উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ইতিহাস, ভাষা ও শিক্ষার ঔপনিবেশিক রাজনীতি ২০

উপনিবেশোত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে

ফন্ট সাইজ:

তাছাড়া, পৃথিবীর সর্বত্র ও সকলকালেই শাসকশ্রেণি জনসাধারণের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের সংঘবদ্ধতা ও ক্ষমতায়নের ধারণায় আতঙ্কিত বোধ করে। কেননা, জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শাসকশ্রেণির অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধেও দ্রোহের প্রণোদনা যুগিয়ে থাকে- যা কোনো কালে কোনো দেশেই কোনো শাসকশ্রেণিরই অনিষ্ট ছিল না, সিরাজ-উদ-দৌলাসহ মুর্শিদাবাদের নবাবদেরও না। এমতাবস্থায়, নবাবের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্লাইভের সেনাদলের যুদ্ধের ভেতর রাজনৈতিকভাবে অসচেতন ও শাসনব্যবস্থার সঙ্গে বিযুক্ত স্থানীয় জনসাধারণ নবাব বাহিনীর হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাগিদ অনুভব করেনি।

কিন্তু মুর্শিদাবাদের শাসন বিলোপের মাধ্যমে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার পর, ম্যাকলের জন্মেরও পূর্ব থেকে, নানা রকম উপনিবেশবাদী শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলার কৃষক সমাজ ছোট-বড় অসংখ্য বিদ্রোহের মাধ্যমে তার দেশপ্রেমিক সাহসিকতা প্রদর্শন করেছে। এই সব দুর্ধর্ষ বিদ্রোহের মধ্যে ১৭৬৬ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত সন্ন্যাসী ও ফকির বিদ্রোহ, ১৭৭৮ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত নীল চাষিদের বিদ্রোহ, ১৭৮৩ সালের রংপুর কৃষক বিদ্রোহ, ১৭৮৪ থেকে ১৭৯৬ সাল পর্যন্ত যশোর-খুলনার ‘প্রজা বিদ্রোহ’, ১৭৮৭ সালের বাকেরগঞ্জ কৃষক বিদ্রোহ, ১৮৩৮ থেকে ১৮৪৭ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ফরিদপুরের ফরাজি বিদ্রোহ প্রভৃতি ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। সর্বোপরি, ম্যাকলের জীবদ্দশায়, ১৮৫৭ সালে, বাংলাসহ ভারতের নানা অঞ্চলে সংঘটিত সিপাহি বিদ্রোহে এদেশের হিন্দু-মুসলমান সৈনিকগণ সম্মিলিতভাবে যে অসম সাহসী লড়াই গড়ে তুলেছিলেন, তা ভারতের ইতিহাসে ‘প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধ’ হিসেবে বিখ্যাত হয়ে রয়েছে। ম্যাকলে বাঙালির এইসব লড়াকু সংগ্রামের ইতিহাস এড়িয়ে গিয়ে তাঁর ওপর ‘প্রতারণা, মিথ্যাচার ও জালিয়াতিকে’ তার ‘আত্মরক্ষার’ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অন্যায় অভিযোগ চাপিয়ে দিয়েছেন। ম্যাকলে বেঁচে থাকলে, ১৯৭১ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের সশস্ত্র স্বাধীনতাযুদ্ধে পূর্ব বাংলার তরুণ-তরুণীদের চরম সাহসিকতাপূর্ণ ফলপ্রসূ ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ন করতেন, তা আর জানার সুযোগ নেই।

যা-ই হোক, ভারতবর্ষের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, চিকিৎসাশাস্ত্র ইত্যাদি সম্পর্কে ম্যাকলের বয়ান রীতিমতো ভয়ংকর। ম্যাকলে তাঁর ভারতের শিক্ষাসংক্রান্ত ১৮৩৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রদত্ত সুপারিশে লেখেন যে, ‘ভারতে প্রচলিত ভাষাসমূহ কোনোই সাহিত্যিক কিংবা বৈজ্ঞানিক তথ্য/জ্ঞান ধারণ করে না’, আর ভারতীয় ভাষাগুলো ‘এতই নিকৃষ্ট ও স্থূল’ যে, ‘অন্যদের দ্বারা উন্নয়নসাধন ছাড়া, কোনো মূল্যবান বুদ্ধিবৃত্তিক রচনাকে এই সব ভাষায় অনুবাদ করা দুরূহ’। তিনি দাবি করেন যে, ‘গোটা ভারতবর্ষ ও গোটা আরবের তাবৎ সাহিত্যসম্ভার ইউরোপের যেকোনো ভালো গ্রন্থাগারের একটি মাত্র আলমারিতে সংরক্ষিত সাহিত্যের চেয়ে মূল্যবান কিছু নয়’। তিনি আরও দাবি করেন যে, ‘সংস্কৃত ভাষায় রচিত সকল পুস্তকে ধারণকৃত তাবৎ ঐতিহাসিক তথ্য ইংল্যান্ডের যেকোনো প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত জ্ঞানের সাধারণ সারসংক্ষেপের চেয়েও কম মূল্যবান’। ম্যাকলের মতে, ‘ভারতের গোটা চিকিৎসাশাস্ত্রের গভীরতা ইংল্যান্ডের একজন গবাদি-চিকিৎসকের জন্যও অপমানজনক, ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষ্য ইংল্যান্ডের স্কুল-ছাত্রীদের মধ্যেও হাসির রোল তুলবে’। তাঁর মতে, ‘ভারতীয় ইতিহাস ৩০ ফুট উচ্চতার রাজাদের ৩০ হাজার বছর ধরে রাজত্ব করার কাহিনিতে ভরপুর, আর তাদের ‘ভূগোল মানেই হলো ঝোলাগুড় ও মাখনের সমুদ্রের বর্ণনা’। ফলে, তিনি ‘আরবি ও সংস্কৃত ভাষায় রচিত পুস্তক প্রকাশনা একেবারেই বন্ধ’ করার সুপারিশ করেন।১৮০

