ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিত তেলাপোকা জনতা পার্টি ও সহযোগীদের ডাকা যন্তর মন্তর অভিযানের দ্বিতীয় দিনে রোববার রাজধানী দিল্লি ফের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। ঘোষণামত, সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে আসার চেষ্টা করেছেন। তবে সর্বত্র পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন। রোববার দুপুরের দিকে দিল্লির কনট প্লেসে আইসা, এসএফআই এবং অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুলিশ আটক করেছে। দিল্লি পুলিশ ও সিআরপিএফ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসার আগেই আন্দোলনকারীরা কনট প্লেসে জড়ো হতে শুরু করেছিলেন। পুলিশ আগে থেকেই সেখানে মোতায়েন ছিল এবং আন্দোলনকারীদের একে একে আটক করা হয়েছে।
সিজেপি নেতা সৌরভ দাস রোববার বলেছেন, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও তাদের সংগঠন জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে যাবে। তিনি বলেছেন, "আমরা পিছু হটছি না। আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে ফিরে আসছি!"
এক বিবৃতিতে দাস নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগকারী নাগরিকদের ওপর বলপ্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনেছেন এবং দাবি করেছেন যে, সরকারের টিকে থাকার ক্ষেত্রে জ্ঞানেশ কুমার এক কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি বলেছেন, "নাগরিকরা যখন কেবল তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছিলেন, তখন তাদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির ঘটনা সরকারের আসল রূপ সবার সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে।"
তিনি আরও বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে ভয় দেখিয়ে বা কণ্ঠরোধ করে দমিয়ে রাখা যাবে না; তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, সিজেপি নতুন উদ্যমে আবারও আন্দোলনে ফিরে আসবে।
রোববার সকালে মুক্তি পাওয়ার পর অভিজিৎ দীপকে এবং আশুতোষ রাঙ্কা বার্তা দিয়েছেন। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন যে, দাদির মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে দাড়াতে তিনি গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। ‘এক্স’এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা শীঘ্রই দিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলন করবেন।
দীপকে জোর দিয়ে বলেছেন, সিজেপি কোনোভাবেই পিছু হটবে না বা ভয় পাবে না। তিনি ঘোষণা করেছেন, ১০ অক্টোবর দিনটি "এই স্বৈরতন্ত্রের পতনের সূচনা" হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে দেশের শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলে তাকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। এক্স-এ এক পোস্টে রাঙ্কা বলেছেন, "নরেন্দ্র মোদিই আমাদের প্রিয় দেশের শান্তি ভঙ্গ করেছেন।" জ্ঞানেশ কুমারকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে রাঙ্কা বলেছেন, “জ্ঞানেশ কুমার একজন বিশ্বাসঘাতক। তাকে পদত্যাগ করতে হবে। এমন বিশ্বাসঘাতকদের অপসারণের জন্য আমি সারা জীবন জেলে কাটাতেও প্রস্তুত।”
দিল্লিতে সিজেপির বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
১ ঘন্টা আগে
১১ অক্টোবর (রবিবার), ২০২৬, ২ঃ৩৭ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
