ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বিজিবি’র টহলদলের ওপর সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক বিজিবি সদস্য আহত হন। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি’র গুলিতে নোসান আলী (৩৫) নামে এক ইজারাদারের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী বিওপি’র আওতাধীন জলজলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নোমান উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।
৩৯-বিজিবি’র পাঠানো বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে পণ্য আটক করে টহলদল। আটক করা পণ্য নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করা হয়। তবে হামলা অব্যাহত থাকলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বিজিবি সদস্যরা। এতে এক চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয় ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। এদিকে, সকালে স্থানীয়রা ঘটনার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবিতে হালুয়াঘাট সদরে ময়মনসিংহ-আঞ্চলিক মহাসড়কের থানা রোড এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে আসে। নিহতের ছোট ভাই আবু রাইহান অভিযোগ করেন, রাতে এলাকায় বিজিবি সদস্যরা গরু খুঁজছিলেন। এ সময় ফোন পেয়ে তার ভাই ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়। রাইহান আরও বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গুলির ঘটনা ঘটলেও ভাইকে প্রায় তিন ঘণ্টা ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে হাসপাতালে নিতে দেয়া হয়নি। হালুয়াঘাট থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় বিজিবি’র পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি। ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলার পর তারা আকাশের দিকে ফাঁকা ফায়ার করছিল। এসময় এক চোরাকারবারি বিজিবি’র সদস্যের পেছন থেকে হামলা করে। এতে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে চোরাকারবারি শরীরে বিদ্ধ হয়। পরে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিন ঘণ্টা আটকে রাখার যে অভিযোগ করা হচ্ছে- তা অসত্য। ওখানে যানবাহন না পাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু, আমরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। তবে, সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে আজই মামলা করা হবে।
