উল্লেখ্য, কোম্পানি ইতিপূর্বে দিল্লির বাদশাহ’র কাছ থেকে ‘বিনাশুল্কে বাণিজ্য’ করার অনুমোদন লাভ করেছিল এবং সিরাজ কোম্পানির এই ‘বিশেষ সুবিধা’ অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু কোম্পানিকে প্রদত্ত এই বাদশাহি ‘দস্তক’ জালিয়াতি করে, কোম্পানি কর্মকর্তাদের সহায়তায়, কোম্পানিবহির্ভূত ইংরেজ ব্যবসায়ীরাও ‘বিনাশুল্কে’ বাণিজ্য করে চলেছিল, ফলে নবাবের রাজকোষ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। নবাবের এই সুস্পষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, ইতিপূর্বে কোম্পানি কর্মকর্তা উইলিয়াম ওয়াটস এই সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকারপূর্বক একটি ‘মুচলেকা’ স্বাক্ষর করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি এই ‘দস্তক জালিয়াতি’ বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এই জালিয়াতির মাধ্যমে, কোম্পানির প্রশ্রয়ে, কোম্পানিবহির্ভূত ইংরেজরা শুধু ১৭৫৫ সালেই ‘নবাবের সরকারকে অন্তত দেড় কোটি টাকা ঠকিয়েছে’।১৭০
ইংরেজ ব্যবসায়ীদের এই অনৈতিক কর্মপন্থার বিরুদ্ধে সিরাজের ন্যায্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ম্যাকলে নীরব থেকেছেন।
নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে পলাশীর ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর ‘বিজয়ী’ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের প্রতি উপনিবেশবাদ-বিরোধী দেশপ্রেমিক বাঙালির মমত্ব থাকার কোনো কারণ নেই। কিন্তু কোম্পানি-শাসনে লাভবান কলকাতা-ভিত্তিক ইংরেজি-শিক্ষিত ‘বাবু সম্প্রদায়ের’ একজন বহুলালোচিত উত্তরসূরি, অন্যকথায়, ম্যাকলের ঔপনিবেশিক শিক্ষা-দর্শন-সৃষ্ট ‘ব্রাউন সাহিব’,নীরদচন্দ্র চৌধুরী (১৮৯৭-১৯৯১), যিনি ক্লাইভের একটি সহানুভূতিমূলক জীবনী রচনা করেছেন, স্বভাবতই, সিরাজের ত্রুটি-বিচ্যুতির অন্বেষণে কার্পণ্য করেননি। সিরাজের ‘অতিরিক্ত মদাসক্তি’ নিয়ে বহু ইংরেজ লেখক নানা কটাক্ষ করেছেন, কিন্তু ‘নবাব’ হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পর তিনি মদ্য পান করেননি। চৌধুরী জানিয়েছেন যে, নবাব আলিবর্দী খান তাঁর [মৃত্যুশয্যায়] দৌহিত্র সিরাজকে ‘মদ্যপান থেকে বিরত থাকার জন্য কোরআন স্পর্শ করে শপথ করিয়েছিলেন’। সিরাজ সেই শপথ ভঙ্গ করেননি। কিন্তু নীরদ চৌধুরীর পরবর্তী মন্তব্য হলো, “দুঃখজনকভাবে, মদমত্ত সিরাজের চেয়ে অমত্ত সিরাজ ছিল আরও বেশি ভয়ংকর”।১৭১
এহেন সিরাজ-বিদ্বেষী নীরদ চৌধুরীও, ম্যাকলের বিপরীতে, বিশ্বাস করেন, কলকাতাস্থ কোম্পানি দুর্গ আক্রমণের কারণ হিসেবে উত্থাপিত ‘সিরাজের তিনটি অভিযোগই ন্যায্য ছিল’।১৭২
নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে, ১৭৫৭ সালে, ব্রিটিশ কোম্পানির ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধে জড়ানোকে ন্যায্যতা দানের জন্য ম্যাকলে লেখেন, “সিরাজের দুঃশাসন, তার মূর্খতা, তার দুর্বিনীত ব্যবহার ও কুসংসর্গের প্রতি আসক্তি বাংলার সৈনিক, ব্যবসায়ী, প্রশাসনিক কর্মচারী, গর্বিত ও জমকপ্রিয় মুসলমান আর দুর্বল, নমনীয় ও কৃপণ হিন্দুসহ সকল শ্রেণির প্রজাগণকেই অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।”১৭৩
