শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জুস খাওয়ার পর রিফাত মিয়া (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্ত্রী ছাবিহার বিরুদ্ধে জুসের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে রিফাতের পরিবার। গত ২৯শে আগস্ট সন্ধ্যায় শহরের আড়াইআনী মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ১লা সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার খালভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর আগে শহরের বেপারীপাড়া এলাকার মাছ বিক্রেতা ছমেদ আলীর মেয়ে ছাবিহাকে বিয়ে করেন রিফাত। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে পরিবারের দাবি। স্বজনদের ভাষ্য, ২৯শে আগস্ট ছাবিহার বোন আশা বিষপানে অসুস্থ হলে তাকে দেখতে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান রিফাত। এ সময় তিনি আশার জন্য ম্যাঙ্গো জুস, পাউরুটি ও আপেল কেনেন। পরে শ্বশুরবাড়িতে কেউ না থাকায় ছাবিহা ও রিফাতকে ওই খাবারসহ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পরিবারের দাবি, সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে ছাবিহা গ্লাসে জুস ঢেলে রিফাতকে দেন। জুস পান করার পর পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়ার পথে রিফাত বিষপানের কথা জানান বলে স্বজনরা দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর ভোরে শহরের একটি বেঞ্চ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্বজনদের দাবি, উদ্ধারের পর রিফাত জানান, অসুস্থ হয়ে শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেলে তাকে মারধর করে বাইরে ফেলে রাখা হয়। পরে তাকে নালিতাবাড়ী ও ময়মনসিংহের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১লা সেপ্টেম্বর সকালে তার মৃত্যু হয়। রিফাতের মৃত্যুর আগে স্ত্রী ছাবিহার দেয়া জুস খাওয়ার পর অসুস্থ হওয়ার কথা তিনি জানিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও রেকর্ডও তাদের কাছে রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রিফাতের মৃত্যুর পর তার বাবা থানায় অভিযোগ করেন বলে পরিবার জানিয়েছে। তবে পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা করেছে বলে অভিযোগ তাদের। পরিবারের দাবি, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও তারা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না। তবে পরিবারের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নালিতাবাড়ী থানার ওসি আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, স্বজনরাই প্রথমে বিষপানে আত্মহত্যার কথা জানিয়েছিলেন। ময়মনসিংহ হাসপাতালেও একই তথ্য দেয়া হয়েছিল। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
