চট্টগ্রামের বন্ডেড গুদামে ১,৩৩৫ টন কাঁচামালের হদিস নেই

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের একটি বন্ডেড এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠানের গুদামে প্রায় ১ হাজার ৩৩৫ টন কাঁচামালের ঘাটতি পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এসব কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বিপরীতে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

সিআইআইডি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর পাহাড়তলীর উত্তর কাট্টালি এলাকায় অবস্থিত জাস অ্যাকসেসরিজ (বিডি) লিমিটেডে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজে সংরক্ষিত কাঁচামালের প্রকৃত মজুতের সঙ্গে অনলাইন ইউটিলাইজেশন পারমিশন (ইউপি) বা ব্যবহার অনুমতিতে থাকা তথ্য মিলিয়ে দেখা হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের গুদামে ১৯ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ কেজি কাঁচামাল থাকার কথা ছিল। তবে সরজমিন পাওয়া গেছে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮১ দশমিক ২ কেজি। হিসাব অনুযায়ী, গুদামে থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায়নি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৫ দশমিক ৮ কেজি কাঁচামাল, যা প্রায় ১ হাজার ৩৩৫ টনের সমান।
ঘাটতি পাওয়া কাঁচামালের মধ্যে রয়েছে এলডিপিই, এইচডিপিই, এলএলডিপিই, পিপি, জিপিপিএস, এইচআইপিএস, বিপিওপিপি, ডুপ্লেক্স বোর্ড এবং রাবার থ্রেড ইয়ার্নসহ বিভিন্ন উপকরণ।

সিআইআইডি জানিয়েছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার আওতায় প্রতিষ্ঠানটি এসব কাঁচামাল শুল্ক-কর ছাড়াই আমদানি করে থাকে। রপ্তানিমুখী উৎপাদনে ব্যবহারের শর্তে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ সুবিধা দেয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মূল্যের ভিত্তিতে ঘাটতি থাকা কাঁচামালের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এসব পণ্যের বিপরীতে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ টাকা।
বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল কোথায় গেছে, তা জানতে প্রতিষ্ঠানটির হিসাবপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করছে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।

বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার আওতায় রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্তে শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণ আমদানি করতে পারে। তবে এসব পণ্য নির্ধারিত উৎপাদন কাজে ব্যবহার, সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং আমদানি ও ব্যবহারের হিসাব সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক।

ফলে বন্ডেড গুদামে কাঁচামালের বড় ধরনের ঘাটতি পাওয়া গেলে শুল্কমুক্ত সুবিধার শর্ত লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। পাশাপাশি অনুমোদিত কাজে ব্যবহার না করে এসব পণ্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে। সিআইআইডি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই ও তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।