কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে সার সংকট আতঙ্ক। চাষিদের দাবি, আবাদের ব্যস্ততম সময়ে ডিলার হতে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যায় না। এদিকে কৃষি দপ্তরের দাবি, সারের অপব্যবহার এবং ক্যাচমেন্টের বাইরের জমির চাহিদা থাকায় সার সংকট হচ্ছে।
সরজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা নিকলীর ৭ ইউনিয়নে ১শ’ ২৮টি গ্রাম রয়েছে। ২১৪ বর্গকিলোমিটার বা ২১ হাজার ৪শ’ হেক্টর আয়তনের উপজেলাটিতে প্রায় ২ লাখ বাসিন্দা। সকলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিনির্ভর।
ভৌগলিক আয়তন ও ক্যাচমেন্টে ১৭ হাজার ৮শ’ ২০ হেক্টর আবাদী জমি রয়েছে। সেই মোতাবেক সার বরাদ্দ দেয় সরকার। প্রকৃতপক্ষে এই উপজেলার কৃষকরা প্রায় ২১ হাজার হেক্টর আবাদি জমির মালিক ও চাষ করে থাকেন। অতিরিক্ত জমিগুলো নিকলী, কিশোরগঞ্জ সদর ও করিমগঞ্জ নিয়ে বড় হাওর, মিটামইনের গাজীপুর ও দৌলতপুর, অষ্টগ্রামের ভাদরপুর, ফেনাঘোনা, করগাঁও, বাজিতপুরের চর দিঘিরপাড় মৌজায় অবস্থিত। অপরাপর উপজেলায় জমিরগুলোর অবস্থানের কারণে সার বরাদ্দ সেইসব উপজেলায় হয়ে থাকে। ভৌগলিক বরাদ্দ ভেদে সার সংগ্রহে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে। ঝামেলা এড়াতে নিজ উপজেলার বরাদ্দ থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করে কৃষকরা।
নিকলী সদরের মীরহাটির কৃষক জিও মিয়া ও পূর্বগ্রামের বাবুল ভূঁইয়া জানান, প্রয়োজন যেখানে বিশ বস্তা, সার পাই ৭ বস্তা। বাকি সার অতিরিক্ত মূল্যে ব্যবস্থা করতে হয়। ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সারের বস্তা ১ হাজার ৬শ’ টাকা দরে সংগ্রহ করতে হয়েছে। ইতিমধ্যে দু’জনেই ত্রিশ বস্তা সার কিনে ব্যবহার করছেন। কারপাশা ইউনিয়নের সুজন মিয়া জানান, কৃষিপ্রধান দেশে কৃষকই অবহেলিত বেশি। কৃত্রিম সার সংকট তৈরি হলে স্থানীয় রাজনীতিতে কৃষকদের নেতা নির্ভরতা বাড়ায়। এতে প্রায়শই কৃষকদের হয়রানির কথাও শোনা যায়। খোলা বাজারে সার পাওয়া গেলে কৃষকরা সাচ্ছন্দ্যবোধ করতো।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন নিকলীর যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জিল হোসেন বলেন, সার বরাদ্দে ভৌগলিক ক্যাচমেন্টে সংযোজন-বিয়োজন করা সময়ের দাবি। এটা সরকার পক্ষের দায়িত্ব। সাধারণ মানুষ যাঁদের ওপর দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছেন। হাওরের কৃষি বাঁচাতে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করি। সার-কীটনাশক প্রয়োগে কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত কৃষি বাজার মনিটরিং জোরদার রাখা জরুরি। নিকলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুস ছামাদ জানান, উপজেলায় কোনো সার সংকট নেই। আমরা চেষ্টা করছি সচেতনতা বাড়াতে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো, সার বরাদ্দে উপজেলা সীমার বাইরে ক্যাচমেন্ট সীমা নির্ধারণে কিছু করা যায় কি-না।
