প্রথম আলো
‘অচল দিল্লি, ব্যাপক ধরপাকড়’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কৌশল ঠিক না ভুল, আচরণ গণতান্ত্রিক না স্বৈরতান্ত্রিক, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়া স্থানে কেন জনগণ বিক্ষোভ দেখাতে পারবে না, সেই প্রশ্নও তোলা যেতে পারে। তবে ঘটনা হলো, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গতকাল শনিবার ‘তেলাপোকা’ ও তাদের সহযোগীদের যন্তর মন্তর অভিযান পণ্ড করে দিতে কেন্দ্রীয় সরকার যে পণ করেছিল, দিনের শেষে তাতে তারা সফল।
যদিও সেই সাফল্য অর্জনের জন্য গতকাল রাজধানী দিল্লিকে পুরোপুরি অচল করে ফেলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই। জনজীবন স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সুদূর অতীতেও রাজধানীর এমন দশা কেউ কখনো দেখেনি।
যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে গতকাল মোতায়েন করা হয়েছিল ৩৫ হাজার পুলিশ, র্যাফ ও আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান। যন্তর মন্তরকে ঘিরে তৈরি করা হয় সাতস্তরীয় ব্যারিকেড। বসানো হয় ৩ হাজার সিসি ক্যামেরা। দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশন শুক্রবার রাত থেকে গতকাল দিনভর যাত্রীদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে কাউকে নামতে বা উঠতে দেওয়া হয়নি।
শুধু তা-ই নয়, দিল্লির রেলস্টেশনগামী ২৫০টি দূরপাল্লার ট্রেনযাত্রা বাতিল করে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য, ভিন রাজ্য থেকে ট্রেনে চেপে কোনো আন্দোলনকারী যাতে গতকাল দিল্লি আসতে না পারেন। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে দিল্লিগামী ট্রেন থেকে নামিয়ে আটক করা হয়েছে কয়েক শ যাত্রীকে, যাঁরা দিল্লি আসছিলেন বিক্ষোভে অংশ নিতে। রাজধানীর লুটেন্স দিল্লি বলে পরিচিত এলাকা, যার মধ্যে রয়েছে যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, নির্বাচন সদন, সংসদ ভবন—সেখানে গতকাল সকাল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। উদ্দেশ্য, বিক্ষোভের সরাসরি সম্প্রচার যাতে সম্ভবপর না হয়।
এত বজ্র আঁটুনি সত্ত্বেও অকুতোভয় যাঁরা পুলিশের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন, পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায় বিভিন্ন স্টেডিয়ামে। এসব স্টেডিয়ামকে আটক কেন্দ্র হিসেবে আগেই তৈরি রাখা হয়েছিল।
আটক হলেন যাঁরা
সিজেপির আন্দোলন ছিল অহিংস। কোথাও বিক্ষোভকারীরা পুলিশের প্রতি সহিংস আচরণ দেখাননি। তারপরও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ট্রেন, উড়োজাহাজ, রাজপথ যেখানেই পেয়েছে, আটক করেছে। সর্বশেষ খবরে জানা যাচ্ছে, সরকার সিজেপির যন্তর মন্তর আন্দোলন ঠেকাতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শুধু দিল্লিতেই অন্তত ৬ হাজার ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ ছাড়া মহারাষ্ট্রের মুম্বাইসহ বিভিন্ন রাজ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে। এভাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চার রাজ্যের সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী—কেরলমের অশীতিপর সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন, পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরার মানিক সরকার ও দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়াল। বিজয়ন ও কেজরিওয়াল যন্তর মন্তর অভিমুখে যেতে গিয়ে আটক হন, মমতাকে আটক করা হয় তাঁর বাসস্থানের সামনে থেকে। মানিক সরকারও দিল্লিতে আটক হন।
যন্তর মন্তরে যাওয়া অসম্ভব দেখে মমতা সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তাঁর ভাতিজা অভিষেকের সরকারি আবাসের সামনে বাস ছাউনিতে অবস্থান শুরু করেন। সেখান থেকে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গী সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম, সাকেত গোখলে ও ডেরেক ও’ব্রায়ানকে আটক করে পুলিশ।
গতকাল সকালে বেঙ্গালুরু থেকে দিল্লি পৌঁছানো মাত্র উড়োজাহাজের ভেতরে গিয়ে আটক করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে। এর আগে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। মাত্র তিন দিন আগে জার্মানি থেকে তিনি ভারতে আসেন ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনে শরিক হতে। সিজেপির লিগ্যাল সেলের নেত্রী রত্না সিংকেও দিল্লি পুলিশ আটক করেছে।
গ্রেপ্তারের আগে অভিজিৎ দিপকে জানিয়ে দেন, তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্ডে। এর মধ্য দিয়ে সিজেপি বুঝিয়ে দিল, আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। দিনের শেষে সিজেপির নেতাদের মুখে দিপকের কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। ধরপাকড় আর দমন–পীড়ন সত্ত্বেও ‘জ্ঞানেশ হটাও’ আন্দোলন চলবে। গত রাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর খবরে জানানো হয়, আজ রোববারও যন্তর মন্তরে কর্মসূচি দিয়েছে সিজেপি। গতকাল সিজেপির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে অজিঙ্ক শিন্ডে লেখেন, ‘মোদি সরকার ভয় পাচ্ছে। আমরা আবার একজোট হলে তাদের ক্ষমতার গদি টলে যেতে পারে। কিন্তু আমরা পিছু হটছি না! আগামীকাল (আজ) আবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করব। আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করব।’
আটক করা হয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন বা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে। যন্তর মন্তরে যেতে বাধা পেতে হবে দেখে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন ‘আইসা’র নেত্রী নেহা সমর্থক ও সহযোগীদের নিয়ে মিছিল বের করেন দক্ষিণ দিল্লির আইএনএ মার্কেটের কাছে জনপ্রিয় দিল্লি হাটের সামনে। পুলিশ সেখান থেকে তাঁকে আটক করে। অবশ্য পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নেহা বোরা অভিযোগ করেছেন, দিল্লি পুলিশ তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে কিছু সময়ের জন্য রেখে দিয়েছিল। পরে অবশ্য তাঁকে ফোন ফেরত দেওয়া হয়। নেহা ছাড়াও মিছিল থেকে আটক করা হয়েছে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণসহ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবীরা মিছিল করে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে আটক হন। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর হস্তক্ষেপে সামান্য সময়ের পরেই অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আরও অনেকে নানা পথে যন্তর মন্তর অভিমুখে যেতে গিয়ে বাধা পান। প্রত্যেককেই বাসে চাপিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দান বিক্ষোভের সময় অভিনেতা ইমরান খানকে আটক করা হয়েছে। আটকের পর পুলিশ ভ্যান থেকে সেলফি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে আমি ড্রাইভে যাচ্ছি।’
