ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. আল আমিন নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গৌরীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক বেগ ফারুক আহমেদ (সনদ নং-৬২৮৬) গত ২৫শে আগস্ট ৩৩৮২ নম্বর সাফ কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করেন। অভিযোগকারীর দাবি, রেজিস্ট্রিকৃত দলিলটির ভায়া দলিল বানোয়াট বা ভুয়া হওয়ায় ওই দলিলের মাধ্যমে জমা-খারিজ খতিয়ান খুলে পরবর্তীতে দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। জানা যায়, উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের মামুদ নগর মৌজার বিআরএস রেকর্ডভুক্ত খতিয়ান নং-৩, জেএল নং-৯৬, দাগ নং-১৬৬-এর জমির মূল মালিক ছিলেন বোকাইনগর গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে আইয়ুব আলী।
পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালের ২০শে নভেম্বর হেবা দলিল নং-৮০৭৬-এর মাধ্যমে আইয়ুব আলী তার ছেলে সিরাজুল হকের নামে জমিটি হেবা করেন। সিরাজুল হক মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশসূত্রে তার স্ত্রী মোছা. দিলসানারা বেগম ও একমাত্র ছেলে মো. ফাতিন ইস্তিয়াক ওই জমির মালিকানা লাভ করেন। পরবর্তীতে ৮০৭৬ ভুয়া বা জাল দলিল দিয়ে গত ২৫শে মে মিউটেশন মামলা নং-৬২৫৯/২০২৪-২৫-এর মাধ্যমে গৌরীপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা জমিটি মোছা. দিলসানারা বেগম ও তার ছেলে মো. ফাতিন ইস্তিয়াকের নামে নামজারি ও খারিজ করে দেন। এ সংক্রান্ত মিউটেশন খতিয়ান নং-২৫-১৯৮।
এরপর গত ২৫শে আগস্ট মো. ফাতিন ইস্তিয়াক তার হিস্যার জমি তার মা মোছা. দিলসানারা বেগমের নামে হস্তান্তর করেন। এ সংক্রান্ত দলিলের নম্বর ৩৩৮২। এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাচিবেশ শহীদ মুন্সী বলেন, রেকর্ডীয় মালিক আইয়ুব আলী তার ছেলে সিরাজুল হককে ১৯৮৪ সালের ২০শে নভেম্বর ৮০৭৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে বিল এওয়াজ হেবা করেছেন বলে দেখানো হয়েছে। কিন্তু দলিলটি যাচাই করে দাতা, গ্রহীতা, দাগ ও খতিয়ানের তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি। এ কারণে আমিসহ ২০-৩০ জন দলিল লেখক ওই কাগজে দলিল করতে রাজি হইনি। কারণ এটি আইনি জটিলতায় পড়বে।
গৌরীপুরের সাব-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে ২২০ নম্বর স্মারকে চিঠি পাঠিয়েছি। ৩৩৮২ নম্বর দলিলটি আমার জাল নয়। সংশ্লিষ্ট নামজারি ও খাজনা-খারিজের কাগজপত্র দেখে দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর জানতে পেরেছি, ৮০৭৬ নম্বর দলিলের তথ্য খতিয়ানের সঙ্গে মিলছে না এবং ভলিউমেও এর মিল পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী মো. আল আমিন বলেন, আমি একজন দলিল লেখকের সহকারী। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য আমার কাছে আনা হয়েছিল। কাগজপত্র দেখে দলিলটি সন্দেহজনক ও জাল মনে হওয়ায় আমি তা ফিরিয়ে দিই। পরে দলিলটি রেজিস্ট্রি হওয়ার খবর পেয়ে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। মৃত আইয়ুব আলীর তৃতীয় পুত্র এমদাদুল হক বলেন, আমরা তিন ভাই ও ৫ বোন। আমার বাবা ৩০ শতক জমি এরকম কোনো হেবা করে দিয়ে যাননি। আমার মেজো ভাইয়ের বউ জাল দলিল তৈরি করেছে। আমি বেগ ফারুক ভাইয়ের কাছে গিয়েছিলাম। এই সংক্রান্ত দলিল যদি করতে আসে আমাদের জানাবেন। কিন্তু এরপরও তিনি দলিল করে দিয়েছেন আমাদের না জানিয়ে। দলিল লেখক বেগ ফারুক আহম্মেদ বলেন, আমি কোনো জাল দলিল করিনি, যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে এর দায় আমার নয়, সাব-রেজিস্ট্রার সহকারী কমিশনারের (ভূমি)।