ম্যাকলের উপনিবেশবাদী রাজনৈতিক প্রণোদনা জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখায় ভারত ও আরবের অবদান স্বীকারে প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। গণিতশাস্ত্রের নানা শাখায় আর্যভট্ট (৪৭৬-৫৫০), ব্রহ্মগুপ্ত (৫৯৮-৬৬৮), দ্বিতীয় ভাস্কর (১১১৪-১১৮৫) প্রমুখ ভারতীয়গণ শূন্যের ধারণা ও স্থানিক মানভিত্তিক দশমিক সংখ্যাপদ্ধতি, বীজগণিত ক্ষেত্রে ঋণাত্মক সংখ্যার নিয়মাবলি, দ্বিঘাত সমীকরণের সমাধান, ত্রিকোণমিতিতে ‘সাইন’ ও ‘কোসাইনের’ ধারণা প্রবর্তন, ‘পাই’-এর মান নির্ণয় প্রভৃতি বিষয়ে মৌলিক অবদান রেখেছেন- যা গণিতশাস্ত্রকে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। জ্যোতির্বিদ্যা বিকাশের ক্ষেত্রেও প্রাচীন ভারতের মৌলিক অবদান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, আর্যভট্ট সেই ষষ্ঠ শতকে সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের গাণিতিক কারণ, নিজ অক্ষে পৃথিবীর আবর্তনের ধারণা ইত্যাদির অবতারণা করেছেন। অন্যদিকে, নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে দর্শন, পদার্থবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যা শাস্ত্র বিকাশে আল-খাওয়ারিজমি (৭৮০-৮৫০), আল-কারাজি (৯৫৩-১০২৯), আল-হায়সাম (৯৬৫-১০৪০), আল-বিরুনি (৯৭৩-১০৪৮), ইবনে সিনা (৯৮০-১০৩৭), ওমর খৈয়াম (১০৪৮-১১৩১) প্রমুখের মতো আরব বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী অবদান রয়েছে। পরবর্তীকালে, পশ্চিমা বিজ্ঞানীরা ভারত ও আরবে বিকশিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শাখায় প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছেন।

ম্যাকলের মতো ‘পণ্ডিত’ ব্যক্তি নিশ্চয় এই সব আরব ও ভারতীয় মহামনীষীদের সম্পর্কে কম-বেশি অবগত ছিলেন। কিন্তু, বলার অপেক্ষা রাখে না, তাঁর বর্ণবাদী ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক চিন্তার ইউরোপ-কেন্দ্রিকতা তাকে এসব সত্য এড়িয়ে যেতে প্রণোদনা জুগিয়েছিল।
ইউরোপের উপনিবেশবাদী বুদ্ধিজীবিতা আফ্রিকা সম্পর্কে নানা বয়ান নির্মাণের ক্ষেত্রে যেমন, ভারতবর্ষ সম্পর্কেও তেমনি, হামেশাই, নিজের ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গবাদী বর্ণবাদকে স্পষ্ট করে তুলেছে। যেমন ধরুন, ম্যাকলে লিখেছেন, “এমনকি এ যুগেও এশীয়বাসীদের ভেতর শৌর্য, আত্মমর্যাদা ও বীরত্বের অনুভূতি নিতান্তই বিরল।”১৮১
তিনি ‘এশীয় মিথ্যাচার’ নামক শব্দবন্ধ ব্যবহারের মাধ্যমে, প্রকারান্তরে, মিথ্যাচারকে একটি এশীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে দাবি করেছেন।১৮২