তবে গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর খবরে বলা হয়, সিজেপির প্রথম সারির নেতাদের ছাড়া আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানা যায়। তারও আগে নেহা বোরাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। মুক্তি পাওয়ার পর নেহা এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘পুলিশ আমার ফোন নিয়ে নিয়েছিল। সেটা ফেরত পেয়েছি।’
অনশনে বসার হুমকি ওয়াংচুকের
বিক্ষোভ ঘিরে আটক সবাইকে আজ রোববারের মধ্যে মুক্তি দিতে হবে। না হলে অনশন বা পদযাত্রা কর্মসূচির কথা বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
ম্যাগসাইসাই পুরস্কারজয়ী এই শিক্ষাবিদ গতকাল এক এক্স বার্তায় লিখেছেন, ‘গতকাল যখন আমি আজকের বিক্ষোভে ঐক্য ও শান্তির জন্য আবেদন জানিয়ে একটি বার্তা পোস্ট করেছিলাম, তখন কল্পনাও করতে পারিনি, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থার মধ্যে পড়বে।’
এমন দৃশ্য আগে দেখেনি দিল্লিবাসী
শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমাতে নরেন্দ্র মোদির সরকার ও দিল্লির পুলিশ-প্রশাসন দমন-পীড়ন এবং পেশিশক্তি ও ভীতি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জনজীবন অচল করার যে নজির রাখল, দিল্লিবাসীর কাছে তা অভূতপূর্ব। এটা যেন দমন-পীড়নের সেই ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নাগরিক স্বাধীনতা খর্ব করেছিলেন, সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করেছিলেন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের কারাগারে পাঠিয়েছিলেন।
দিল্লির আদি বাসিন্দারা অবশ্য ১৯৮৩-৮৪ সালের খালিস্তানি আন্দোলন দেখেছে, ১৯৮৮ সালের কৃষক বিক্ষোভও। তৎকালীন সরকার সেই দুই আন্দোলন সামাল দিয়েছিল তার মতো করে।
কৃষকনেতা মহেন্দ্র সিং টিকায়েত এক সপ্তাহ দিল্লির ইন্ডিয়া গেট বরাবর প্রশস্ত বোট ক্লাবের দুই ধার দখল করে নিয়েছিলেন; কিন্তু তা সত্ত্বেও সে সময় জনজীবন এভাবে স্তব্ধ করা হয়নি। ‘তেলাপোকাদের’ ঠেকাতে এবার মোদি সরকার যা করল, দিল্লিবাসী অতীতে তা দেখেনি।
বোট ক্লাবই ছিল দিল্লির গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা। ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের আমলে বোট ক্লাবের বদলে যন্তর মন্তরকে বেছে নেওয়া হয় গণতান্ত্রিক বিক্ষোভস্থল হিসেবে। এবার সম্ভবত তারও বদল ঘটতে চলেছে।
এখন প্রশ্ন, অতঃপর কী। অভিজিৎ দিপকেরা অবশ্যই থামবেন না। এত দিন ধরে তাঁদের কথাবার্তা ও আচরণই তা বোঝাচ্ছে। অজিঙ্ক শিন্ডেকে দায়িত্ব দেওয়া তার আরও এক প্রমাণ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও চেন্নাই থেকে ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘যুবসমাজ, প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাহুল বলেন, ‘মি. মোদি, আপনার যা খুশি করুন। সব পুলিশকে ডাকুন: ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, আপনার যা ইচ্ছা। সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন।’
তোলাপোকারা দ্বিতীয় দফার যন্তর মন্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন সরকারি ছুটির দিনে। পরবর্তী আন্দোলন কাজের দিনে দিলে সরকার কি আবার এভাবে জনজীবন অচল করে রাখবে? যদি লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়? কী করবে সরকার?
‘ইন্ডিয়া’ জোট আগেই জানিয়ে রেখেছে, সোমবার তারা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে দরবার করবে। ‘ইন্ডিয়া’ ও সিজেপির লক্ষ্য অভিন্ন হলেও কেউ এখন পর্যন্ত যৌথ আন্দোলনে আগ্রহী নয়। সরকারের কাছে এটা স্বস্তির বিষয়। কিন্তু অস্বস্তি চরমে উঠবে দুই পক্ষ জোটবদ্ধ হয়ে গেলে এবং অবশ্যই সুপ্রিম কোর্ট এ-সংক্রান্ত মামলায় বিরূপ রায় দিলে। আগামী দিনগুলোর ঘটনাপ্রবাহ তাই গুরুত্বপূর্ণ।
সাবেক নির্বাচন কমিশনাররা যেভাবে জ্ঞানেশ কুমারের কর্মপদ্ধতি ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন, বিরোধীরা সমস্বরে প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেভাবে ইসি, বিজেপি ও সরকারবিরোধী জনমত গড়ে তুলছে, তাতে সরকার ক্রমেই কোণঠাসা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আরএসএস, সংঘ পরিবার, বিজেপি ও মোদি সরকার এই আন্দোলনকে দেশপ্রেমিক বনাম দেশদ্রোহী, রাষ্ট্রবাদী বনাম বিচ্ছিন্নতাবাদী, স্বদেশ বনাম বিদেশি চক্রান্তকারীদের লড়াইয়ের রূপ দিতে চাইছে। বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন গতকাল সরাসরি জানিয়ে দিতে ভোলেননি, দেশকে দুর্বল করার এই দেশি-বিদেশি চক্রান্ত তাঁরা ব্যর্থ করে দেবেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা গ্রহণ যতটা সহজ ছিল, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ইস্তফার ইঙ্গিত দেওয়া তাঁর নিয়োগকর্তার পক্ষে ততটাই কঠিন। তাই সরকার ও বিরোধীদের এই লড়াই যে আরও জটিল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, এটা বলাই যায়। আর সিজেপির আজকের কর্মসূচি ঠেকাতে প্রস্তুতির কথা গত রাতেই জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ। ফলে আজও হয়তো মোদি সরকার ও দিল্লি পুলিশ-প্রশাসনের দমন-পীড়ন এবং পেশিশক্তির নজির দেখবে সবাই।
আরেক খবরে বলা হয়, ‘সৌদির বিমানবন্দরে বিস্ফোরণ, বাংলাদেশ বিমানের রিয়াদগামী দুটি ফ্লাইট স্থগিত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট দুটি হলো বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০। সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান।
আজ শনিবার এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বিজ্ঞপ্তিতে রিয়াদ থেকে সব ফ্লাইট স্থগিতের কথা বলা হলেও এর কারণ উল্লেখ করেনি বিমান।
তবে ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। আজ শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের পর এ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিমানের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে বিমানের নির্ধারিত বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইটের যাত্রাও স্থগিত করা হয়েছে। ফ্লাইট দুটিতে টিকিট বুকিং করা যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমান জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ফ্লাইট দুটির নতুন সময়সূচি বা পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে আগামীকাল রোববার (১১ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে ফ্লাইট স্থগিতের কারণে ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমান কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে অথবা নিকটস্থ বিমানের টিকিট বিক্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। নতুন তথ্য বিমানের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ও অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য দিয়ে রয়টার্স বলেছে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সেখানে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থাও যাচাই করতে বলা হয়েছে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্যে অসহায় কৃষক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৫ সালে কৃষকদের ফল উৎপাদনে উন্নয়নের ‘মুলা’ ঝুলিয়ে নেওয়া প্রকল্পের অর্থে কর্মকর্তারা মোটাতাজা হলেও শত শত কৃষকের হয়েছে সর্বনাশ। তারা প্রকল্প কর্মকর্তাদের প্রচার-প্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে খাটো জাতের নারিকেল চারা কিনে চরম প্রতারিত হয়েছেন।
