যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে অর্থের বিনিময়ে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন বিএনপি নেতা ও সার ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার। এ নিয়োগের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরের দিকে যশোর প্রেস ক্লাবে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনিসহ স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মী ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা। লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি খলশী বাজারের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী এবং ১৯৯৮ সাল থেকে সার ও কীটনাশকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। সরকারি বিজ্ঞপ্তির পর সার ডিলার নিয়োগের জন্য তিনি যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। তার আবেদনের নম্বর বাঘারপাড়া-৫৯। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে ৬ নম্বর খলশী ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানান।
আব্দুস সাত্তারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সার ব্যবসার লাইসেন্স পাননি। বর্তমানে ডিলার নিয়োগে তার পরিবর্তে আবদুর রশিদকে নির্বাচিত করা হয়েছে, যিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালক মিজানুর রহমান মিজানের ভাই। তার অভিযোগ, আব্দুর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে জিএম ট্রেডার্সের নামে সার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। শুধু তাই নয়- তার মতো আরও অনেক বিতর্কিত লোকজন এই সারের ডিলার লাইসেন্স পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, এ নিয়োগের কারণে তার জীবিকা সংকটে পড়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়েও প্রতিকার পাননি। তাই নিয়োগপ্রক্রিয়া তদন্ত করে যোগ্যতার ভিত্তিতে ডিলার নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ড বিএনপি’র সেক্রেটারি ইমান আলী ফারাজি, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মো. মিলন হোসেন ও বিএনপি’র সদস্য নূর জালাল আজাদ উপস্থিত ছিলেন। আব্দুস সাত্তার এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
