কুমিল্লায় ৩ কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ মূলহোতা গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিনটি কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। কোতোয়ালি, চৌদ্দগ্রাম ও মনোহরগঞ্জ থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কোতোয়ালি থানা এলাকার ‘স্ম্যাশ স্কোয়াড’ গ্যাংয়ের জিসান (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) অন্যতম। জিসান তেলিকোনা গোবিন্দ পুকুরপাড় এলাকার জিলানীর ছেলে। সাইফুল ইসলাম আড়াইওড়া সমিতিপাড়া এলাকার আবদুল কুদ্দুসের ছেলে।

এ ছাড়া চৌদ্দগ্রাম এলাকায় ‘১২০৭’ গ্যাংয়ের দুই সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো, মো. তারেক হোসেন সৈকত (১৯) ও মো. জাফর আহমদ (২৩)। তারেক হোসেন সৈকত নলিশ্বর, খিরনশাল এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য। জাফর আহমদ চৌদ্দগ্রাম কোমারডোগা মধ্যমপাড়া এলাকার মো. আলীর ছেলে। মনোহরগঞ্জ এলাকার ‘চঢ ১০’ গ্যাংয়ের মো. শাকিব (১৭) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পোমগাঁও মধ্যপাড়া এলাকার তবু মিয়ার ছেলে। এদিকে অপ্রতিম হত্যার পরপরই জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আলোচনায় উঠে আসে। পরে ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্য মতে, সর্বশেষ শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ ধাপের অভিযানে মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশই ছাত্র। বাকি ৬২৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্টতায় আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন ইউনিট কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।