ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ডাবের দাম। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় ডাবের পানির চাহিদা বেড়েছে। আর এই বাড়তি চাহিদার সুযোগে কোথাও কোথাও ডাবের দাম নেয়া হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি। দুই মাস আগে যে বড় আকারের ডাব ৯০ থেকে ১১০ টাকায় পাওয়া যেতো, এখন সেটিই বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। শুধু ডাব নয়, বেড়েছে মাল্টা, কমলাসহ বিভিন্ন ফলের দামও। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর জন্য ফল কিনতে গিয়ে স্বজনদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি রোগীর পথ্য জোগাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ডেঙ্গু আক্রান্ত পাঁচ বছরের ছেলের জন্য ডাব কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েন কর্ণফুলীর ভ্যানচালক রফিক উদ্দিন। একটি বড় ডাবের দাম চাওয়া হয় ২০০ টাকা। হাসপাতালের সামনে কয়েকটি দোকান ঘুরেও শেষ পর্যন্ত ডাব কিনতে পারেননি তিনি। ডেঙ্গু আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবার জন্য মাল্টা কিনতে গিয়ে একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন মো. সোহান। প্রতি কেজি মাল্টার জন্য তাকে দিতে হয়েছে ৫৫০ টাকা। তার মতো অসংখ্য রোগীর স্বজনকে এখন চিকিৎসার পাশাপাশি বাড়তি দামে ডাব ও ফল কিনতে হচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের সামনে ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি দোকানে ডাব নেই। কোথাও ডাবের জন্য ক্রেতাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ডাব আনতে তাদের আড়তে যেতে হচ্ছে। হাসপাতালের পূর্ব গেটের কাছে ইসমাইল নামে এক বিক্রেতার কাছে ডাবের দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একদাম ১৬০ টাকা। কম পাইলে অন্য জায়গায় যান।’
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সামনেও একই চিত্র। এসব এলাকায় আগের তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা বেশি দামে ডাব বিক্রি হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের ডাব ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, মাঝারি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং বড় আকারের ডাব ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও চট্টগ্রামে ডাবের দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। অথচ দুই মাস আগেও বড় আকারের একটি ডাব বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১১০ টাকায়।
কোতোয়ালি থানা এলাকার ফল ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিনিয়ত কমলা ও মাল্টার দাম বাড়ছে। ফলে ব্যবসায়ীরাও আগের মতো ফল কিনতে পারছেন না। বাড়তি দামের কারণে ক্রেতাদের মধ্যেও ফল কেনার আগ্রহ কমেছে। ফিরিঙ্গী বাজারের পাইকারি বিক্রেতা মো. আলম বলেন, বর্তমানে ডাবের চাহিদা তুঙ্গে। বছরের এ সময়ে নানা ধরনের জ্বর ও অন্যান্য রোগের প্রকোপ বাড়ায় প্রতি বছরই ডাবের দাম কিছুটা বাড়ে। এবার গরম বেশি থাকায় চাহিদা আরও বেড়েছে। ডাব ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন ২৭ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডাবের উৎপাদন কমেছে। ফলে সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো’র (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ডাবের আবাদ হয়েছিল প্রায় ৫৬ হাজার ৬৬৬ একর জমিতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫৩ হাজার ৫৪৪ একরে। এ সময়ে ডাবের উৎপাদনও ১০ হাজার টনের বেশি কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডাব উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ৬৯ হাজার ১৫৯ দশমিক ৩২ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৩১ দশমিক ১৪ টনে। একই সময়ে গাছপ্রতি উৎপাদনও কিছুটা কমেছে। রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী নেতা হায়দার আলী বলেন, ডাবের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। তখন দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
