দুর্গাপূজা উপলক্ষে চা-শ্রমিকদের পূর্ণ উৎসব প্রদান হয়নি বলে অভিযোগ জানিয়েছে চা-শ্রমিক সংঘের নেতারা। সোমবার গণমাধ্যমে প্রেরিত চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত-সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ণ হাজরা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আগামী ১৬ই অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। এ বছর এখনো অনেক বাগানের চা-শ্রমিকরা উৎসব বোনাস পাননি। আবার যেসব বাগানে উৎসব বোনাস প্রদান করা হয়েছে সে সকল বাগানেও পূর্ণ উৎসব বোনাস প্রদান করা হয়নি। কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া, চাতলাপুর, তিলকপুরসহ বিভিন্ন বাগানে উৎসব বোনাসের পরিবর্তে কর্মে উপস্থিতির ওপর হাজিরা/উৎসাহ বোনাস প্রদান করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ শ্রমআইন অনুযায়ী যেকোনো শিল্পে কর্মরত সকল শ্রমিকের জন্য উৎসব বোনাস প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেখানে কাজে উপস্থিতির কোনো শর্ত নেই। এমন কি ২০২৩ সালের ১০ই আগস্ট চা-শিল্প সেক্টরে নিম্নতম মজুরির গেজেট অনুযায়ী উৎসব বোনাস প্রদান করার আইন আছে, সেখানে কাজে উপস্থিতির ওপর বোনাস প্রদানের কোনো শর্ত নেই।
চা-বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমআইন ও শ্রমবিধি এবং সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের বঞ্চিত করছেন। তাছাড়া আইন ও চুক্তি অনুযায়ী ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের সমান মজুরি প্রদান করার বিষয় থাকলেও অধিকাংশ বাগানে ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের কম মজুরি প্রদান করা হয়। দুর্গাপূজার আর মাত্র ৪ দিন বাকি অথচ মালনীছড়া ও রাজনগর চা-বাগানসহ অনেক বাগানে এখনো বোনাস প্রদান করা হয়নি, এমন কি অনেক বাগানে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরিও পরিশোধ করা হয়নি। চা-শ্রমিক সংঘের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে চা-শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরি নির্ধারণ জরুরি হলেও গত ৭ই আগস্ট’ ২৫ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বাংলাদেশীয় চা-সংসদের সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধি ছাড়াই ২০২৩-২০২৪ মেয়াদের মজুরি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যা চা-শিল্পের ইতিহাসে নজিরবিহীন। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে একজন শ্রমিকের দৈনিক ন্যূনতম ১ হাজার টাকা দরকার।