একথা সত্য যে, সিরাজ-উদ-দৌলার রাজসিক জীবনচর্চায়, মধ্যযুগের এশিয়া ও ইউরোপের অধিকাংশ যুবরাজের মতোই, অনেক সহজাত সামন্ততান্ত্রিক বদগুণ জারি ছিল, কিন্তু তার ভেতর অন্যদের মতোই কিছু ইতিবাচক রাজসিক বৈশিষ্ট্যও বিদ্যমান ছিল। বাংলার এই তরুণ নবাব সম্পর্কে বাংলাদেশের স্বাধীন ইতিহাস-গবেষক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় লিখেছেন, “ইংরাজের ইতিহাসে সিরাজ-উদ-দৌলা কেবল ইন্দ্রিয়পরায়ণ, অকর্ম্মণ্য, জঘন্য রুচির চঞ্চল যুবক বলিয়াই পরিচিত। কিন্তু সিরাজ-উদ-দৌলা স্বয়ং অসিহস্তে যতবার সম্মুখযুদ্ধে অগ্রসর হইয়াছেন, বিপদের সংবাদ পাইয়া যতবার ক্ষিপ্রহস্তে অসিচালনা করিয়াছেন, আলিবর্দী ভিন্ন আর কোনো নবাবই সেরূপ দৃষ্টান্ত দেখাইয়া যাইতে পারেন নাই।”১৭৪
শুধু তা-ই নয়, মৈত্রেয় লিখেছেন, “সিরাজ বরং বিদ্যালাভ করিয়াছিলেন, সময়ে সময়ে রাজকার্য পরিদর্শন করিয়া রাজনীতিক হইয়াছিলেন এবং আবশ্যক হইলে অসিহস্তে সম্মুখযুদ্ধে বীরের ন্যায় জীবন বিসর্জন করিতে যে কাতর নহেন, তাহারও পরিচয় প্রদান করিয়াছিলেন।”১৭৫
তথাপি, তাঁর সম্পর্কে ঢালাওভাবে নেতিবাচক মন্তব্য করার পেছনে আসলে মিল, মার্শম্যান ও ম্যাকলেদের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ন্যায্যতা জোগানের আকাঙ্ক্ষাই সক্রিয় ছিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯৮ সালের মে মাসে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় প্রণীত সিরাজদ্দৌলা গ্রন্থটির একটি পর্যালোচনা লিখেছিলেন; আর সে রচনায় তিনি মৈত্রেয় সম্পর্কে ‘কিঞ্চিৎ উদ্যম সহকারে’ সিরাজ-উদ-দৌলার ‘পক্ষ অবলম্বন’ করার অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। তথাপি, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে সিরাজ-উদ-দৌলার সংঘাতের পেছনে সঠিকভাবেই তিনি ইংরেজ বণিকদের ‘হীনতা মিথ্যাচার ও প্রতারণা’ শনাক্ত করেছিলেন। সংঘাতের পশ্চাদপট বর্ণনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথমেই উল্লেখ করেন যে, বাংলায় বারংবার বর্গি দলের ‘আক্রমণ ঠেকাইবার জন্য বৃদ্ধ [নবাব] আলিবর্দী দশ দিকে ছুটাছুটি’ করার ‘সুযোগে ইংরাজ বণিক কাশিম বাজারে একটি দুর্গ ফাঁদিল’ এবং স্থানে স্থানে [...] সৈন্য সমাবেশ করিতে লাগিল।
ইতিমধ্যে, ঠাকুরের বর্ণনানুযায়ী, “[ইংরেজ] বণিকদের স্পর্ধাও বাড়িতে লাগিল। তাহারা দেশী-বিদেশী মহাজনদিগের নৌকা, জাহাজ লুঠতরাজ করিবার চেষ্টা করিতে লাগিল। কোম্পানির কর্মকর্তাগণ আত্মীয়-বন্ধুবান্ধবসহ বিনাশুল্কে নিজ হিসাবে বাণিজ্য চালাইতে প্রবৃত্ত হইল।”১৭৬
ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই সিরাজ-উদ-দৌলা বাংলার নবাব হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করে, ঠাকুরের ভাষায়, ‘ইংরাজের স্বেচ্ছাচারিতা দমন করিবার জন্য কঠিন শাসন বিস্তার করিলেন’। তারপর, এই তরুণ নবাবের ‘কঠিন শাসন’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, “রাজমর্যাদাভিমানী নবাবের সহিত ধনলোলুপ বিদেশী বণিকের দ্বন্দ্ব বাঁধিয়া গেল। এই দ্বন্দ্বে বণিক-পক্ষে গৌরবের বিষয় কিছুই নাই। সিরাজদ্দৌলা যদিচ উন্নতচরিত্র মহৎ ব্যক্তি ছিলেন না, তথাপি এই দ্বন্দ্বের হীনতা-মিথ্যাচার প্রতারণার উপর তাঁর সাহস ও সরলতা, ধৈর্য ও ক্ষমা রাজোচিত মহত্ত্বে উজ্জ্বল হইয়া ফুটিয়াছে।”১৭৭
পরিশেষে, ব্রিটিশ সেনা-কর্মকর্তা ও ইতিহাসবিদ [জর্জ ব্রুস] ম্যালিসনকে (১৮২৫-১৮৯৮) উদ্ধৃত করে, ঠাকুর বলেন, বাংলায় মঞ্চস্থ ‘সেই পরিণাম দারুণ মহানাটকের প্রধান অভিনেতাদের মধ্যে সিরাজদ্দৌলাই একমাত্র লোক যিনি প্রতারণা করিবার চেষ্টা করেন নাই’। স্পষ্টতই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ পর্যন্ত সিরাজদ্দৌলা সম্পর্কে অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়র বয়ানকেই সাধারণভাবে সমর্থন করেছেন।
ওদিকে, বাঙালি মুসলমানদের ‘গর্বিত ও জমকপ্রিয়’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, ম্যাকলে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে গোটা বাঙালি জনগোষ্ঠী সম্পর্কেও বহু কুৎসা রচনা করেছেন, আর সে প্রক্রিয়ায় তিনি শুধু নিজের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় দেননি, তাঁর ঘোর পুরুষতান্ত্রিক মানসকেও উন্মোচন করেছেন। বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংসের শাসনকাল সম্পর্কে আলোচনায়, ১৮৪১ সালে, ম্যাকলে লিখেছেন, “বাঙালির [পুরুষের] শারীরিক গঠন খুবই দুর্বল—রীতিমতো মেয়েদের মতো। সে নিষ্ক্রিয়তা ভালোবাসে, তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভঙ্গুর, চলাফেরায় সে নিস্তেজ। বহু যুগ ধরে সে তার চেয়ে সাহসী ও বলবান জনগোষ্ঠী দিয়ে পদদলিত হয়েছে। তার শারীরিক গঠন ও অবস্থাটি সাহস, স্বাধীনতা ও সত্যপরায়ণতার সঙ্গে অসংগতিপরায়ণ। তার মনের অবস্থা শারীরিক অবস্থারই প্রতিরূপ—এতই দুর্বল যে, কোনো পুরুষোচিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অসহায় বোধ করে। তবে, এদের নমনীয়তা ও চাতুর্য উষ্ণ জলবায়ুর মানুষদের ভেতর প্রশংসা ও নিন্দা উভয়ই উদ্রেক করে। একটি দুর্বল জনগোষ্ঠীর আত্মরক্ষার জন্য যেসব কৌশল অবলম্বন করতে হয়, সেসব সম্পর্কে তাঁরা জুভেনালের সময় আইওনীয়দের অথবা মধ্যযুগের ইহুদিদের চেয়েও বেশি পরিজ্ঞাত। মহিষের কাছে যেমন তার শিং, বাঘের কাছে যেমন তার থাবা, মৌমাছির জন্য যেমন তার হুল, নারীর কাছে যেমন তার [...] সৌন্দর্য, বাঙালির কাছে প্রতারণা তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। লম্বা প্রতিজ্ঞা, প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের মসৃণ অজুহাত, পরিস্থিতি অনুযায়ী অসত্য নির্মাণ, প্রতারণা, মিথ্যাচার ও জালিয়াতিকে এই গাঙ্গেয় নিম্নাঞ্চলের লোকেরা আত্মরক্ষায় কিংবা শত্রুবিনাশের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।”১৭৮
