স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, স্বর্ণালংকার রেখে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াসহ প্রতারণার অভিযোগ ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোছা. হুমায়রা পারভীন রুমু নামে এক নববধূ। রোববার দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন- ভুক্তভোগী রুমু। এ সময় তার আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে রুমু বলেন, ২০২৫ সালের ১১ই এপ্রিল ঢাকার জিগাতলা-ধানমণ্ডি এলাকার সাহাবুদ্দিন ও রেহেনা পারভীনের ছেলে ব্যবসায়ী রায়হান সাহাবের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়।
এর মধ্যে ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার দিয়ে পরিশোধ দেখানো হয় এবং বাকি টাকা বকেয়া রাখা হয়। এছাড়া তার মা ও স্বজনরা বিয়েতে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, যার মূল্য আনুমানিক ১৬ লাখ টাকা, এবং প্রায় ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও বিয়ে বাবদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা খরচ করেন। বিয়ের ছয় মাস পর স্বামী ও শাশুড়ি অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। ব্যবসার জন্য তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বিধবা মায়ের পক্ষে ওই টাকা দেয়া সম্ভব নয় জানালে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। একপর্যায়ে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা তার স্বর্ণালংকার রেখে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
রুমু আরও বলেন, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তার স্বজনরা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে আহত অবস্থায় ২০২৫ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এরইমধ্যে স্বামীর পক্ষ থেকে তালাকের নোটিশ পেয়ে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। ওই নোটিশে মনের অমিল ও বনিবনা না হওয়ার কারণে তালাক দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি ২০২৫ সালের ১৬ই নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের জন্য দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে পাঠানো হয়।
তবে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সেলিমুর রহমান রহস্যজনকভাবে আসামি পক্ষের হয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। হুমায়রার অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনে স্বামী-স্ত্রীর কলহের কারণে পারিবারিক ভাবে বিচ্ছেদ নিষ্পত্তি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি পুলিশ কর্মকর্তার নিকট প্রশ্ন রেখে সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তকারী পুলিশ কোথায় পেলেন নিষ্পত্তির চিত্র ও তথ্য। তিনি বলেন, আমরা আদালতে এ তদন্তের নারাজি দিয়েছি। তবে হুমায়রা পারভীনের এসব অভিযোগের বিষয়ে তার স্বামী ও শাশুড়ির মেবাইলে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে কথা না বলে ফোন কেটে দেন।
