প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিরোধীদল দেখলাম বলছে যে, এই বাজেট তারা মানে না। যেই বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদল মানে না। তাদের লক্ষ্য একটাই, সেটা হচ্ছে—দেশের মধ্যে একটি অস্থিতীশলতা অশান্তি তৈরি করা।’ শনিবার সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন বাজেট ঘোষিত হয়েছে দুইদিন আগে। সেখানে আমরা বলেছি, আমরা এই দেশের মানুষের চিকিৎসাব্যবস্থা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। মানুষ যাতে চিকিৎসা সুবিধা পায়। মানুষ যাতে স্বল্পমূল্যে ওষুধ পেতে পারে। সেজন্য জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি এবং অনেকগুলো চিকিৎসা ব্যবস্থার অনেকগুলোর ওপরে আগের সরকারগুলো যে ট্যাক্স রেখে গিয়েছিল, ভ্যাট দিয়ে গিয়েছিল, আমরা সেই ট্যাক্সগুলো উঠিয়ে নিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সকালে যখন আমি প্লেনে করে কক্সবাজার আসছিলাম, তখন প্লেনে বসে পত্রিকাগুলো দেখছিলাম যে কী কী সংবাদ করেছে। অনেকগুলো পত্রিকাতে আমি দেখলাম, প্রতিবার বাজেটের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য পরের দিনই বৃদ্ধি পায়। তবে এইবার বাজেট দেয়ার পরে এখন পর্যন্ত কোনো জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি।’
জিনিসপত্রের দাম না বাড়ার কারণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘চাল, ডাল, তেল ও নুনসহ প্রয়োজনীয় যে জিনিসগুলো আছে, তার ওপরে যেসব ট্যাক্স ছিল, বর্তমান সরকার এই দুইদিন আগের বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নিয়েছে। যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম না বাড়ে।’
বাড়ানো হয়েছে মদ ও সিগারেটের দাম, আর এটা বিরোধী দলের পছন্দ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে বিরোধীদলের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই পাতলী খাল খনন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। ১২০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ বাড়বে এবং সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন।’
তিনি বলেন, ‘‘কৃষকদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।’’
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যে বাজেটে জনগণের উপকার হয়, মদ ও সিগারেটের ওপর কর বাড়ানো হয়, সেই বাজেট নিয়েও বিরোধী দল সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। যারা অতীতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়নের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
এর আগে এদিন সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
