মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় কারাবন্দি এক আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে জামিন পেতে বিএনপি’র কর্মী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রতিবেদন মানবজমিনসহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশের পর পরই নড়েচড়ে বসেছে বিএনপি নেতৃবৃন্দ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের সঙ্গে আঁতাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিএনপি’র স্থানীয় দুই নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।
একই ঘটনায় যুবদলের এক নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। জেলা বিএনপি’র মুখপাত্র ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহারের সই করা পৃথক চিঠিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। বিএনপি’র পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন— উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল হামিদ ও ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন। তা ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বরাইদ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মল্লিককে।
ঘটনার নেপথ্য ও প্রত্যয়নপত্র বিতর্ক: সাটুরিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গত ২২শে সেপ্টেম্বর পুলিশ মো. রুহুল আমিন রুবেল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এই রুহুল আমিন বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং তিনি এই পদে এখনো বহাল রয়েছেন। ২০২৩ সালের ১০ই অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত কমিটিতে তাকে এই পদ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কারাবন্দি এই আওয়ামী লীগ নেতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার অসৎ উদ্দেশ্যে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কতিপয় নেতা নজিরবিহীন এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেন। গত ২৪শে সেপ্টেম্বর বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আবদুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান যৌথভাবে একটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। ওই পত্রে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এই নেতারা দাবি করেন, রুহুল আমিন ও তার পরিবার পূর্ব থেকেই বিএনপি’র সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সহযোগিতা করেছেন, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এর আগে গত ২৩শে সেপ্টেম্বর উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি মো. বাবুল হোসেন স্বাক্ষরিত অপর একটি প্রত্যয়নপত্রেও প্রায় একই ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে বিএনপি’র সমর্থক বলে দাবি করা হয়। এদিকে, রাজনৈতিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের পদধারী নেতার পক্ষে বিএনপি’র স্থানীয় নেতাদের এমন প্রত্যয়নপত্র দেয়ার ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। দলের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিএনপি’র অনেকের দাবি— মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের ওই নেতার পক্ষে বিএনপি’র কতিপয় নেতারা প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। জেলা বিএনপি’র মুখপাত্র এডভোকেট আ ফ ম নূরতাজ আলম বাহার জানান, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক, নীতিবিবর্জিত ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নির্দেশে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের দলীয় পদ স্থগিত থাকবে।