কিন্তু কালো বর্ণের হিন্দুকে হেয় করার জন্য ম্যাকলেকে কখনো কখনো আবার এশিয়ার একটি নির্দিষ্ট এলাকার গৌর বর্ণবিশিষ্ট মুসলমান জনগোষ্ঠীর ব্যাপারে প্রশংসা করতে দেখা যায়। যেমন তিনি লিখেছেন, “ভারতের সীমান্তবর্তী গিরিপথের অপর পার্শ্ব থেকে উদ্ভূত [আফগান] জাতির সহজাত গৌর বর্ণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তপেশি আর দৃঢ়চিত্ত প্রণোদিত আক্রমণে কৃষ্ণবর্ণের লিকলিকে ও দুর্বলচিত্ত হিন্দু জনগোষ্ঠী রীতিমতো কুঁকড়ে গিয়েছিল।”১৮৩
স্পষ্টতই, ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী বুদ্ধিজীবীগণ ভারতের জনগণকে সাধারণভাবে, বাঙালি জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে, এবং হিন্দু জনগোষ্ঠীকে আরও বিশেষভাবে, হীন প্রতিপন্ন করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়াস গ্রহণ করেছেন- যা, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের অপরাপর বর্ণবাদী প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক নীতিমালার সঙ্গে যুক্ত হয়ে, শেষ পর্যন্ত, ভারতের জনগণকে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত করার ইন্ধন জুগিয়েছে।
এটা অতএব পরিষ্কার যে, ইতিহাস চর্চার নামে, ইউরোপের ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ আফ্রিকা ও এশিয়ায়, প্রায় অভিন্ন উপায়ে, তাদের দখলীকৃত অঞ্চলের স্থানীয় জনগণের ভেতর সামষ্টিক হীনম্মন্যতা সঞ্চার করাসহ, একদিকে, ভূতপূর্ব স্থানীয় শাসকদের ব্যাপারে নেতিবাচক ও নিজেদের সম্পর্কে ইতিবাচক বয়ান নির্মাণের মাধ্যমে, ঔপনিবেশিক শাসনের ন্যায্যতা সৃষ্টির প্রয়াস গ্রহণ করেছে, অন্যদিকে উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীসমূহের ভেতর গোত্র কিংবা ধর্মভিত্তিক বিভাজন সৃষ্টি করে নিজেদের শোষণ-নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত করেছে।

পাঁচ
ইউরোপের ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ বরাবরই দাবি করেছে যে, তারা তাদের উপনিবেশিত ‘অসভ্য’ অঞ্চলগুলোতে নানা ধরনের আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে নিজেদের অগ্রসর ‘সভ্যতার আলো’ পৌঁছে দিয়েছে- দেশে দেশে সকল উপনিবেশবাদী আগ্রাসনকে তারা নিজেদের ‘সিভিলাইজিং মিশন’, অর্থাৎ ‘সভ্যতা বিস্তারের অভিযান’, হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আমরা জানি, কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর কোনো জনগোষ্ঠীর কল্যাণকর উন্নয়নের জন্য মাতৃভাষায় উন্নততর জনশিক্ষা বিস্তার অপরিহার্য। একথা সত্য যে, ইউরোপের বিভিন্ন ঔপনিবেশিক শক্তি তাদের উপনিবেশিত অঞ্চলসমূহে কিছু কিছু শিক্ষাকার্যক্রম গ্রহণ করেছে, কিন্তু তা মোটেও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভেতর মাতৃভাষায় সর্বজনীন শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যেমন ছিল না, তেমনি উন্নততর জনশিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে ওই জনগোষ্ঠীর কল্যাণকর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যেও তা নিবেদিত ছিল না। তাহলে, উপনিবেশগুলোতে ইউরোপীয় শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কী ছিল?

আমরা আগেই বলেছি, কোনো ভূখণ্ডকে সামরিক বা বেসামরিকভাবে, কিংবা উভয় বিধ উপায়ে, দখল করেই সেই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠীর ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায় না; তার জন্য বরং স্থানীয় পর্যায়ে কায়েমি স্বার্থ সৃষ্টি করাসহ অবশিষ্ট জনগণের ওপর মতাদর্শগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজন হয়। আর এই মতাদর্শগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রধান মাধ্যম হলো দখলদার কর্তৃপক্ষের তরফে নির্দিষ্ট ধরনের শিক্ষা ও ভাষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর ভেতর এমন একটি শ্রেণি তৈরি করা, যে একদিকে যাবতীয় স্বদেশি ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতকে হীনজ্ঞান করে, অন্যদিকে ঔপনিবেশিক শক্তির ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে নির্বিচারে উত্তম জ্ঞান করে দেশীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক শক্তির তরফে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে। ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহ এই লক্ষ্য হাসিলের জন্যই তাদের শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যবহার করেছে।


তথ্যসূত্র:
১৮০. দেখুন, Macalay Minutes on Education, 1835 https://home.iitk.ac.in/~hcverma/Article/Macaulay-Minutes.pdf #:~:text=The%20question%20now%20before%20us%20is%20simply,seas%20of%20treacle%20and%20seas%20of%20butter.

১৮১. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৩৭
১৮২. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৪৪
১৮৩. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৩১