সোনাইমুড়ীতে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা

পিবিআইয়ের জালে ২ কিশোর, আদালতে স্বীকারোক্তি

ফন্ট সাইজ:

সোনাইমুড়ীতে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদ (৪৩) কে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা। গত রোববার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর আদালতে গ্রেপ্তার দুই কিশোর জবানবন্দি দেয়। গ্রেপ্তার দুই কিশোর আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবণ (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিম (১৭)। তারা সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা। পিবিআই জানায়, তারা একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মব তৈরির মাধ্যমে অরাজকতা চালিয়ে আসছিল।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১১ই জুন রাত ১১টার দিকে উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পূর্বশক্রতার জেরে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে তাকে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে অভিযুক্ত কিশোরেরা ও তাদের সহযোগীরা। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামাল (২৬) সহ অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উপ-পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। পিবিআই জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদন্তের পাশাপাশি কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারবহির্ভূত ও তদন্তে উঠে আসা দুই কিশোরকে আইনি হেফাজতে নেয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে রোববার বিকাল ৩টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে দু’জনই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। ঘটনার দিন মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের ও সহযোগীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা ফয়েজকে লাঠিসোটা ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। নোয়াখালী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।