দেশের গাড়ি আমদানিতে নতুন ঠিকানা হতে যাচ্ছে পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দর। গাড়ি বার্থিং, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে অত্যাধুনিক অবকাঠামো। কার্গো জটবিহীন কম শুল্ক ও বিশেষ সুবিধায় ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন সুযোগ। এতে কমবে আমদানি ব্যয়, বাড়বে সরকারের রাজস্ব আদায়। দেশের অর্থনীতিতে মিলবে নতুন গতি। দীর্ঘ ১০ বছর শুধু মাত্র পাথর ও কয়লা আসলেও এবার পায়রা বন্দরকে গাড়ি আমদানির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।
লালুয়া ইউনিয়নের প্রথম টার্মিনালে আমদানিকৃত গাড়ি নিরাপদে বার্থিং, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১৪৮ মিটারের কার ডেডিকেটেড বা রো রো জেটি, প্রায় ৭৭ হাজার বর্গমিটারের পার্কিং ইয়ার্ড ও ৩ হাজার বর্গমিটারের কারসেড। এ সেডে একসঙ্গে পার্কিং করা যাবে ৩৫০০টি গাড়ি। এ ছাড়া পায়রার ট্যারিফ শিডিউল প্রণয়ন অনুযায়ী অন্যান্য বন্দরের তুলনায় ব্যবসায়ীরা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কম ট্যারিফ সুবিধা এবং কোনো জট ছাড়াই পণ্য খালাস করতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী ওরপেন্টারের পরিবর্তে কম মূল্যে জায়গা ভাড়া এবং বন্দরে অন্তত ৯০ দিন গাড়ি রাখার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে গাড়ি আদমদানির লক্ষ্যে বাড়বিডার সঙ্গে কয়েকবার মিটিং করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তারা বন্দর থেকে গাড়ি আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পায়রা বন্দরের উপ-পরিচালক, ট্রাফিক ও মিডিয়া উইংস আজিজুর রহমান। পায়রা বন্দরকে গ্রিন পোর্ট ও ডিজিটালাইজড পোর্ট হিসেবে গড়ে তুলতে ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নানা উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল সৈয়দ সাইফ-উল ইসলাম। পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের সকল বন্দরের চেয়ে পায়রা বন্দরকে আরও বেশি কার্যকরী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৩ই আগস্ট পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর গত ১০ বছরে দেশি বিদেশি প্রায় ৮ হাজার হ্যান্ডিলিংয়ের মাধ্যমে সরকার আয় করেছে ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা।
