‘ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার’: ডনাল্ড ট্রাম্প

‘ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট দরকার’: ডনাল্ড ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে দেশটিতে নতুন একজন নেতা বেছে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার চুক্তি করার পর কিয়েভের তীব্র বিরোধিতার মধ্যেই এ মন্তব্য করলেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের অব্যাহত হামলার কারণেই ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পরামর্শ দেব ইউক্রেন যেন এমন একজন নতুন নেতা বেছে নেয় যিনি সমঝোতা বা চুক্তি করতে সক্ষম। কিন্তু অজ্ঞাত কোনো কারণে জেলেনস্কি কখনোই তা করতে পারেন না।’ জেলেনস্কির সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, তার নেতৃত্বে ইউক্রেন ইতোমধ্যে তাদের ভূখণ্ডের ৩০ শতাংশ হারিয়েছে এবং যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই যুদ্ধ কখনই শুরু হওয়া উচিত ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউক্রেনের এখন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেয়ার সময় এসেছে। ২০২২ সালে তিনি ক্ষমতায় থাকলে এ যুদ্ধ শুরুই হতো না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে সিবিহা। এক্সে তিনি লিখেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির পেছনে ইউক্রেনের জনগণের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং তারাই তাদের নেতা নির্বাচনের অধিকার রাখেন। বিদেশ থেকে আসা এ ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য কেবল প্রমাণ করে যে তিনি নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন এবং তার সমর্থন প্রাপ্য।’

এর আগে শুক্রবার জ্বালানির মূল্য কমাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেল আমদানির বিরল এক চুক্তি করেন ট্রাম্প। এই চুক্তির আওতায় রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তিন লাখ টন এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও কয়েক মিলিয়ন টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করবে। মস্কোর ওপর কয়েক বছরের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এমন পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিদান হিসেবে রাশিয়া জাপোরিঝিয়ায় আবাসিক ভবনে গ্লাইড বোমা ফেলে অন্তত ২০ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি রপ্তানি থেকে রাশিয়া যে অর্থ পাবে, তা দিয়ে তারা আরও বেশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র তৈরি করে ইউক্রেনের ওপর হামলা চালাবে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ওয়াশিংটনের এই ডিজেল চুক্তির বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।