মালয়েশিয়ায় অনলাইন গেমিংয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে চার বাংলাদেশিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। দেশটির সুংগাই পেতানি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত হোটেল থেকে এই প্রতারণা চক্র পরিচালিত হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। চক্রটি গত জুন থেকে সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার বার্তা সংস্থা বারনামার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়ালা মুদা জেলা পুলিশের প্রধান এসিপি হানিয়ান রামলান জানান, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুয়ালা মুদা জেলা পুলিশ সদর দপ্তরের বাণিজ্যিক অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে চার বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৫৩ বছরের মধ্যে।
হানিয়ান বলেন, ‘চক্রটি বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের লোকজনকে লক্ষ্য করে প্রতারণা চালাত। এ কাজে জড়িত থাকার জন্য গ্রেপ্তার বাংলাদেশিরা মাসে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত বেতন পেতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে ৪০ ও ৫০ বছর বয়সী দুই মালয়েশীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের একজন ওই স্থাপনার মালিক এবং অন্যজন সন্দেহভাজনদের কাছে জায়গাটি ভাড়া দেয়ার ব্যবস্থা করতেন।
পুলিশের ধারণা, চক্রটি অনলাইন গেমের ক্রেডিট রিচার্জের কাজ পরিচালনা করত। গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ওয়েবসাইট ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা হতো। হানিয়ান বলেন, গ্রাহকেরা গেমে জেতা অর্থ তুলে নেয়ার আবেদন করলে ইচ্ছাকৃতভাবে তা আটকে রাখা হতো। ওয়েবসাইটে আবেদনের অবস্থা ‘উইথড্রয়াল পেন্ডিং’ বা টাকা উত্তোলনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে দেখানো হতো। ফলে গ্রাহকেরা তাদের পাওনা অর্থ পেতেন না।
প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, প্রতিদিন প্রায় ১৭টি গ্রাহক অ্যাকাউন্টে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিত। এতে দৈনিক আনুমানিক ২ হাজার মালয়েশীয় রিঙ্গিত ক্ষতি হতো।
অভিযানে পুলিশ ১৭টি মোবাইল ফোন, চারটি কম্পিউটার প্রসেসিং ইউনিট (সিপিইউ), আটটি মনিটর, দুটি মডেম, একটি ল্যাপটপ এবং নগদ ২ হাজার ৪৪২ মালয়েশীয় রিঙ্গিত জব্দ করেছে। এ ঘটনায় মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা এবং ১২০বি ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তদন্ত চলছে।
