চট্টগ্রাম নগর ও জেলার সাতকানিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী শ্রমিকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।
বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নগরীর ডবলমুরিং, ইপিজেড এবং সাতকানিয়া এলাকায় দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১১টা ৩৩ মিনিটের দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন ডিটি রোডের ধনিয়ালাপাড়া রাস্তার মাথায় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী মাছুম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাছুম ধনিয়ালাপাড়ার মগবুল মঞ্জিল এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত রমজান আলী। মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে নগরীর ইপিজেড থানাধীন সিইপিজেডের ৫ নম্বর সড়কে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই শ্রমিক নিহত হন। নিহতরা হলেন তামান্না ও মো. খলিল।
তামান্না শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নগরের কলসির দীঘির পাড় এলাকার ওয়াসিম চৌধুরী পাড়ায় বসবাস করতেন। তার স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে।
অপর নিহত মো. খলিলও শ্রমিক ছিলেন। তিনি ইপিজেডের ফ্রি পোর্ট, নিউমুরিং এলাকায় থাকতেন। তার বাবা মৃত গোলাম মোস্তফা এবং মা নুর জাহান বেগম।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার রাতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও দুইজন নিহত হয়েছেন। রাতের দিকে নয়াখাল পাঠানী পুলের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—মো. রিয়াদ (২০) ও রিগেন চক্রবর্তী (৩৫)। তারা দুজনই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় প্রণয় কর্মকার (২১) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজারমুখী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত প্রণয় কর্মকারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নিয়েছে। নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
