কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে দেশের তিনটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। সোমবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের আয়োজনে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকেরা যাতে সহজে ও কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে ব্যাংক হিসাব খোলা ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়ে অনেক কৃষক সমস্যায় পড়েন। এসব জটিলতা কমিয়ে ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রয়োজনে বিকাশের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে কৃষকদের মূল্য পরিশোধের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং মানুষের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেয়া সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলো সমাধানে সময় প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে সব সমস্যার সমাধান একসঙ্গে সম্ভব নয়। জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানসম্মত চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুত গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রাখা জরুরি। বর্তমান মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ৬৪ জেলায় যানবাহনের পরিকল্পনা: খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বিশেষভাবে জরুরি। দুধ, জুসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়াতে হবে। তিনি জানান, খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম জোরদার করতে ভবিষ্যতে দেশের ৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য যানবাহন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন। মতবিনিময় সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।