প্রতিবাদ করায় অনেক কৃষককে মামলা দিয়ে বাড়িঘরছাড়া করা হয়েছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা খাটো জাতের নারিকেল চারা দেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী না হওয়া সত্ত্বেও কৃষকদের বিভ্রান্ত করে তা বিক্রি করা হয়। কৃষি অধিদপ্তরের গবেষকরা বলেছেন, তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রায়াল না দিয়েই এগুলো আনা হয়, তাই খাটো জাতের চারা ভালো ফল দেয়নি। এতে ঠকেছেন স্বপ্ন দেখা দেশের কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা।
যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কৃষকদের জন্য চারা আমদানি ও বিতরণের নামে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার হিসাব শুধু কাগজে-কলমে মেলানো হয়েছে। কথিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামে কাগজপত্র তৈরি করে বিল তুলে তা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ৫ বছরব্যাপী ১৯৫ কোটি টাকার প্রকল্প (২০১৫-১৯) হাতে নেওয়া হয় ২০১৫ সালে। এর দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালে সংশোধনী এনে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, প্রকল্প শুরুর পর থেকে তিনবার সংশোধনী আনায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি হার প্রায় ২২৭ শতাংশ। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালা অনুযায়ী বিশেষ প্রয়োজনে এই ব্যয় ‘১৫ শতাংশ’ পর্যন্ত বাড়ানোর বিধান ছিল। সেটিও উপেক্ষা করা হয়। এ প্রকল্পে ছোট জাতের নারিকেল চারার সঙ্গে আরও ছিল সৌদি খেজুর চারা, কফি চাষ, কাজুবাদাম।
এসব চাষের জন্য নেওয়া হয় কৃষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। বাস্তবে এর কোনোটিই কৃষকদের কাজে আসেনি। তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন খাটো জাতের নারিকেল চারা কিনে, বাগান করে। এ প্রকল্পের প্রথম পরিচালক ছিলেন ড. মেহেদী মাসুদ। পরে তার সঙ্গে যুক্ত করা হয় তালহা জুবায়ের নামে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার একজন কৃষি কর্মকর্তাকে।
মেহেদী মাসুদ অবসরে গেলে তালহা জুবায়ের ‘টিস্যু কালচার ল্যাব ও হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন’ ও পরে ‘কৃষকের কোল্ড স্টোরেজ’ প্রকল্পের পরিচালক হন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মেহেদী মাসুদ অবসরে যাওয়ার পরও ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পে’ পরিচালক হিসাবে দুই বছর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাড়িয়ে নেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেই মেয়াদ শেষ হলে তিনি তালহা জুবায়েরের ‘টিস্যু কালচার ল্যাব ও হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্পে মাসে ৩ লাখ টাকা বেতনে পরামর্শক হিসাবে নিয়োজিত হন। সাবেক মন্ত্রীর কাছে প্রকল্পে প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে তালহা জুবায়ের তাকে এ সুযোগ করে দেন বলে জানা যায়। সরকারের কোষাগার থেকে পরামর্শ ফির নামে মাসে এভাবে অর্থ খরচ করার ঘটনা অস্বাভাবিক।
যে স্বপ্ন দেখিয়ে প্রকল্প গ্রহণ: ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’র অধীনে কৃষকদের জন্য উন্নত জাতের ফল বাগান স্থাপনে প্রশিক্ষণ, চারা উৎপাদন ও বিতরণ, নতুন প্রদর্শনী বাগান স্থাপনে কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তাদের সহায়তা-এমন স্বপ্নই দেখানো হয়েছিল। কৃষকদের দেওয়ার কথা ছিল-রাসায়নিক, জৈব সার, কীটনাশক, ওষুধ, উন্নত জাতের চারা, কাজুবাদামের কলম চারা ও বীজ। প্রদর্শনীর জন্য দেওয়ার কথা ছিল-দেশীয় উন্নত জাতের ফলের চারা, কলম, বিদেশি খাটো জাতের নারিকেল চারা ও কাজুবাদাম। কৃষকদের জন্য নতুন নতুন বাগান স্থাপনের এমন চমৎকার আয়োজন সাদা চোখে খুব ভালো উদ্যোগ মনে হলেও আড়ালে ছিল কর্মকর্তাদের নিজেদের সুবিধা অর্জনের নানা ফন্দি।
কৃষি গবেষকদের পরামর্শ উপেক্ষা : ভিয়েতনাম থেকে খাটো জাতের নারিকেল চারা আমদানির আগে এ চারা দেশের মাটি ও আবহাওয়ার জন্য উপযোগী কি না বা এতে মাটির কোনো ক্ষতি হবে কিনা-এমন নানা বিষয় পরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক করেছেন উলটো। কৃষি গবেষক মো. শামীম যুগান্তরকে বলেন, এসব খাটো জাতের চারা ভালো ফল দিচ্ছে না। এসব চারা আমাদের সুপারিশে আনার কথা ছিল। আমরা বলেছিলাম সামান্য কিছু চারা এনে ৬ মাস থেকে এক বছর দেখব। কিন্তু ট্রায়াল না দিয়েই এগুলো আনা হয়। তিনি জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারেও এগুলো লাগানো হয়েছিল। রেজাল্ট ভালো আসেনি। পরে গবেষণায় আমাদের আর সম্পৃক্ত করা হয়নি। তিনি আরও জানান, আমাদের নিজস্ব বেশ কয়েকটি স্টেশনে যেমন- হাটহাজারী, বরিশাল, জয়দেবপুরসহ ৭-৮টি স্টেশনে ১২-১৫টি করে চারা লাগাই। গত কয়েক বছরেও কোনো রেজাল্ট পাইনি।
রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি গবেষক ড. মো. আলীম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, আমরা মতামত দিয়েছিলাম পোকামাকড়ে ভরা এসব চারা আনা ঠিক হবে না। কিন্তু আমাদের এমন মতামতকে উপেক্ষা করে ভিয়েতনাম থেকে নারিকেল চারা আনা হয়। আমি রাজশাহী অঞ্চলে কাজ করেছি। এ অঞ্চলে ভালো ফল দেয়নি। উত্তরাঞ্চলেও ভালো ফল দেয়নি। সেসব এলাকায় যেসব বাগান ছিল সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, রোগ ও পোকামাকড়ের ছবিসহ পরামর্শ ও প্রস্তাবনা আমাদের প্রধান কার্যালয়ে পাঠাই। তারা (প্রকল্প কর্মকর্তা) হয়তো এতে মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন। কিন্তু আমি যা পেয়েছি তাই দিয়েছি। তারা (প্রকল্প কর্মকর্তা) আমাকে বলল যে, দুই বছরে খাটো জাতের নারিকেল চারায় ফলন আসে। কিন্তু ১০-১২টা চারা লাগিয়ে অনেক পরিচর্যা করে দেখলাম কিছুই হচ্ছে না। পরে দেখা গেল এগুলো রোগে ভরা। রোগ ছাড়াও একটা ক্ষতিকর পোকা ছিল। আমরা ধারণা করছি আমদানিকৃত চারার সঙ্গেই পোকামাকড় এসেছে। কৃষকদের মধ্যে যারা এই চারার বাগান করেছেন কেউ তা রক্ষা করতে পারেনি। সব নষ্ট হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক টেন্ডারের পরিবর্তে দেশীয় অনুগত কোম্পানির মাধ্যমে চারা আমদানি: সংশ্লিষ্টরা জানান, গবেষণা ছাড়া মল্লিকা সিড নামে একটি কোম্পানির মাধ্যমে ভিয়েতনাম থেকে সমুদ্র পথে সাড়ে ৭ লাখ চারা আমদানি করা হয়। অথচ বিদেশ থেকে চারা আমদানি করতে হলে আন্তর্জাতিক টেন্ডার করতে হয়। তা না করে প্রকল্প কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চারা এনে বিলও পরিশোধ করেন। সূত্রমতে, প্রকল্প প্রস্তাবনার বাইরে অতিরিক্ত আরও কয়েক লাখ চারা আনা হয়। সেসব চারা ৫০০ থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ কৃষকদের।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, আড়াই লাখ চারা প্রদর্শনীর জন্য কৃষকদের ফ্রি দেওয়ার কথা ছিল। এর জন্য সরকারের বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু বিনামূল্যের চারা কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয় ৫০০ টাকা করে। আড়াই লাখ চারা অনুমোদনের বাইরে আরও প্রায় ৫ লাখ চারা অফিশিয়ালি আমদানি করা হয়। ৫০০ টাকা হারে সাড়ে ৭ লাখ চারার বিক্রয় মূল্য দাঁড়ায় ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বিষয়টি জানাজানি হলে পূবালী ব্যাংক খামারবাড়ি শাখায় ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’র নামে একটি হিসাব খোলে (হিসাব নম্বর-৩৫৪৭৯০১০২০৬৩৬) ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নারিকেলের চারা বিক্রির লেনদেন দেখানো হয় ৩১ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ প্রথম দফায় ২০১৯ সালের শেষেও ৯ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্য মিলেছে। কৃষকদের আন্দোলনের মুখে প্রকল্পের ওই হিসাবে এই ৯ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয় বলে জানা যায়। এতে দেখা যায়, সব মিলে ৪০ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে। পরে লেনদেনের এ ঘটনা পরে ধামাচাপা পড়ে যায়।
প্রকল্প পরিচালকের ব্যবসায়িক চ্যানেল কৃষি বায়োস্কোপে প্রচারণা: নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রকল্প পরিচালক তালহা জুবায়েরের ‘কৃষি বায়েস্কোপ’-এর মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে কৃষকদের সর্বনাশ করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী কৃষকদের। কৃষকদের প্রতিবাদের মুখে তার চ্যানেল বাদ দিয়ে অন্য লোকজনকে দিয়ে একাধিক ইউটিউব ও ফেসবুক পেজ খুলে এখনো প্রচারণা চালিয়ে কৃষকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এমন অসংখ্য পেজের মধ্যে ‘শাইখ সিরাজ ফ্যান্স গ্রুপ’ নামে কয়েকটি পেজ থেকে প্রচারণা করে চারা বিক্রি করে কৃষকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক শাইখ সিরাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এরা একটি চক্র। আমার নাম ব্যবহার করে ব্যবসা করছে। তিনি জানান, খাটো জাতের নারিকেলের চারায় কৃষকদের তেমন কোনো উপকার হয়নি।
কৃষকদের সর্বনাশ, মামলা, হয়রানি: প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, নারিকেলের চারা কিনে প্রতারিত হওয়া অসংখ্য কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ ও তালহা জুবায়েরের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে বেশ কয়েকটি জেলায় মানববন্ধন করেন। তারা কৃষি সচিবসহ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এ কারণে কৃষকদের ভয়ভীতি দেখানো, বাড়ি থেকে গুম করে নেওয়া, চুয়াডাঙ্গার তৎকালীন এসপিকে দিয়ে ঘটনা চেপে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী কৃষক মেহেদী হাসান রোমেল জানান, তিনি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষে মানববন্ধন করেছিলেন। সে কারণে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
কালের কণ্ঠ
‘রক্ত নিয়ে ছিনিমিনি’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে এসেছেন কলেজপড়ুয়া তওকীর। মহাখালীর ক্যান্সার হাসপাতালে ভর্তি তাঁর মা আসমা বেগম ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত।
আগে তিন মাস পর পর রক্তের প্রয়োজন হতো। এখন প্রায় প্রতি মাসেই রক্ত দিতে হচ্ছে। সর্বশেষ চিকিৎসকের কাছে আসার পর দ্রুত তিন ব্যাগ রক্তের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। কোনো রকমে এক ব্যাগ জোগাড় করতে পেরেছিলেন তওকীর। বাকি ছিল আরো দুই ব্যাগ।
ঢাকায় পরিচিতজনও খুব বেশি নেই তাঁর। একজনের পরামর্শে ফেসবুকের একটি রক্তদাতা গ্রুপে মায়ের জন্য রক্ত চেয়ে পোস্ট দেন তওকীর। পোস্টে রোগীর রক্তের গ্রুপ, হাসপাতালের নাম, ওয়ার্ড, প্রয়োজনীয় রক্তের পরিমাণ এবং যোগাযোগের নম্বর দেওয়া ছিল।
তওকীরের ভাষ্য, পোস্টটি দেওয়ার পর গুলজার নামের একজন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, দুপুরের মধ্যেই তিনি রক্ত দিতে আসবেন। কিন্তু দুপুর ঘনিয়ে এলেও গুলজারের দেখা নেই। নির্ধারিত সময়ের আগে তওকীর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। শুরুতে ফোনও ধরছিলেন না গুলজার। এক পর্যায়ে ফোন ধরলেও বদলে যায় তাঁর কথা।
গুলজার জানান, পকেটে টাকা না থাকায় দুপুর পর্যন্ত খাওয়াও হয়নি তাঁর। দুপুরের খাবার ও যাতায়াত খরচ বাবদ ৫০০ টাকা পাঠালে তিনি রক্ত দিতে আসতে পারবেন। টাকা না পেলে তাঁর পক্ষে আসা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন তিনি।
মায়ের জরুরি রক্তের প্রয়োজনের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেন তওকীর। এর পরই তাঁর সঙ্গে গুলজারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তওকীর জানান, টাকা পাওয়ার পর তাঁকে ফেসবুকে ব্লক করে দেওয়া হয়।
তওকীরের কাছ থেকে গুলজারের মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক গ্রুপের তথ্য নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে কালের কণ্ঠ। একই রোগীর স্বজন সেজে নতুন করে রক্ত চেয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্ট অ্যাপ্রুভ হওয়ার পরপরই একাধিক ব্যক্তি কমেন্ট করতে শুরু করেন এবং সেখানেও গুলজার নামের এক ব্যক্তির একটি কমেন্ট পাওয়া যায়। তাঁর ফোন নম্বর ও তওকীরের দেওয়া ফোন নম্বরের মিল পাওয়া যায়।
কালের কণ্ঠ প্রতিবেদক ছদ্মনামে গত বৃহস্পতিবার রাতে রক্তের জন্য গুলজারকে ফোন করলে তিনি রক্ত দিতে পারবেন এবং পরদিন (শুক্রবার) সকাল ৮টায় তাঁকে ফোন করতে বলেন। এরপর সকালে যথারীতি তাঁকে ফোন করে দেখা করতে চাইলে তিনি দুপুরে ফোন করতে বলেন। দুপুরে তাঁর দেওয়া ঠিকানায় যাওয়া হলে তিনি দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং যা বলার সব ফোনে বলতে বলেন।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে অন্য আরেকটি নম্বর থেকে ভিন্ন পরিচয়ে কথা বলে রক্ত দিতে পারবেন কি না জানতে চাইলে তিনি সম্মতি জানান এবং দুপুরে খাবারের পরই তিনি হাসপাতালে আসবেন বলে জানান। এ সময় তিনি তাঁর পকেটে মাত্র ৪০ টাকা আছে জানিয়ে দুপুরের খাবার এবং ভাড়া বাবদ ৩০০ টাকা দাবি করেন। হাসপাতালে আসার পর এই টাকা দেওয়ার কথা বলা হলে গুলজার তাতে রাজি হননি। আগে বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য চাপাচাপি করতে থাকেন।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে ফেসবুকে এমনই সব প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘রক্তের প্রয়োজন’ জানিয়ে দেওয়া পোস্টগুলোকে সম্ভাব্য শিকার বাছাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে কিছু ব্যক্তি। প্রথমে নিজেকে রক্তদাতা পরিচয় দিয়ে আস্থা তৈরি, পরে দূরত্বের অজুহাতে যাতায়াত খরচ দাবি এবং সব শেষে বিকাশে অগ্রিম টাকা নেওয়ার চেষ্টা—একাধিক ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারণার এমন কিছু অভিন্ন কৌশল পাওয়া গেছে। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে গুলজার হোসেন ছাড়াও তরিকুল ইসলামসহ বেশ কিছু নাম-ছদ্মনাম ব্যবহার করা ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেছে।
সাংবাদিক নামধারী প্রতারক: অনুসন্ধানের শেষ পর্যায়ে গুলজারের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান প্রতিবেদক। তিনি নিজের নাম গুলজার বলে নিশ্চিত করেন। তাঁর ব্যাপারে প্রতারণার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকতার পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘আমিও একটু-আধটু সাংবাদিকতা করি।’ কোথায় সাংবাদিকতা করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দৈনিক একুশে বার্তার ক্রাইম রিপোর্টার।’
রক্ত দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার কারণ জানতে চাইলে গুলজার তাঁর কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। এক পর্যায়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর একাধিকবার তাঁর নম্বরে কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে গুলজার নামের ওই ব্যক্তির একই ধরনের কার্যক্রমের আরো নজির পাওয়া গেছে। রক্তের প্রয়োজন জানিয়ে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি রক্ত দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরের রোগীর পোস্টেও তাঁর এমন উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘ন্যূনতম হজযাত্রী পায়নি ১৮৬ এজেন্সি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার হজ ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিচ্ছে এমন কিছু এজেন্সি, যেগুলো তাদের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম সংখ্যক হজযাত্রীও নিবন্ধন করতে পারেনি। এ অবস্থায় লিড এজেন্সি নির্বাচন এবং হজ ব্যবস্থাপনায় তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একটি লিড এজেন্সির অন্তত দুই হাজার হজযাত্রীর বাংলাদেশ ও সৌদি আরব পর্বের সেবা সমন্বয় ও নিশ্চিত করার সক্ষমতা থাকার কথা। অথচ লিড এজেন্সির তালিকায় থাকা মারহামাহ এয়ার ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস এবার নিবন্ধন করেছে মাত্র ৩৯ জন হজযাত্রী। একই অ্যালায়েন্সের সমন্বয়কারী এজেন্সিগুলোর ৩৩টিই এর চেয়ে বেশি হজযাত্রী নিবন্ধন করেছে।
মারহামাহর মতো আরও কয়েকটি লিড এজেন্সির নিবন্ধনও নির্ধারিত কোটার ধারেকাছে নেই। মেসার্স সালসাবিল এভিয়েশন ও সোহেল অ্যান্ড ব্রাদার্স নিবন্ধন করেছে ৪৪ জন করে হজযাত্রী। কোনো কোনো লিড এজেন্সি সমন্বয়কারী এজেন্সির হজযাত্রী নিজেদের আওতায় স্থানান্তর করে কোটা পূরণের চেষ্টা করছে বলেও জানা গেছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী সংগ্রহের জন্য ২৮টি লিড এজেন্সির ন্যূনতম কোটা দুই হাজার করে। অন্যদিকে, ৬৮৪টি সমন্বয়কারী এজেন্সির ন্যূনতম কোটা ৪৪ জন। কিন্তু এই সংখ্যা পূরণ করতে পারেনি ১৮৬টি এজেন্সি। এর মধ্যে ৩২টি কোনো হজযাত্রী নিবন্ধন করেনি। ছয়টি হজ অ্যালায়েন্স দুই হাজারের কোটা পূরণ করতে পারেনি। এগুলো হলো মানাসিক কনসোর্টিয়াম-২, মানাসিক অ্যালায়েন্স, মারহাবা অ্যালায়েন্স, মাবরুর এয়ার অ্যালায়েন্স, সিকদার গ্রুপ অ্যালায়েন্স ও চট্টগ্রাম হজ অ্যালায়েন্স। এসব এজেন্সি ও অ্যালায়েন্সের হজযাত্রীদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি অ্যালায়েন্সের হজযাত্রীদের ভিসা, আবাসন, খাবার, পরিবহন, মক্কা-মদিনায় সেবা, মিনা-আরাফায় তাঁবু, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, হারিয়ে যাওয়া হজযাত্রীকে খুঁজে বের করা, জরুরি চিকিৎসা, অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব লিড এজেন্সির। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগও করতে হয় তাদের। সৌদি সরকারের সঙ্গে মূল যোগাযোগের ক্ষেত্রেও লিড এজেন্সির মালিকই প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ফলে নেতৃত্বে থাকা এজেন্সির সক্ষমতা কম হলে পুরো অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ইত্তেফাক
‘বন্ধ কারখানা চালু করতে প্রণোদনায় আগ্রহ কম’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ৬২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। শিল্পোদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদের এই তহবিলের ঋণ দেওয়ার কথা। আর প্রণোদনার আওতায় ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে প্রণোদনা ঘোষণার চার মাস পরও এই ঋণ বিতরণে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে প্রথমে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করে। পরে এর আকার বাড়িয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসে বিতরণ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।
এর মধ্যে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে গেছে ১ হাজার কোটি টাকার কম, যার মাত্র ৫০ কোটি টাকা গেছে বন্ধ কারখানা চালুর উদ্দেশ্যে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি, কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দ করা তহবিল থেকে ঋণ বিতরণ শুরু হয়নি। প্রণোদনা ঘোষণার চার মাস পরের তহবিল বিতরণের কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকায় শর্ত শিথিলসহ সুদ কমিয়ে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর নতুন পথ খুঁজছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর উপায় খুঁজে বের করতে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাবেক ব্যাংকারদের সঙ্গে পরামর্শ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ নিয়ে সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকও করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, শুধু বিতরণের জন্য ঋণ বিতরণ করলে তা ব্যাংক খাতে নতুন করে বিপদ ডেকে আনবে। অর্থনীতির গতি ফেরাতে হলে বন্ধ কলকারখানা চালুর বিকল্প নেই। একটা নতুন কারখানা তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লাগে। সেই তুলনায় বন্ধ কারখানা চালু করা কম সময়সাপেক্ষ। এজন্য প্রণোদনার ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করে। পরে তা বাড়িয়ে ৬২ হাজার কোটি টাকা করা হয়। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে আর ২১ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের আওতায় বিতরণের কথা। এসব ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয় ৭ শতাংশ।
তহবিলের ৪১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, কটেজ, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি খাতের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা ও রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে বরাদ্দ রাখা হয় ৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া উত্তরবঙ্গে কৃষি হাব গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এছাড়া ২১ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের মধ্যে বেশ কয়েকটি চলমান আছে। এর মধ্যে প্রিশিপমেন্ট ফাইন্যান্স/প্যাকিং ক্রেডিট খাতের জন্য ৭ হাজার কোটি টাকা, কুটির ও ক্ষুদ্র খাতের জন্য পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা।
বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনীতি কর্মকাণ্ডের জন্য আনসার ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতি খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকা এবং স্টার্টআপদের অর্থায়নের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হিমায়িত চিংড়ি ও মাছ রপ্তানিকারকদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা এবং চামড়া ও জুতা রপ্তানি খাতে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ধনীর ঘরে ভর্তুকির সুবিধা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় করে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, সার ও বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তুকি দেয়। এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিম্ন আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেয়া, কৃষির উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখা। কিন্তু ভর্তুকির সুফল বণ্টনে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ, সার ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চলে যাচ্ছে তুলনামূলক সচ্ছল পরিবারের কাছে। বিপরীতে সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকছে।
বিশ্বব্যাংকের চলতি বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত ডেভেলপমেন্ট আপডেটের একটি বিশেষ অংশে বাংলাদেশের ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমস্যাটি শুধু ভর্তুকি দেয়া বা না দেয়ার নয়; বরং কারা সুবিধা পাচ্ছে, কতটা পাচ্ছে এবং সরকারি অর্থের বিনিময়ে দারিদ্র্য কমানোর সুফল কতটা অর্জিত হচ্ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য।
বিপুল ব্যয়, সীমিত সুফল: বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ জিডিপির প্রায় ৩.৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৭.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে জ্বালানি ও সার ভর্তুকি এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে। কিন্তু দুর্বল লক্ষ্য নির্ধারণ ও সুবিধাভোগী নির্বাচনের সীমাবদ্ধতার কারণে এ ব্যয়ের বড় অংশ প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
২০২২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে করা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রত্যক্ষ কর ও নগদ হস্তান্তর দারিদ্র্য ও বৈষম্য কিছুটা কমায়। এ ব্যবস্থায় জিনি সহগ ৫২.৪ থেকে কমে ৫০.৭-এ নেমে আসে এবং দারিদ্র্যের হার ১৯.৬ শতাংশ থেকে ১৮.৮ শতাংশে নামে। কিন্তু পরোক্ষ করের বোঝা এ অর্জনের একটি বড় অংশ মুছে দেয়। সব মিলে জিনি সহগ দাঁড়ায় ৫১.৪ এবং দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয় ২০.৬ শতাংশ; অর্থাৎ কর ও সহায়তা কর্মসূচি না থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত, কিন্তু বিদ্যমান ব্যবস্থায় দরিদ্র পরিবারগুলো করের মাধ্যমে সরকারকে যে অর্থ দেয়, নগদ সহায়তা ও ভর্তুকির মাধ্যমে তার তুলনায় কম সুবিধা ফেরত পায়।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সেবার আর্থিক মূল্য বিবেচনায় নিলে দরিদ্র পরিবারের নিট সুবিধার চিত্র কিছুটা উন্নত হয়। তবে এসব সেবার মান ও প্রাপ্যতার সীমাবদ্ধতা থাকায় তার পূর্ণ সুফল তারা পায় না।
সমস্যাটি আরো প্রকট হচ্ছে রাজস্বের সীমাবদ্ধতার সময়ে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কর-জিডিপি অনুপাত ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে আটকে রয়েছে। অন্য দিকে ভর্তুকি ব্যয় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে জিডিপির ০.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২.২ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে সুদ পরিশোধের ব্যয় জিডিপির ২.৫ শতাংশে উঠে মোট সরকারি ব্যয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ দখল করছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের জন্য সরকারের হাতে থাকা অর্থের ওপর চাপ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ ভর্তুকি: ধনীরা পান বেশি, দরিদ্রদের প্রয়োজন বেশি : বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকির পরিমাণ ২০১৩-১৪ অর্থবছরের আট হাজার ৫৮০ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৫ শতাংশ) থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এর ৭০ থেকে ৯০ শতাংশই বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের গড় খুচরা বিক্রয়মূল্য ১০.৬৩ টাকা, যেখানে ব্যয়-উদ্ধারকারী মূল্য ১৫.১৬ টাকা; অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে ৪.৫৩ টাকার ব্যবধান রয়েছে। এই ব্যবধান পূরণ করতে গিয়ে সরকারকে বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
কিন্তু এই ভর্তুকির সুবিধা সমানভাবে বণ্টিত হচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবার মোট বিদ্যুৎ ভর্তুকির প্রায় ৩৩ শতাংশ পায়। বিপরীতে সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবার পায় মাত্র ১৫.৪ শতাংশ। নিচের ৪০ শতাংশ পরিবারের সম্মিলিত অংশ প্রায় ৩০ শতাংশ। শহরের সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবার একাই বিদ্যুৎ ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক পায় বলে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে উল্লেখ রয়েছে।
তবে আয়ের অনুপাতে হিসাব করলে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা মিলিয়ে বিদ্যুৎ ভর্তুকি সবচেয়ে দরিদ্র পঞ্চমাংশের আয়ের ১৮.১ শতাংশের সমান, যেখানে ধনী পরিবারের ক্ষেত্রে তা ২.৩ শতাংশ; অর্থাৎ দরিদ্র পরিবার তুলনামূলকভাবে বেশি উপকৃত হলেও মোট ভর্তুকির বড় অংশ তাদের কাছে পৌঁছায় না।
বিশ্বব্যাংকের সিমুলেশন অনুযায়ী, বিদ্যমান ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নিলে দারিদ্র্যের হার ২.৮ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে। নতুন করে প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে এবং জিনি সহগ ১.৬ পয়েন্ট বাড়তে পারে।
অন্য দিকে ভর্তুকি প্রত্যাহার করলে সরকারের সাশ্রয় হতে পারে জিডিপির ১.৯ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ। কিন্তু এই সাশ্রয়ের বিপরীতে নিচের ৪০ শতাংশ পরিবারের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়া হলেও জিডিপির প্রায় ০.৬ শতাংশ সমপরিমাণ নিট সাশ্রয় থাকতে পারে। মূল বাধা হলো, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দিয়ে নিচের দুই-পঞ্চমাংশ পরিবারের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের কাছে কার্যকর সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুতের লাইফলাইন সীমা ৭৫ ইউনিট করার সুপারিশ
বর্তমানে দরিদ্র পরিবারের জন্য বিদ্যুতের একটি প্রধান সুরক্ষা হলো ‘লাইফলাইন’ ট্যারিফ। এ ব্যবস্থায় মাসে ৫০ কিলোওয়াট ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য তুলনামূলক কম দর প্রযোজ্য। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মাত্র ৩৬.৪ শতাংশ দরিদ্র পরিবার এ সীমার মধ্যে থাকে। দরিদ্র পরিবারের গড় মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ৬০.৮ কিলোওয়াট ঘণ্টা। অন্য দিকে ৭৫.৭ শতাংশ দরিদ্র পরিবার মাসে ৭৫ ইউনিটের নিচে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। আরেকটি সমস্যা হলো, ৫০ ইউনিট অতিক্রম করলেই পুরো ব্যবহারের ওপর উচ্চতর দর প্রযোজ্য হওয়ার মতো কাঠামো থাকলে সামান্য অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ বিল হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। ফলে দরিদ্র পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
বণিক বার্তা
‘এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব জমা দিতে হবে’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এনবিআরের কর-সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব ও সম্পদ বিবরণী ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নিতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে বিধান থাকলেও অনিশ্চয়তা রয়েছে তা নিয়মিতভাবে জমা এবং দাখিল করা তথ্যের যথার্থতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব ও বিবরণী জমা দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, পাঁচ বছর পরপর সম্পদের বিবরণী জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। তবে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।
এমন প্রেক্ষাপটে এনবিআরের কর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব ও বিবরণী জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব দেয়ার নিয়ম নতুন কিছু নয়। এ বিষয়ে সরকারের পুরনো সার্কুলার ও বিধান রয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী সম্পদের বিবরণী দিয়ে থাকেন। মিটিংয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় আমরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবেদন চেয়েছি। এনবিআরও সে অনুযায়ী প্রতিবেদন দিয়েছে।’
এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব নিয়মিত জমা দেয়ার পাশাপাশি তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ কর প্রশাসনে অনিয়ম-দুর্নীতি শুধু সরকারি রাজস্ব আহরণকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, করদাতাদের মধ্যে অনাস্থা ও কর পরিশোধে অনাগ্রহ তৈরি করতে পারে। এনবিআরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ওঠা দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সংসদীয় কমিটির সুপারিশকে আরো গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সম্প্রতি একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা হয়েছে। সংস্থাটির নিজস্ব তদন্তেও অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য রয়েছে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে এনবিআরের সহকারী কমিশনার মো. আইয়ুবের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। রয়েছে অর্থ পাচারের অভিযোগ। এসব অভিযোগ তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। এর অংশ হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (দক্ষিণ) রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতিসংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত কথাবার্তার অভিযোগ রয়েছে। বিভাগীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৪ জুন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এনবিআরে সংযুক্ত করা হয়।
এনবিআরের নিজস্ব তদন্তেও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। ফরিদপুর কর অঞ্চলের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২১-২২ করবর্ষে ট্রাইব্যুনালের আদেশ নিষ্পত্তির সময় আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতিসংক্রান্ত কাজে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এ বিষয়ে অভিযোগ, উভয় পক্ষের বক্তব্য, নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে তার বেতন গ্রেড চার ধাপ অবনমিত করার দণ্ড দেয়া হয়। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও লঘুদণ্ড দেয়ার বিষয়টি দুর্নীতি দমনে নেয়া ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সব সিন্ডিকেট ঢাকায়!’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভাগীয় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকার-নির্ধারিত দামের কাছাকাছি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু ঢাকার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন ডিলারদের ওপর, আর ডিলাররা দোষ দিচ্ছেন বিপণন কোম্পানিগুলোকে। এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে ঠকছেন ভোক্তারা।
অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক লাফে ২৫২ টাকা দাম বাড়ানোর কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে আরও বেশি দামে। গত সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই ভোক্তাদের সবচেয়ে বেশি দামে এলপিজি কিনতে হয়। ঢাকার গ্রাহকদের অবস্থা আরও খারাপ। প্রতি সিলিন্ডারে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
এলপিজি আমদানিকারক মালিকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (লোয়াব) এরই মধ্যে বাড়তি দামে কেউ এলপিজি বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। অন্য এলাকার ব্যবসায়ীরাও বলছেন, বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় তারা কোম্পানির কাছ থেকে এলপিজি কিনছেন। তাদের কাছ থেকে এখন কোম্পানি বাড়তি টাকা নিচ্ছে না। কিন্তু ঢাকার ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। তারা বলছেন, কোম্পানিগুলোই বাড়তি দাম নিচ্ছে। এমন অভিযোগ তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনেও (বিইআরসি) জমা দিয়েছেন। তবে জমা দেওয়া কাগজে দেখা যায়, বেশিরভাগ কোম্পানি বিইআরসি নির্ধারিত দামেই এলপিজির ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) নিচ্ছে। দু-একটি কোম্পানি বাড়তি দাম নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড নামে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি সংগঠনও এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে। সেলিমখাত নামে গাজীপুরের একজন এলপিজি ব্যবসায়ী এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তিনি জানান, আগামী ১২ তারিখ জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে আরও ১০০ টাকা বাড়তি দাবি করবেন। ঢাকার ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। দেশের অন্য সব জায়গায় মোটামুটি সরকার-নির্ধারিত দামেই এলপিজি বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলোই তো ডিও নিচ্ছে দুই হাজার টাকার ওপরে। তাদের বলেন না কেন?’
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের সাব্বির নামে একজন ব্যবস্থাপক রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কোম্পানি ব্যাংকে বেশি টাকা জমা নেয়, কিন্তু রসিদ দেয় বিইআরসি নির্ধারিত দামের। তবে এই প্রতিবেদক গত তিন দিন ধরে এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রমাণ চাইলে তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
গতকাল ঢাকার হাতিরপুলের এলপিজি বিক্রেতা তাকওয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন জানান, তার কাছে রাতে গ্যাস আসবে। প্রতি বোতল ২ হাজার ৩০০ টাকায় পাওয়া যাবে।
বনশ্রী সি ব্লকের ফরাজি এন্টারপ্রাইজের জাহিদ ইসলাম একই সময়ে এই প্রতিবেদককে জানান, ১২ কেজির বোতল নিতে পারবেন ২ হাজার ৫০০ টাকায়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পূর্ব রামপুরার একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি বোতল এলপিজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। দোকানি জানান, তিনি প্রতি বোতল এলপিজি কিনেছেন ২ হাজার ৪২০ টাকায়। এর নিচে তার পক্ষে বিক্রি করা সম্ভব নয়।
রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা দিলরুবা সুলতানা জানান, তিনি শুক্রবার সন্ধ্যায় ১২ কেজির এলপিজি কিনেছেন ২ হাজার ৬০০ টাকায়। ঢাকা থেকে গ্রাহক সেজে এলপিজি কেনার জন্য খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী এবং নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ফোন করে দেখা গেছে, ঢাকার দামের চেয়ে সব জায়গায় কম দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে।
খুলনার শামসুর রহমান রোডের আনাম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, কেউ তার দোকানে এলে বিইআরসির নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় এলপিজি নিতে পারবেন। তবে বাসায় পৌঁছে দিলে ১ হাজার ৯০০ টাকা দিতে হবে। তিনি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিইআরসি নির্ধারিত দামেই এলপিজি কিনেছেন। তাকে কোনো বাড়তি অর্থ দিতে হয়নি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘উত্তাল দিল্লি, গণগ্রেপ্তার’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভারতের রাজধানী দিল্লি গতকাল প্রায় চার স্তরবিশিষ্ট দুর্গে পরিণত হয়েছিল। আর এ দুর্গ রক্ষায় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর ২৫ হাজারেরও বেশি সদস্য। শুধু তাই নয়, বাতিল করা হয়েছিল একাধিক ট্রেন, বন্ধ রাখা হয়েছিল অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন। বেশ কিছু নির্ধারিত এলাকার ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কারণ এদিন দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে বড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল বিরোধী দল ও তরুণদের রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে শুধু দিল্লিতেই এদিন আটক করা হয় চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, সিজেপির শীর্ষ নেতা, বিরোধী রাজনীতিক, আন্দোলনকর্মী, কনটেন্ট নির্মাতা, সাংবাদিকসহ প্রায় ৬ হাজার মানুষকে। সব মিলিয়ে গতকাল দিনভর দিল্লির পরিস্থিতি ছিল খুবই উত্তাল।
আটকদের মধ্যে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও সিজেপির কাউকে ছাড়া হয়নি। আটকদের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল অন্তত ১০টি ্েস্টডিয়াম। গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তাদের সেখানেই রাখা হয়েছিল।
সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে গতকাল বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দেওয়া হয়, চালানো হয় গণগ্রেপ্তার। পুলিশের দাবি, গতকাল সকালে যন্তরমন্তরের দিকে যাওয়ার পথে অন্তত ২০০ জনকে আটক করার পর আন্দোলনকারীরা সমর্থকদের দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। সেখান থেকে মিছিলের নেতৃত্ব দেন নেহা বোরা ও যোগেন্দ্র যাদব। আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণও সেখানে ছিলেন। পরে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমও জানিয়েছে, বিক্ষোভের আগের রাতেই অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। এ ছাড়াও গতকাল সারা দিনে দিল্লিজুড়ে ৬ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। আটকদের মধ্যে সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, নেতা এমভি গোবিন্দন মাস্টার, এ বিজয়রাঘবন, কে কে শৈলজা, জন ব্রিটাস, কে এন বালাগোপাল, বৃন্দা কারাত, অধিকারকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, অভিনেতা ইমরান খান, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর আগে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভিতর থেকেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়াও সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংকে আটক করা হয়। শীর্ষ নেতাদের আটকের কয়েক ঘণ্টা পরই অজিঙ্কা শিন্ডেকে সিজেপির নতুন নেতা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। নেতৃত্ব পেয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘এ সরকার ভয় পেয়ে গেছে। এ কারণেই তারা পুরো দিল্লি বন্ধ করে দিয়েছে। যেখানেই পুলিশ আটকাচ্ছে সেখানেই আপনারা যন্তরমন্তর বানান। যতক্ষণ জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করছেন ততক্ষণ এ লড়াই চলবে।’
প্রতিবাদ ছড়াচ্ছে ভারতের বিভিন্ন শহরে : দিল্লির প্রতিবাদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে ভারতের অন্যান্য শহরেও। বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই, চণ্ডীগড়, কলকাতা, পাটনা ও হায়দরাবাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে মিছিল শুরুর আগেই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানেও বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নজরদারি ও আটকের ঘটনা ঘটে। চেন্নাইয়ে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (এআইএসএফ) ও অল ইন্ডিয়া ইয়ুথ ফেডারেশনের (এআইওয়াইএফ) কর্মীরা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। চণ্ডীগড়ে আম আদমি পার্টি (আপ) ও অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। কলকাতার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংহতি মিছিলের ডাক দিয়েছেন। এ ছাড়া পাটনা ও হায়দরাবাদেও ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।
