ফতুল্লার আলোচিত ‘কোবরা গ্রুপ’ বা ‘সোহেল গ্রুপের’ প্রধান হিসেবে পরিচিত সোহেল খন্দকারকে বিদেশি রিভলবার, গুলি ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১। বাহিনীটির দাবি, সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ ১৫টির বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
গত রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার মিশনপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ৭০ পুরিয়া হেরোইন এবং একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি-১১। গতকাল দুপুরে এসআরবি-১১-এর আদমজীনগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ। এসআরবি-১১-এর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সোহেল খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার কাঠেরপুল, শিবু মার্কেট, লামাপাড়া ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কাঠেরপুলসংলগ্ন এলাকাকে কেন্দ্র করে তিনি মাদক কারবারের একাধিক আস্তানা পরিচালনা করতেন বলেও দাবি বাহিনীটির।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকের লেনদেন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখতে তিনি কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তুলেছিলেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। এসআরবি-১১-এর দাবি, এসব গ্রুপের সদস্যদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়া হতো। পাশাপাশি স্থানীয় পোশাক কারখানা, ব্যবসায়ী ও ঝুট গোডাউনের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হতো। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, গোডাউনে লুটপাট এবং ঝুট লুটের মতো ঘটনা ঘটানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বাহিনীটির ভাষ্য, সোহেল খন্দকারের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যা চেষ্টার মামলাতেও তিনি আসামি বলে জানানো হয়েছে। এর আগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তেন বলে দাবি এসআরবি’র।
