ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন পিসিসিপি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক হাবীব আজম।
পিসিসিপি’র নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে ৪ঠা অক্টোবর সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা রাখা শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠীর কোনো প্রতিনিধিকে ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে ৪ঠা অক্টোবরের বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধান সংশোধন নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত পর্যায়ক্রমে নেয়া হবে। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, বিচারক, আইনজীবী, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছে কমিটি। পিসিসিপি বলছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের যেকোনো নীতি নির্ধারণ কিংবা সংবিধান সংশোধনের মতো জাতীয় ও সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মতামত নেয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হলে সব জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে আলোচনার বাইরে রেখে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা নিয়ে পাহাড়ে অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। বাঙালি ও অবাঙালি— উভয়পক্ষের সঙ্গে সমভাবে আলোচনা করে নিরপেক্ষ পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তারা। এ সময় পিসিসিপি’র পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি প্রতিনিধিদেরও মতবিনিময় প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে সংবিধান বা পাহাড়-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে এর ফলে সৃষ্ট অসন্তোষ ও পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
