টাইগারদের সুখস্মৃতি আর প্রতিশোধের মঞ্চ

টাইগারদের সুখস্মৃতি আর প্রতিশোধের মঞ্চ

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘ সাত বছর পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এ মিশনের শুরুতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু বিকাল সাড়ে ৫টায়। খেলা দেখা যাবে টি স্পোর্টসে। চলতি বছরের জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ হারা টাইগারদের জন্য ম্যাচটি একপ্রকার প্রতিশোধের মঞ্চ। ২০১৯ সালে নিজেদের খেলা সবশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি ফেরানোর মিশন।
বছরের শুরুতে ঘরের মাঠে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডে সিরিজ হারানো বাংলাদেশ ধাক্কা খায় জিম্বাবুয়ে সফরে। ওয়ানডে সিরিজের পাশাপাশি একমাত্র টেস্টেও হার দেখে টাইগাররা। চোটের কারণে ওই সিরিজে খেলেননি লিটন কুমার দাস। ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে যান ফর্মে থাকা পেসার নাহিদ রানাও। সেই সিরিজে নেতৃত্ব দেয়া মেহেদি হাসান মিরাজের জায়গায় ওয়ানডে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড উঠছে লিটনের হাতে।

চলতি সপ্তাহে টেস্টে সেঞ্চুরি, হাফ-সেঞ্চুরি এবং উইকেটকিপার হিসেবে ৯টি ডিসমিসালের বিশ্বরেকর্ড গড়ে দারুণ ফর্মে আছেন ডানহাতি এ ব্যাটার। চলতি বছর ওয়ানডেতে ৯ ইনিংসে ৩০০ রান করে ছন্দে ফেরার বার্তাও দিয়ে রেখেছেন লিটন। বিপিএলে দারুণ পারফর্ম করে ও টি-টোয়েন্টি অভিষেকে নজর কাড়া ওয়ানডে স্কোয়াডে ডাক পাওয়া মিস্ট্রি স্পিনার আলিস আল ইসলামকে অভিষেক করাতে পারে টিম ম্যানেজম্যান্ট। আলোচনায় রযেছেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন কাটার মাস্টার। ব্যাটিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটির পর মিডল অর্ডারে থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় ও অধিনায়ক লিটন। লোয়ার-অর্ডার সামলাবেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও মেহেদি হাসান মিরাজ। আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিবারাত্রির ম্যাচে উইকেট সাধারণত কিছুটা ধীরগতির হয়ে থাকে।

এখানে শেষ ৫টি ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাটিং করা দলের গড় রান ২৬৬ এবং এর মধ্যে ৪টি ম্যাচই জিতেছে প্রথমে ব্যাট করা দল। ফলে টস জয়ী অধিনায়ক আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে আবুধাবির প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতা ক্রিকেটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। ২০১৯ সালে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ট্রফি জিততে চাই। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আমাদের জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে (রাউন্ড-রবিন পর্বের) দুটি ম্যাচেই জয় পেতে হবে।’ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের সামপ্রতিক সময়টাও খুব একটা ভালো যায়নি। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারে তারা। তবে শেষ ওয়ানডেতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। রুদ্‌শ্বাস লড়ায়ে হার ১ উইকেটে। ইনজুরির কারণে নিয়মিত পেসার রিচার্ড এনগারাভাকে পাচ্ছে না জিম্বাবুয়ে।

তবে সিকান্দার রাজার নেতৃত্বে দলে অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলরের পাশাপাশি ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও নিউম্যান নিয়ামহুরির মতো একঝাঁক তরুণ স্কোয়াডে রয়েছেন। লাইমলাইটে থাকবেন পেসার ব্র্যাড ইভান্স। চলতি বছর ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ইভান্স (৪৪ উইকেট) এখন জোফরা আর্চারের (৫৩ উইকেট) চেয়ে ৯ উইকেট দূরে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে ৪৭ রানে ৪ উইকেট নেয়া ইভান্স বাংলাদেশের বিপক্ষেও গত জুলাইয়ে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। নতুন বলে ব্লেসিং মুজারাবানির সঙ্গে ইভান্সের জুটি বাংলাদেশের টপ-অর্ডারের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। দীর্ঘ ২০ বছর পর কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। এর আগে ২০০৬ সালে জয়পুরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে লড়েছিল দুই দল। এছাড়া আবুধাবির এই মাঠে এটি জিম্বাবুয়ের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ। আর এখানে বাংলাদেশ ৬ ম্যাচের ২টিতে জিতেছে। শেষ পাঁচ ওয়ানডেতে দুই জয় ও তিন হার বাংলাদেশের। অন্যদিকে চার হার ও এক জয় জিম্বাবুয়ের।