ইতিপূর্বে, ১৮৪০ সালে, রবার্ট ক্লাইভের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে ম্যাকলে লিখেছেন, “বাঙালিরা যা কিছুই করে, তা নির্জীবের মতো করে। নিষ্ক্রিয়তার জন্যই তার যাবতীয় প্রয়াস। শারীরিক পরিশ্রমের প্রসঙ্গ উঠলেই সে কুঁকড়ে যায়। যদিও বিবাদ-বিসংবাদে সে বাকপটু ও ছলচাতুরীতে অদ্বিতীয়, তারা খুব কম সময়েই সংঘর্ষে জড়ায়— নিতান্ত বিরল ক্ষেত্রেই তারা সৈনিকবৃত্তি গ্রহণ করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সৈন্যবাহিনীতে একশ’ জনও প্রকৃত বাঙালি রয়েছে কিনা সন্দেহ। বিদেশি শাসনের জোয়াল বহন করার জন্য প্রকৃতি ও স্বভাবগতভাবে উপযুক্ত এমন একটি জনগোষ্ঠী পৃথিবীর আর কোথাও কখনো ছিল না।”১৭৯
ঔপনিবেশিক শাসনের ন্যায্যতা সৃষ্টির জন্য ‘প্রকৃতি’ ও উপনিবেশিত জনগণের ‘স্বভাব’কে দায়ী করার কী নির্লজ্জ প্রয়াস!
একথা অবশ্য অনস্বীকার্য যে, যে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের ভেতর দিয়ে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সিংহদ্বার উন্মুক্ত হয়, সে যুদ্ধে বাংলার সাধারণ মানুষের কোনো ‘জাতীয়তাবাদী’ সক্রিয়তা ছিল না। তৎকালীন বাংলার জনগণের এই নিষ্ক্রিয়তার পেছনে তাঁদের সামাজিক-রাজনৈতিক সচেতনতার ‘অভাব’ দায়ী ছিল, আর সেই ‘অভাবের’ জন্য আবার দায়ী ছিল তৎকালে বিদ্যমান সামন্ততান্ত্রিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যে ব্যবস্থার অধীনে কোনো শাসকশ্রেণির ক্ষমতাসীন থাকা বা না-থাকা প্রধানত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট শাসকের সামরিক বলপ্রয়োগের সামর্থ্যরে ওপর নির্ভরশীল ছিল— তার তরফে জনগণের রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর নয়। ফলে, সামন্ততান্ত্রিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থাধীন সময়কালে রাজা-বাদশাহরা প্রধানত নিজেদের সেনাশক্তি বৃদ্ধিতেই সময় ও সম্পদ ব্যয় করতেন, আপন আপন স্বার্থের তরফে জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস গ্রহণে মোটেও অভ্যস্ত ছিলেন না।
তথ্যসূত্র:
১৭০. রজতকান্ত রায়, পলাশীর ষড়যন্ত্র ও সেকালের সমাজ, পৃষ্ঠা: ৩০
১৭১.Nirod C. Choudhury, Robert Clive of India: A political and Psychological Essay, p. 163
১৭২. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ১৬৩-১৬৪
১৭৩. Macaulay, Essay on Clive, p. 50
১৭৪. অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, সিরাজ-উদ্-দৌলা, পৃষ্ঠা: ৩৫
১৭৫. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৭৫
১৭৬. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, “সিরাজ-উদ্-দৌলা”, প্রবন্ধ সংগ্রহ, পৃষ্ঠা: ৫৮০
১৭৭. প্রাগুক্ত
১৭৮. Macaulay, Essay on Warren Hastings, pp. 22
১৭৯. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৩৯
