চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গায় দীর্ঘ ৩০-৪০ বছর ধরে বসবাসরত প্রায় ৩০০ ভূমিহীন পরিবার উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। উচ্ছেদের আর মাত্র আটদিন বাকি থাকলেও বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না হওয়ায় চরম উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারগুলোর। এ অবস্থায় বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা ছাড়া তাদের উচ্ছেদ না করার আশ্বাস দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী।
গত শনিবার বিকাল ৫টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কুমিরা রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে ওঠা বস্তি এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি বস্তিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উচ্ছেদের উদ্যোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। বস্তির বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী মজিদ উদ্দিনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা নদীভাঙনের শিকার ভূমিহীন মানুষ। অন্য কোথাও বসবাসের জায়গা বা নিজস্ব সম্পত্তি না থাকায় দীর্ঘ তিন চার দশক ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। তাদের দাবি, বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।
বস্তিবাসীদের অভিযোগ, কুমিরা রেলস্টেশনের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কেওয়াইসিআর কয়েন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছে রেলওয়ের ওই জায়গা নামমাত্র মূল্যে লিজ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কেডিএস গ্রুপের মালিক খলিলুর রহমানের বলে তারা উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জায়গাটি লিজ দেয়ার পর থেকেই তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।
বস্তিবাসীদের বক্তব্য শুনে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে তাদের উচ্ছেদ করতে দেয়া হবে না। অন্যায়ভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হলে এলাকাবাসীও তাদের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, উচ্ছেদের আর মাত্র আটদিন বাকি রয়েছে। বাসিন্দাদের চিঠি দিয়ে জানানো হবে বলেও জানান তিনি। তবে তাদের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি পরে জানাবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ তাহের, হযরত পীর পন্থিশাহ (রহ.) কমপ্লেক্সের পরিচালক মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন খালেদ, কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
