বরগুনার আমতলীসহ দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষিজমি ও জলাশয়। আবাদি জমি ও মৎস্য ক্ষেত্র জলাশয় কমে যাওয়ায় পরিবেশ হচ্ছে বিপন্ন। অথচ বিপুল পরিমাণ বিকল্প সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেসব সম্ভাবনা আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। কৃষি প্রধান আমতলী ও তালতলী উপজেলায় কৃষি ও মৎস্য সে বিশাল সম্ভাবনা পুকুর-ডোবা-জলাশয় শুধু পরিত্যক্তই রয়েছে। প্রয়োজন শুধু কার্যকর উদ্যোগ। দেশের খাল-পুকুর-ডোবাগুলো আজ দুর্দশাগ্রস্ত। খনন না হওয়া এবং দখলদারের কারণে এগুলো মরতে বসেছে। পানির অভাবে শামুক, ঝিনুকসহ অনেক প্রাণীর আজ দেখা মেলে না। এখন বর্ষা শেষে খালে পানি থাকে না বলে প্রাকৃতিক মাছ আমাদের মধ্য থেকে বিদায় নিচ্ছে।
এক সময় জলাশয়ে শাপলা-শালুক ভরপুর থাকতো। প্রতিটি পরিবার প্রচুর হাঁস-মুরগি পালতো, তাদের খাদ্যের অভাব ছিল না। দেশের গ্রামগঞ্জে শত শত খাল জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। আমরা যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারিনি বলে ইতিমধ্যে অনেক খাল হারিয়ে গেছে। আমতলী ও তালতলী উপজেলার অনেক খাল বর্ষার পরই পানির অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। মানুষ খালগুলোর গভীরতা বৃদ্ধি চায়। খালের পানি দিয়ে ইরিগেশন করতে চায়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। খাল-ডোবায় পানি থাকে না। পানির স্তর নিচে নেমে যাওযায় অনেকস্থানে টিউবওয়েল অকেজো হয়ে যায়। এগুলোও আছে সংস্কারহীন অবস্থায়। এই পুকুর-ডোবাগুলোর গভীরতা বৃদ্ধি করতে মালিকদের উৎসাহ দিতে হবে। তাই পুকুর পাড়ে ঘন বন, বিরাট বৃক্ষ আজ দেখা মেলে না ফলে অনেক প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে খাল-বিল-পুকুর-ডোবার প্রয়োজন অনেক। এগুলো প্রকৃতির প্রাণ। আমতলী উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে একসময় মানুষ বাড়ির নিকটে জমিতে পিয়াজ-রসুন-আদা এবং টমেটো চাষ করতো। খাল ও ডোবার পানিতে সেচের ব্যবস্থা হতো। এখন পানির অভাবে উৎপাদন খরচ বেশি হয় বলে মানুষ পিয়াজ-রসুন-আদা-হলুদ-মটর-ডালসহ আরও অনেক ফসল ফলানো বন্ধ করেছে, কেউ করলেও পরিমাণে অনেক কম। ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী আমতলী উপজেলার মোট আয়তন ৬৯৫ বর্গকিলোমিটার তার মধ্যে প্রায় ২১২ বর্গ কিলোমিটার এলাকাই জলাশয় ও ডোবা নালা রয়েছে। এরমধ্য অধিকাংশই দখলে দূষণে ভরাট হওয়ার পথে। উপজেলায় চলতি বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে আমতলীর কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের তিন কিলোমিটার হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের দুই কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস বলেন, খাল বিল জলাশয় দিন দিন ভরাট হয়ে যাচ্ছে তাই মৎস্য উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মীর মো. আশিক বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো ঘাস না থাকায় গবাদি পশু পালনে কেউ এগিয়ে আসে না। যদি পর্যাপ্ত ঘাসের ব্যবস্থা করা যায় এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয় তাহলে গবাদি পশু লালন-পালন করার সংখ্যা বেড়ে যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, আমাদের সকলেই খাল-পুকুর-ডোবা সংস্কার করে পানি ধারণ করতে হবে। সেই পানিতে থাকবে মাছ, ঘটবে শামুক-ঝিনুকের বংশ বৃদ্ধি আর এই পানি দিয়ে হবে ইরিগেশন। বাড়বে ফসল উৎপাদন। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, কৃষিজমি খাল-বিল জলাশয় যদি কেউ আইন অমান্য করে বিধিবহির্ভূত কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
