ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই গোলচত্বর হতে পারে ভোগান্তি

ঈদে বাড়ি ফেরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই গোলচত্বর হতে পারে ভোগান্তি

ফন্ট সাইজ:

ঈদে বাড়ি ফেরায় ঢাকা-সিলেট পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই গোলচত্বরে যানজট ভোগান্তি হতে পারে। যদিও এই সময়ে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে চত্বরকেন্দ্রিক কাজ চলছে। তবে জ্বালানি তেলের সংকটে পড়লে তা ব্যাহত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য আশুগঞ্জ থেকে সরাইল পর্যন্ত ভয়াবহ যানজট নৈমিত্তিক ছিল একবছর আগেও। বছর দু’য়েক ধরা চলতে থাকা এই পরিস্থিতি দেখতে এসে গত বছরের অক্টোবরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান নিজেই ভয়াবহ যানজটে আটকে যান। গাড়ি ছেড়ে মোটরসাইকেলে করে আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড আসতে হয় তাকে। এরপর সড়ক নির্মাণ কাজে অগ্রগতি হলে ভোগান্তি কমে আসে। তবে গোলচত্বর দু’টিতে এখন প্রায় সময়ই যানজট হচ্ছে। এজন্য ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাকেও দায়ী করা হচ্ছে। বিশ্বরোড মোড়ে সড়কের ওপর যাত্রাবাহী বাস ও সিএনজি অটোরিকশার পার্কিং যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে।
গত সোমবার ঈদকে সামনে রেখে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা হয়। জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে ওই সভায় বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, ঢাকা-সিলেট পথের সরাইল বিশ্বরোড মোড় থেকে কুট্টাপাড়ার মোড় পর্যন্ত এখনই যানজট হচ্ছে। বিশ্বরোড মোড় এবং কুমিল্লা-সিলেট পথের আখাউড়ার তন্তর বাসস্ট্যান্ডে জরুরি মেরামত করা না হলে এসব স্থানে ঈদে প্রচুর যানজট হবে। এছাড়া যানজট নিরসনে সড়কের উপর অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করার কথাও বলেন তারা। সভায় ফোরলেন প্রকল্পের একজন কর্মকর্তা জানান, ঈদের আগে যে কাজগুলো সম্পন্ন করার টার্গেট রয়েছে জ্বালানি তেলের সংকট হলে তা ব্যাহত হতে পারে। প্রতিদিন নিয়মিত কাজের জন্য ১২/১৫ হাজার ডিজেল দরকার হয় তাদের। বিটুমিনাস প্ল্যান্ট চললে এরজন্য প্রয়োজন হয় আরও ১২/১৩ হাজার লিটার ডিজেল।
আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত মোট ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর ৩ বছর পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয়লেন করার কাজ শুরু হলে চারলেন প্রকল্পের আওতাধীন আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশ ছয়লেনের আদলে করার সিদ্ধান্ত হয়। পরিবর্তন আনা হয় রাস্তার ডিজাইনে। বাড়তি এই কাজের অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন না হওয়ায় এবং ২০২৫ সালের জুনে পুরো প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে দেখা দেয় জটিলতা। ৫ই আগস্টে সরকারের পতনের পর প্রকল্পের বাস্তবায়ন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ১০ই আগস্ট ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চলে যান নিজের দেশে। কয়েক মাস পর তারা ফিরলেও কাজ চলতে থাকে ঢিমেতালে। এই সময়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড এবং বিশ্বরোড থেকে উজানিসার পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক যানজট ও দুর্ঘটনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কয়েক কিলোমিটার সড়ক পেরুতে লেগে গেছে ১২-১৪ ঘণ্টাও। উপদেষ্টার সফরের পর স্থায়ী ও অস্থায়ী মেরামত কাজ করে সড়কে দুর্ভোগ কমিয়ে আনা হয়। কিন্তু গোলচত্বর দু’টিতে আবার যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশের মধ্যে ৭ কিলোমিটার অংশ ফোরলেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অপর অংশে বিশ্বরোড থেকে আখাউড়ার তন্তর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটারে প্রায় সবটুকুতে ২ লেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঈদে ভোগান্তি এড়াতে গোলচত্বর দু’টিতে কাজ করা হচ্ছে। আশুগঞ্জ-আখাউড়া ফোরলেন সড়ক নির্মাণ কাজ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শামীম আহমেদ জানান-আশুগঞ্জ গোলচত্বরে একটি কালভার্টের কাজ শেষ হয়েছে। আরেকটি কালভার্টের কাজ চলছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেখানে ঢাকামুখী একটি লেন অস্থায়ীভাবে চওড়া করে দেয়া হবে। এখানে গোলচত্বরে রিজিট পেভমেন্টের কাজ এক- দেড়শো মিটার হয়েছে। ওই জায়গাও যানচলাচলের জন্য ছেড়ে দেয়া হবে। সরাইলে গোলচত্বর বাদে রিজিট পেভমেন্টের উপর দিয়ে গাড়ি চলছে এখন। এর বাইরেও নিচে সিলেটগামী একটি অস্থায়ী লেন করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে পুরো ৪ লেনে গাড়ি চলতে পারে। আশুগঞ্জ ও সরাইল গোলচত্বরে প্রায় ৬০০ মিটার রিজিট পেভমেন্টের কাজের মধ্যে ৪০০ মিটার সম্পন্ন হয়েছে। এসব স্থান দিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যে ৭ কিলোমিটার অংশের ৪ লেন কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রয়োজন হলে ঈদে যানবাহন চলাচলের জন্য তাও ছেড়ে দেয়া হবে।
ওদিকে সরাইল থেকে তন্তর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার কাজের মধ্যে সাড়ে ২৫ কিলোমিটার একপাশে দু’লেনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শহরের বিরাশার, পৈরতলা ফ্লাইওভারের নিচে, সুলতানপুর, ধরখার ও তন্তর বাজার অংশে সবমিলিয়ে দেড় কিলোমিটার কাজ বাকি রয়েছে। এরমধ্যে ঈদের আগে ১ কিলোমিটারের কাজ হয়ে যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। ভারতীয় ঋণ সহায়তা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকায় ৩টি প্যাকেজে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে। এরপর গত বছরের মার্চে ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সভায় প্রকল্পের ৩টি প্যাকেজের মধ্যে ৩ নম্বর প্যাকেজ অর্থাৎ তন্তর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩০০ কিলোমিটার চারলেন সড়কের কাজ বাদ দেয়া হয়। বর্তমানে ৫ হাজার ১৩৪ কোটি টাকায় প্রকল্পের দু‘টি প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন