দুই ডলারের পৃথিবী

দুই ডলারের পৃথিবী

ফন্ট সাইজ:

বিকেলের নরম আলোয়
মায়ের হাত ধরে দোকানে গেল ৫ বছরের নায়লা;
গোলাপি ব্যাগে জমানো দুইটি ডলারের স্বপ্ন—
এই তার নতুন পৃথিবী।
পাখির রঙিন পালকমাখা একটি কলম
বেছে নিয়ে এক ডলার দিল সে,
মনের আনন্দে বেরিয়ে এলো বাড়ির পথে।

কিন্তু কিছুদূর যেতে না যেতে মুখে নামল মেঘ—
‘‘মা, আমার আরেকটা ডলার গেল কোথায়?’’
মা বললেন, ‘‘কলমের দাম দিয়েছ যে।’’
নায়লা অবাক—‘‘কলম নিলে ডলার দিতে হয় কেন!
আমার ডলারটা ফেরত চাই!’’ সে তখনও জানে না,
এ জগতে কোনো জিনিস খালি হাতে
নীরবে হাত বদলায় না, বিনিময় কিছু লাগে।

বড় হয়ে আমরা দেখি,
ক্রেতা আর বিক্রেতার মাঝে বয়ে চলে এক অদৃশ্য নদী—
এক পারে পণ্য, অন্য পারে মূল্য, মাঝখানে মানুষের
প্রয়োজন। বাজারে দারাদরি হয় চোখের জলের মতো,
লাভ হয় শীতের কুয়াশার মতো;
কেউ মাপে চাল, কেউ মাপে মানুষের অসহায়ত্ব।

বিক্রেতা ভাবে, ক্রেতার পকেট কতটুকু গভীর?
ক্রেতা ভাবে, দোকানির মুনাফার আকাশ কত দূর?
অর্থনীতির বইয়ের কথা—
মূল্য, চাহিদা, যোগান; কিন্তু নায়লার বিস্মিত চোখের কাছে
এসব তত্ত্ব একেবারে মূল্যহীন।

শেষ বিচারের বাজারে গিয়ে হয়তো বুঝব—
সবচেয়ে দামি জিনিসের কোনো দামই নেই।
সময়, মমতা, ভালোবাসা লেখা থাকে না কোনো খাতায়।
নায়লা বড় হয়ে ভুলে গেছে সেই বিকেল,
কিন্তু তার কচি মনের প্রশ্ন আজও আমার সঙ্গে হাঁটে।

মানুষ কি সত্যিই টাকার বিনিময়ে জিনিস কেনে?
নাকি প্রতিটি কেনাবেচায়
একটুখানি সময়, একটুখানি স্বপ্ন, একটুখানি শৈশব
রেখে আসে অন্যের হাতে?
খাতায় ওঠে শুধু টাকার অঙ্ক,
যা সত্যিই হারিয়ে যায়, তার নাম থাকে না কোথাও।

অক্টোবর ৫, ২০২৬