কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা ইশফাতুল ইসলাম জিসান (২৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। রেজিয়া সুলতানা নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়াটে লোক দিয়ে অপহরণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় জিসানকে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ২ জন (গাড়ির চালক)কে গ্রেপ্তার এবং তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক অপহরণ ও হত্যায় ব্যবহৃত একটি নোয়া গাড়ি, একটি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে রয়েছে। তবে কতোজন এবং আরও কারা সরাসরি জড়িত রয়েছে তা গ্রেপ্তার ও তদন্তের স্বার্থে খোলাসা করা হয়নি। সোমবার দুপুরে থানায় সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। এ সংক্রান্তে ব্রিফ করেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ। এ সময় ওসি মো. আরিফুর রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর আলম মাসুম সিদ্দিকী সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তার দুই চালক হলো, চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের দক্ষিণ লোটনী গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে আনোয়ার হোসেন প্রকাশ কাল্লু ড্রাইভার এবং অপহরণে ব্যবহৃত নোয়া গাড়ির চালক ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং এলাকার বাহাদুর আলমের ছেলে জিসাত মিয়া প্রকাশ শওকত ড্রাইভার।
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যায় জড়িত পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতাসহ অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করাসহ গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার দুই চালক এই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যা রহস্যও আদালতকে জানিয়েছে তারা। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাকারার মাইজ কাকারা এলাকা থেকে কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইশফাতুল ইসলাম জিসানকে একটি সাদা রঙের নোয়া গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়। এর পর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে চকরিয়ার খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান এলাকায় পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর থেকে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় জিসানের বড় ভাই কাইচার হামিদ রেজিয়া সুলতানা, তার চার প্রবাসী ভাই বিএনপি নেতা জকরিয়া, নাজিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান ও মিনহাজ উদ্দিন, বেগম নাজিম, একে তারেক সহ ৭ জনের নামে এবং আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে হত্যা মামলা রুজু করেন।
