আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিচালিত আলোচিত গুম অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় শতাধিক ব্যক্তির গুম সংক্রান্ত এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এখন কেবল যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন বাকি। এর পরপরই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে শুনানিকালে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন জিয়াউল আহসান। আদালতে তিনি অভিযোগ করেন, কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে যাতায়াতের সময় পুরো একটি প্রিজন ভ্যানে কেবল তাকে একাই আনা-নেওয়া করা হচ্ছে। পথিমধ্যে যেকোনো সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে এর দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
পরে, আসামিপক্ষের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউশন জানায়, আসামির যদি সত্যিই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকে, তবে প্রয়োজনবোধে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে তার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম দাবি করেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা গুমের অভিযোগগুলো রাষ্ট্রপক্ষ তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আসামির ভার্চ্যুয়াল শুনানির ক্ষেত্রে প্রসিকিউটশনের আপত্তি নেই।
এদিকে জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার ও তার আইনজীবীরা এই পরিবহন ব্যবস্থাকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, তাকে একা প্রিজন ভ্যানে বহন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে আদালতে হাজির করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আনা হতো। তবে সম্প্রতি তাকে একা প্রিজন ভ্যানে আনা-নেওয়াকে কেন্দ্র করেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সিএমএইচে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৩ই অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।
