নাটোরের লালপুরে এক তরুণী (২৪)কে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলো— উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের আজের আলীর ছেলে আশিক জামান (২০), হাফিজুল ইসলামের ছেলে কাজল ইসলাম (১৯) ও জোতদৈবকী গ্রামের সাইদুল ইসলাম ভেগা মণ্ডলের ছেলে শাকিল ইসলাম বাদল (২৩)। লালপুর থানা ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, একমাস আগে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশিকের সঙ্গে দেখা করতে লালপুরের গ্রিনভ্যালি পার্কে যান ভুক্তভোগী তরুণী। সেখান থেকে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে তাকে জোতদৈবকী গ্রামের শাকিলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আশিক ওই তরুণীকে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শাকিল গোপনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে এবং পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তরুণীকে ধর্ষণ করে। পরে কাজলও মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এজাহারে আরও বলা হয়, ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে মেহেদী নামের আরেক ব্যক্তি ওই কক্ষে গিয়ে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই তরুণীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়া হয়। পরদিন আশিক ফোন করে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে শাকিলের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
পরে অভিভাবকরা বিষয়টি জানার পর থানায় গিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণী। এরপরই লালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইব্রাহিম খলিল মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে অভিযান চালান। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে উত্তর লালপুরে আশিকের বাড়ি থেকে আশিক, কাজল ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ মানবজমিনকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার তিনজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
