জ্ঞানেশ কুমার আইনানুগ সিদ্ধান্ত না নিলে সেগুলো বাতিল করে দেওয়া হবে: সুপ্রীম কোর্ট

ভারত

জ্ঞানেশ কুমার আইনানুগ সিদ্ধান্ত না নিলে সেগুলো বাতিল করে দেওয়া হবে: সুপ্রীম কোর্ট

ফন্ট সাইজ:

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের বক্তব্য, কমিশন যদি আইনানুগ কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে থাকে, তবে সেইসব সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়া হবে। ভোটার নিবন্ধনের জন্য, নির্ধারিত ফর্মের পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাজে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেছেন, ফর্মের পরিবর্তনে কোনও অনুমোদন দেয়নি আদালত। কার নির্দেশে তা করা হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের কার্যপদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং একটি আবেদন করেছিলেন। সোমবার শীর্ষ আদালতে সেই আবেদনের শুনানি ছিল। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর—অনুমোদন ছাড়াই বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি ও সফটওয়্যারে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। জ্ঞানেশকে সাসপেন্ডের আর্জিতেও একটি জনস্বার্থ মামলা রুজু হয়েছে। এসআইআর পর্বে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন কিংবা একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনেরও আর্জিও জানানো হয়েছে আদালতে। এই সংক্রান্ত মামলাগুলো সোমবার শুনানির জন্য উঠেছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। তদন্তের আর্জির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত।
ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন ঘিরে তোলপাড় হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক ভাবে বিক্ষোভ চলছে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে। তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিকও হতে পারে, আবার আংশিক ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আমরা এর ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই তাদের (কমিশনের) জবাব চাইব। যদি আমরা দেখি যে কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তা হলে আমরা তা বাতিল করে দিতে পারি।”
সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। তিন সদস্যের কমিশনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘সমমর্যাদার মধ্যে প্রথম’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাকে একক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। বর্তমান আইনি কাঠামোয় ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, চাকরির শর্ত এবং কার্যকালের মেয়াদ) আইনের ১৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনের কাজকর্ম যতটা সম্ভব সর্বসম্মতিক্রমে পরিচালিত হবে। কোনও বিষয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।