ভুয়া কবিরাজের খপ্পরে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

জিন দিয়ে কঠিন রোগের চিকিৎসা

ভুয়া কবিরাজের খপ্পরে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. হারুন মোল্লা নামে এক ভুয়া কবিরাজের বিরুদ্ধে। তার অভিনব প্রতারণায় প্রতিদিন বিভিন্ন দূর-দূরান্তে আসা রোগীরা নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন। স্বামী-স্ত্রীর অমিল, জিনের আছর, নিঃসন্তান নারীদের সন্তান হওয়াসহ জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করে আসছে এই কবিরাজ। এলাকার কিছু রাজনৈতিক প্রভাশালীদের ছত্রছায়ায় উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ভক্তপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে এ অপচিকিৎসা করে আসছেন তিনি।

জানা যায়, উপজেলার সাহেবেরহাট ইউনিয়নে মেঘনায় তার বাড়ি-ঘর বিলীন হওয়ার পর ১০-১২ বছর আগে হারুন মোল্লা চরলরেন্স ভক্তপাড়া এসে বসতি স্থাপন করেন। সেই থেকেই শুরু হয় তার অভিনব প্রতারণা কৌশল। রাতারাতি কবিরাজ বনে গিয়ে নিজ বাড়িতেই শুরু করেন অপচিকিৎসা। জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাদুটোনা, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, তাবিজ উঠানোসহ বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করেছেন। জানা যায়, তাবিজ উঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসায় এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা নেয় কবিরাজ হারুন। আবার কিছু কিছু চিকিৎসা মোটা অঙ্কের টাকায় কন্টাক্টে করে থাকে। এভাবে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রায় শতাধিক রোগীর সঙ্গে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছেন।
সরজমিন দেখা যায়, তার ঘরে পুরুষ-মহিলা মিলে ১০-১৫ জন রোগী বসে আছেন। তার মধ্যে নোয়াখালীর আন্ডারচরের এক মহিলা আসছেন জামাই মেয়ের খোঁজ-খবর নেয় না এ সমস্যার জন্য। পরে হারুন মোল্লা জিন হাজির করে সমস্যা পেয়েছেন মেয়ের জামাইকে কারা যেন তাবিজ করেছে। পরে এক হাজার টাকার বিনিময়ে ৫টি তাবিজ উঠানো হয়। ওই তাবিজ কবিরাজ তাদের দেখিয়েছে কিন্তু হাতে দেয়নি। এটাও বলছে এ তাবিজ আপনাদের হাতে দেয়া যাবে না— এতে মেয়ের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। যার ভয়ে তার ওই তাবিজ ধরতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. হারুন মোল্লা বলেন, আমিতো মানুষের সেবা করি। এ ব্যবসা বৈধ কিনা? প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমার ব্যবসা বৈধ না অবৈধ আল্লাই ভালো জানেন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ধরনের চিকিৎসা দেয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। এটা টোটালি প্রতারণা। আমরা ঘটনার সত্যতা পেলে উপজেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবো।