মৌলভীবাজারে মজুরি-বোনাসের দাবিতে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের বিক্ষোভ মিছিল

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পূর্বে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত নির্বিশেষে সকল শ্রমিককে মার্চ মাসের মজুরি ও মাসিক মজুরির সমপরিমাণ উৎসব বোনাস প্রদানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ। মঙ্গলবার রাতে তারাবির নামাজের পর শহরের চৌমুহনাস্থ কার্যালয় হতে মিছিলটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের পূর্বে দলীয় কার্যালয়ে জেলা ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি মো. সোহেল মিয়ার সভাপতিত্বে এক কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মিসভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সাবেক জেলা সভাপতি নিরঞ্জন দাশ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন মিয়া, জেলা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. জসিমউদ্দিন, জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. শাহীন আহমদ, হোটেল শ্রমিকনেতা খোকন মিয়া, আলমগীর হোসেন, রিকশা শ্রমিকনেতা আবু তাহের, রাফিক মিয়া প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সরকারের ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ই মার্চের মধ্যে সকল শ্রমিকদের ঈদ বোনাস প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়। একইসঙ্গে রপ্তানিমুখী শিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বোনাস পরিশোধের জন্য স্বল্প সুদে বিশেষ সুবিধায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ছাড় করা হয়েছে।

কিন্তু তারপরও অনেক শ্রমিকই সময়মতো মজুরি ও বোনাস পান না। প্রাতিষ্ঠানিক শিল্প সেক্টরে তাও কিছু কিছু শ্রমিক বোনাস পেয়ে থাকলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরের বিশেষত হোটেল-রেস্তরাঁ, মুদ্রণ, লোকাল গার্মেন্টস, দর্জি, স’মিল, পাদুকা, দোকান কর্মচারী, নৌযানসহ পরিবহন শ্রমিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকরা ঈদ বোনাস পান না বললেই চলে। অথচ বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ ও শ্রমবিধিমালা-২০১৫ অনুযায়ী সকল শ্রমিককে উৎসব বোনাস প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ঈদ আসলেও শ্রমিকদের মজুরি বোনাসের জন্য রাস্তায় নামতে হয়। তখন আবার মালিকদের পাহারাদার রাষ্ট্রীয় বাহিনী অনেক সময় শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয়।

অথচ শ্রমিকদের আইনগত অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শ্রমদপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে শ্রমিকরা বারবার আবেদন নিবেদন করেও কোনো প্রতিকার পান না। এমন অবস্থায় শ্রমিকদের আন্দোলন সংগ্রামের বিকল্প কোনো পথ নেই। বক্তারা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে জাতীয় ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ১০ দফা দাবিতে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন