজুত করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, রণতরিতে দূর থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের উপযোগী বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা হচ্ছে।
রণতরিতে বিরল এক সফরের সময় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক শেলবি হলিডে বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদের বাক্স স্তূপ করে রাখতে দেখেছেন। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী অস্ত্র লোড করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করছিল।
