শাল্লায় ডুবন্ত সড়ক যেন মরণফাঁদ

শাল্লায় ডুবন্ত সড়ক যেন মরণফাঁদ

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন ডুবন্ত সড়কের বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। বর্ষার পানি নামতে শুরু করায় একের পর এক দৃশ্যমান হচ্ছে সড়কের ভাঙাচোরা অংশ। কোথাও সড়কের দুই পাশ দেবে গেছে, কোথাও ভেঙে পড়েছে পাকা অংশ। আবার কোথাও সড়ক ও কালভার্টের সংযোগস্থলে সৃষ্টি হয়েছে বিপজ্জনক গর্ত। ফলে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়কগুলোর বিভিন্ন অংশ যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় চার মাস অধিকাংশ ডুবন্ত সড়ক পানির নিচে থাকে। বাংলা আশ্বিন মাসের শেষ ও কার্তিক মাসের শুরুতে পানি কমতে থাকলে সড়কগুলো আবার দৃশ্যমান হয়। কিন্তু এবার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সড়কের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠছে। বিশেষ করে শাল্লা সদর ঘুঙ্গিয়ারগাঁও থেকে দক্ষিণ দিকে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়ন ও শাল্লা ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্নস্থানে ভাঙন ও দেবে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এ সড়কের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে সড়কের কান্দিগাঁও এলাকায় অবস্থিত পুরনো সেতুটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর সড়কগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দৃশ্যমান হলেও স্থায়ী সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাওরপাড়ের মানুষকে। এলাকাবাসীর দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে কার্তিক মাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্টের সংযোগস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি প্রতি বছর একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজন টেকসই পরিকল্পনা ও স্থায়ী ব্যবস্থা।

শাল্লা উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সড়কগুলো থেকে সবেমাত্র পানি নেমে শুকাতে শুরু করেছে। পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সরজমিন পরিদর্শন করে সংস্কারের সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিষয়ে আমি খবর পেয়েছি। বিশেষ করে কান্দিগাঁও এলাকার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। নতুন সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণের ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয় মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে। হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অন্যথায় শুষ্ক মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা সচল হওয়ার পরিবর্তে এসব ভাঙাচোরা সড়কই হয়ে উঠতে পারে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।