বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের প্রেম বাজার এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল ও স্থাপনা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান গণি চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি’র পরিচয় ব্যবহারকারী কয়েকজনও দখলকারীদের পক্ষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মরহুম বশির আহমদের ওয়ারিশরা। পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে জয়নাল আবেদিন। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

জয়নাল আবেদিন বলেন, ১৯৮০ সালে তার বাবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সম্পত্তিটি কেনেন। পরে আদালতের রায়ের মাধ্যমে হক সুফা সূত্রেও জমিটির মালিকানা লাভ করেন। তবে ২০০৬ সালে সুলতান রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের সম্পত্তির স্থাপনা ভেঙে সেখানে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জয়নালের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর জমির মালিকানা নিয়ে সুলতান ও দোকান ভাড়াটিয়াদের অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে বাঁশখালী থানায় পর পর দু’টি অভিযোগ দেয়া হলেও সুলতান কর্ণপাত করেননি। পরে প্রেম বাজার পরিচালনা কমিটি বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, দোকান ভাড়াটিয়ারা ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে দোকানভাড়া বাজার পরিচালনা কমিটির কাছে জমা দেবেন। বিচার শেষে প্রকৃত মালিককে জমির মালিকানা ও দোকানভাড়া বুঝিয়ে দেয়া হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাজার পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে সুলতান বাঁশখালীর আদালতে তাদের বিরুদ্ধে পর পর দু’টি চাঁদাবাজির মামলা করেন।

জয়নালের দাবি, আদালত ও ডিবি পুলিশের তদন্তে মামলাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৪শে সেপ্টেম্বর বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে টিনের ঘেরাও দেয়ার পর বাঁশখালী থানার ওসির নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পরিবারের চার-পাঁচজন সদস্য আহত হন বলে দাবি করেন জয়নাল আবেদিন। তার অভিযোগ, এ ঘটনায় উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলার কারণে তারা এখন এলাকাছাড়া। জয়নাল আবেদিন বলেন, আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আইন ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে চাই। সংবাদ সম্মেলনে ওয়ারিশরা জমির দলিল, আদালতের রায়সহ সংশ্লিষ্ট ভূমি-নথি যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানান।