জয়রথ সচল কিংসের, তিনে তিন মোহামেডানের

জয়রথ সচল কিংসের, তিনে তিন মোহামেডানের

ফন্ট সাইজ:

প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ মিস। তবে ছয়বারের লীগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস চেনা রূপে ফেরে বিরতির পর। রবসন রবিনিয়োর দৃষ্টিনন্দন গোল এবং বদলি নামা এমেকা ওজবুগের পেনাল্টিতে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে বায়েজিদ আলম জোবায়ের নিপুর দল। বাংলাদেশ ফুটবল লীগের চতুর্থ রাউন্ডে গতকাল গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে মিরপুরের ক্লাবটিকে ৩-০ গোলে হারায় কিংস। গোল করেন রবসন রবিনিও, এমেকা ওজবুগ এবং কাজেম শাহ কিরমানি। দিনের আরেক ম্যাচে পিডব্লিউডিকর ২-০ গোলে হারানো মোহামেডান তিন ম্যাচে শতভাগ জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে টেবিলের দুইয়ে। মোহামেডানের সোলেমান দিয়াবাতে ও মিনহাজ রাকিব গোল করেন। সাদাকালোদের সমান পয়েন্ট পেয়েও শীর্ষে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি।

শুক্রবার মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে গোলের জন্য শুরু থেকেই আক্রমণ চালায় মোহামেডান। তবে সোহেল রানা জুনিয়র ও মোজাফফর মোজাফফরভের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধে পিডব্লিউডিও গোলের সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু এমবিদা ইয়োহানের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। বিরতির পর বদলি হিসেবে নামা ইমানুয়েল সানডের ক্রস থেকে হেডে গোল করে মোহামেডানকে এগিয়ে দেন দিয়াবাতে। ৭৮তম মিনিটে দিয়াবাতের কাটব্যাক থেকে হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিনহাজ রাকিব। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মোহামেডান। এদিকে লীগে প্রথম ম্যাচে আরামবাগের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ে শুরু করে কিংস। পরের ম্যাচে ওয়ান্ডারার্সকে ৭-০ গোলে হারিয়ে জয়ে ফেরে রেডরা। এরপর সিটি ক্লাবকে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যহত রাখলো ফেডারেশন কাপে ৫বার, স্বাধীনতা কাপের তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।

শেষ দুই ম্যাচে ১০ গোলের বিপরীতে একটি গোলও হজম করেনি কিংস। গতকাল ম্যাচের ৪৯ মিনিটে কাইকে জেসুসের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢোকেন রবসন রবিনহো। এরপর দারুণ প্লেসিং শটে বাঁদিকের কোনা দিয়ে জাল কাঁপান তিনি (১-০)। ৬৩তম মিনিটে এমেকা ওজবুগকে মাঠে নামায় কিংস। সিটি আনে দুই পরিবর্তন, আফরোজ এবং সায়েখ দোস্তকে মাঠে নামান কোচ সেন্টু। ৬৯ মিনিটেই পাকিস্তানি ফরোয়ার্ড দলকে সমতায় ফেরাতে পারতেন। মধ্য মাঠ থেকে রফিকের উড়িয়ে মারা বলে বক্সে লাফিয়ে হেড নেন শায়েখ। শ্রবণের মাথার ওপর দিয়ে মনে হচ্ছিল জাল খুঁজে নেবে বল, শেষ মুহূর্তে দারুণ ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে ফিস্ট করে দেন কিংস গোলকিপার। ৭১ মিনিটে এমেকাকে পেছন থেকে ট্যাকল করেন সিটির ডিফেন্ডার ফরহাদ মনা।

সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি সায়মন হাসান। এরপর স্পটকিকে গোলকিপার ইসাককে উল্টো দিকে পাঠিয়ে বাঁদিকের কোনা দিয়ে কিংসের লিড ২-০ করেন এমেকা। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে তাদের ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন বসুন্ধরা কিংস মিডফিল্ডার কাজেম শাহ। শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দেশের অন্যতম সফল ক্লাবটি। এই জয়ে সিটি ক্লাবকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে বসুন্ধরা কিংস। তাদের সমান ৭ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে সিটি। কিংস অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছে।