ফলে, গোটা ফরাসি সাম্রাজ্যের তরফে এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য উপনিবেশগুলোতে বিশেষ ধরনের স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য একজন ফরাসি শিক্ষাবিদের ১৯১০ সালে প্রদত্ত সুপারিশ ছিল: “আমাদের উপনিবেশসমূহের আদিম জনগোষ্ঠীগুলোর চিন্তা-ভাবনার রূপান্তর সাধনের জন্য, আমাদের স্বার্থের প্রতি তাদের যথাসম্ভব নিবেদিত করে তোলার জন্য, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সাফল্যের প্রয়োজনে তাদের যথোপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য [...] সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীভুক্ত শিশুদের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, তাদেরকে আমাদের একান্ত সান্নিধ্যে নিয়ে আসা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক অভ্যাসের বশবর্তী করা। এক কথায়, তাদের জন্য [এমন] স্কুল প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে তাদের মন ও মনন আমাদের ইচ্ছেমতো গড়ে উঠবে।২০৯
বলার অপেক্ষা রাখে না, এই শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যম ছিল ফরাসি ভাষা।
ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসকশ্রেণি আফ্রিকার বিভিন্ন উপনিবেশিত অঞ্চলে স্থানীয় জনসাধারণের ভেতর থেকে এভাবেই এক ‘একটি ক্ষুদ্র [শিক্ষিত] গোষ্ঠী’ গড়ে তুলতো, যার সদস্যরা বিশাল আফ্রিকায় ফরাসিদের ক্ষমতা ও সম্পদ রক্ষায় সহযোগিতা করে যেত। আমেদে উইলিয়াম মার্লো-পন্টি (১৯৬৬-১৯১৫), যিনি তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলো ফরাসি-শাসিত পশ্চিম আফ্রিকার গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেছেন, সে অঞ্চলে ‘একটি তরুণ অভিজাত গোষ্ঠী’ তৈরির কথা বলতেন, যারা ‘অনিবার্যভাবে নানা ফরাসি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে’। তাছাড়াও, ১৯১৯ সালে ফরাসি উপনিবেশ-বিষয়ক মন্ত্রী হেনরি সাইমন আফ্রিকায় একটি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মসূচির রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল, ‘সবচেয়ে ভালো আদিবাসী তরুণদেরকে পরিপূর্ণ ফরাসিতে পরিণত করা’।২১০
মার্লো-পন্টি ও হেনরি সাইমনদের ভাবনা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক ফ্রান্স রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছিল বইকি। এমতাবস্থায়, ১৯৩৫ সালের শুরুতে, একদল ব্রিটিশ শিক্ষাবিদ ফরাসি-শাসিত আফ্রিকা অঞ্চলে ভ্রমণে গিয়ে ‘ঈর্ষামিশ্রিত প্রশংসার সঙ্গে স্বীকার করেছিল’ যে, “ফরাসি শাসকরা উপনিবেশিত আফ্রিকার জনগণের ভেতর একটি অভিজাত শ্রেণি তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে, যারা আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক শাসন অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে চলেছে।”২১১
ফরাসি শাসকশ্রেণি শুধু আফ্রিকায় নয়, এশিয়াতে তার ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দীর্ঘায়িত করার জন্যও অভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভিয়েতনামের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। ফরাসিরা ভিয়েতনামকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত নিজের দখলে রেখে, সেদেশে রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের ঔপনিবেশিক প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছিল। আমরা জানি, “ভিয়েতনামে ফরাসিদের পদার্পণের পূর্বে ভিয়েতনামের জনগণ অনন্য সুন্দর এক পরিশীলিত সভ্যতার অধিকারী ছিলেন।”২১২
ফরাসি ঔপনিবেশিক শক্তি সেই সভ্যতাকে রীতিমতো ধ্বংস করে দেয়।
ফরাসিরা ভিয়েতনামের ঐতিহ্যবাহী ‘কনফুসীয়’ শিক্ষাব্যবস্থাকে ‘আদিম ও পশ্চাৎপদ’ আখ্যায়িত করে তাকে আধুনিকায়নের নামে, তথাকথিত ‘সিভিলাইজিং মিশনের’ অধীনে, ভিয়েতনামের স্থানীয় ভাষা ‘টিয়েং ভিয়েতে’র ঐতিহ্যবাহী লিপি পরিবর্তন করে, পরিবর্তিত ল্যাটিন ভাষাভিত্তিক একধরনের ইউরোপীয় লিপির প্রবর্তন করার মাধ্যমে ভিয়েতনামি তরুণদের নিজস্ব ভাষিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পাশাপাশি, ফরাসি ভাষায় ফরাসি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে প্রশিক্ষিত করে, স্থানীয় তরুণদের স্বদেশে ফরাসি প্রশাসকে পরিণত করার প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। অপরাপর ইউরোপীয় উপনিবেশের মতোই, এই ফরাসি ভাষায় প্রদত্ত ফরাসি শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম ভিয়েতনামি জনগণের একটি ছোট্ট অংশকে উপনিবেশবাদী ফ্রান্সের অর্থনৈতিক শোষণ-নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত করেছিল। তবে, এ কথাও সত্য যে, প্রায় শতবর্ষব্যাপী ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নানা সময়ে, নানা আকার ও প্রকারের ভিয়েতনামি প্রতিরোধ সংগ্রামে, পৃথিবীর অপরাপর উপনিবেশিত অঞ্চলের মতোই, এই ফরাসি-শিক্ষিত তরুণদের একটি অংশ সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছিল।
ভিয়েতনামের উপনিবেশবাদ-বিরোধী লড়াই, ছোট-বড় নানা প্রকার সংগ্রামের পথ বেয়ে, ভিয়েতনামি কম্যুনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে, সশস্ত্র স্বাধীনতাযুদ্ধে পরিণত হয় এবং উত্তর ভিয়েতনামের জনগণ শেষ পর্যন্ত, ১৯৫৪ সালে, ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনের রাজনৈতিক শৃঙ্খল থেকে মুক্তি লাভ করে। কিন্তু ভিয়েতনামের দক্ষিণাংশ ফরাসিসহ অপরাপর পশ্চিমা শক্তির প্রভাবাধীন থেকে যায়। ওদিকে, উত্তর ভিয়েতনাম কম্যুনিস্ট শাসনাধীন হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কম্যুনিস্ট প্রভাব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রোধ করার জন্য, ১৯৫৫ সালে, স্বাধীন উত্তরের বিরুদ্ধে ফরাসি প্রভাবিত দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সশস্ত্র সহযোগিতা প্রদান শুরু করে, যা ১৯৬০-এর দশকে উভয় ভিয়েতনামের ভেতর সশস্ত্র যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। সেই যুদ্ধের এক পর্যায়ে, ১৯৬৫ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক আগ্রাসনে লিপ্ত হয়। কিন্তু সে যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমে, ১৯৭৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। শেষ পর্যন্ত, ১৯৭৫ সালে, উত্তর ভিয়েতনামের সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে, উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ সমর্থিত দক্ষিণ ভিয়েতনাম বাহিনীর পতন ঘটে। এমতাবস্থায়, ১৯৭৬ সালে, উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম একত্রিত হয়ে, ভিয়েতনাম গণতান্ত্রিক রিপাবলিক হিসেবে, নিজের স্বাধীন বিকাশের পথে অগ্রসর হয়।
উপনিবেশোত্তর ভিয়েতনামকে, ইতিপূর্বেকার দীর্ঘস্থায়ী ঔপনিবেশিক শাসনের নানা দূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য, যথার্থ গণতন্ত্রপ্রয়াসী অপরাপর উপনিবেশোত্তর রাষ্ট্রগুলোর মতোই, এখনো নানা ধরনের উপনিবেশবাদী প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে অগ্রসর হতে হচ্ছে।
স্পষ্টতই, ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তার ভাষা ও শিক্ষার সম্পর্কটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল, আর সে কারণেই ষোড়শ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত প্রায় চারশ’ বছর ধরে দুনিয়াব্যাপী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের পেছনে পর্তুগিজ, স্পেনীয়, বেলজিয়ান, ফরাসি, ব্রিটিশ প্রভৃতি ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহের শিক্ষা ও ভাষানীতি প্রবলভাবে কার্যকর ছিল, যার দূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব উপনিবেশিত রাষ্ট্রসমূহের ‘রাজনৈতিক স্বাধীনতা’ অর্জনের বহুকাল পরও দেশে দেশে বিদ্যমান রয়েছে।
যা-ই হোক, উপনিবেশগুলোর আপন আপন শাসন-শোষণের নির্বিঘ্ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় এই ভাষা ও শিক্ষানীতি প্রবর্তন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ একদিকে যেমন তাদের নবলব্ধ রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে নতুনভাবে সৃষ্ট কায়েমি স্বার্থবাদী সম্প্রদায়ের অত্যুৎসাহী ‘সম্মতি’কে কাজে লাগিয়েছে। আবার, যেসব ক্ষেত্রে উপরিউক্ত দু’টি সাধারণ পদ্ধতি ফলপ্রসূ হয়ে ওঠেনি, সেসব ক্ষেত্রে স্থানীয়দের ওপর শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক বল প্রয়োগ করার নীতি অবলম্বন করেছে।
ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে, আমরা আগেই বলেছি, লর্ড ম্যাকলের শিক্ষাসংক্রান্ত সুপারিশের আলোকে প্রণীত ‘ইংলিশ এডুকেশন অ্যাক্টের’ অধীনে, তৎকালীন ভারতের ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিংকের নেতৃত্বাধীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসন, ১৮৩৫ সালেই, ‘উচ্চতর শিক্ষা ও সরকারি কাজকর্মের ভাষা’ হিসেবে ইতিপূর্বে প্রচলিত ফারসি ভাষাকে ইংরেজি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। তার দু’বছর পর, ১৮৩৭ সালে, ‘আদালতের ভাষা’ হিসেবেও ফারসিকে ইংরেজি ভাষা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের দিক থেকে ভারতবর্ষের শিক্ষা, প্রশাসন ও আদালতের ওপর নিজেদের ইংরেজি ভাষাকে চাপিয়ে দেয়ার জন্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ শুধু শাসকশ্রেণি হিসেবে তাদের নবলব্ধ রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকেই ব্যবহার করেনি, ১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত ‘ভূমির চিরস্থায়ী ব্যবস্থা’ সৃষ্ট কলকাতাকেন্দ্রিক নতুন কায়েমি স্বার্থবাদী উনিশ শতকীয় ‘বাঙালি বাবু’ সম্প্রদায়ের অতিউৎসাহী ‘সম্মতি’কেও ব্যবহার করেছে। ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ পরমেশ আচার্যের ভাষায়, “উনিশ শতকের বাঙালি ভদ্রলোক সাধারণভাবে সকলেই [ব্রিটিশের] অনুগত প্রজাই হতে চেয়েছেন; ব্রিটিশ শাসনকে এরা প্রায় আশীর্বাদ হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন।”২১৩
আচার্যের মতে, এই ‘বাঙালি ভদ্রলোক’ ভারতে [ব্রিটিশ] ‘শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য বিষয়ে অবগত হয়েই এই নীতিকে সমর্থন করেছিলেন’।
প্রকৃত অর্থে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্বার্থপ্রণোদিত বেন্টিংকের শিক্ষানীতি প্রবর্তনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট রচনার ক্ষেত্রেও এই ‘বাবু সম্প্রদায়ের’ ভূমিকা ছিল। পরমেশ আচার্য লিখেছেন, “বাংলা প্রেসিডেন্সিতে ১৮১৭ সালে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা থেকে ১৮৩৫ সালে ম্যাকলের প্রতিবেদন অনুসারী বেন্টিংকের শিক্ষানীতি ঘোষণা পর্যন্ত কালকে বলা যায় ইংরেজি ভাষায় পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তন ও প্রতিষ্ঠার যুগ। [...] তৎকালীন বাঙালি হিন্দু ভদ্রলোকদের নেতৃস্থানীয় প্রায় সকলেই বিভিন্নভাবে কমবেশি এই প্রক্রিয়ায় অংশীদার ছিলেন।”২১৪
তথ্যসূত্র:
২০৯. ফরাসি শিক্ষাবিদের উদ্ধৃতির জন্য দেখুন, Robert Phillipson, Linguistic Imperialism, p. 114
২১০. Walter Rodney, How Europe Underdeveloped Africa, p: 315
২১১. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৩১৬
২১২. Aimé Césaire, Discourse on Colonialism, p. 52
২১৩. পরমেশ আচার্য, বাঙালির শিক্ষাচিন্তা, পৃষ্ঠা: ২০
২১৪. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ২৯। এই উনিশ শতকীয় ‘বাঙালি হিন্দু ভদ্রলোকদের নেতৃস্থানীয়’ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে পরমেশ আচার্য যাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন, রামমোহন রায়, গোপীমোহন ঠাকুর, প্রসন্ন কুমার ঠাকুর, গোপীমোহন দেব, রাধাকান্ত দেব, দ্বারকানাথ ঠাকুর, কালীনাথ রায়, জয়নারায়ণ ঘোষাল, রামকমল সেন, বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় এবং এমনকি ‘বিখ্যাত সংস্কৃত পণ্ডিত’ মৃতুঞ্জয় বিদ্যালংকার
ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ২৩
উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে
নূরুল কবীর
৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
