জন্মহারের ঐতিহাসিক পতন ঠেকাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রেম ও বিয়েতে উৎসাহ দেয়ার জন্য অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। দেশটির সিঙ্গেল ও অবিবাহিত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘ফার্স্টডেট’ নামের একটি রাষ্ট্রীয় ডেটিং প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে সরকারের প্রযুক্তি সংস্থা গভটেক। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী একটি গাণিতিক অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল, রসিকতা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর প্রকাশ করেছে অনলাইন আল জাজিরা।
সিঙ্গাপুরে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রটির অস্তিত্ব নিয়েই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে ৩০ হাজারেরও কম শিশুর জন্ম হয়েছে, যার ফলে জন্মহারের সূচক নেমে এসেছে রেকর্ড সর্বনিম্ন ০.৮৭-এ। দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ৬২ লাখ, যা পুরো লন্ডনের আয়তনের অর্ধেকেরও কম একটি শহরে বাস করে। সরকারের পক্ষ থেকে সন্তান জন্মদানে প্রায় ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা থাকলেও অতিরিক্ত আবাসন খরচ, ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা এবং কাজের চাপে অনেকেই বিয়ে ও সন্তান নেয়া থেকে দূরে থাকছেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী গান কিম ইয়ং সতর্ক করে বলেছেন, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৪০-এর দশকের শুরু থেকেই সিঙ্গাপুরের নাগরিক এমন জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে।
এমন পরিস্থিতিতে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য
পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে ‘ফার্স্টডেট’ প্ল্যাটফর্ম। এতে অংশ নিতে জাতীয় ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে লগইন করতে হয় এবং নিজের পছন্দ, অভ্যাস ও মূল্যবোধ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের মতো এতে অগণিত প্রোফাইল সোয়াইপ করার সুযোগ নেই। বরং ১৯৬২ সালের বিখ্যাত ‘গেল-শ্যাপলি’ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে দুজন উপযুক্ত সঙ্গীকে সরাসরি মেলবন্ধন করিয়ে দেয়া হয়। এই অ্যালগরিদম আবিষ্কারের জন্যই ২০১২ সালে ডেভিড গেল ও লয়েড শেপলে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার পেয়েছিলেন।
সিঙ্গাপুরে অবশ্য বিয়ে ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নাক গলানো নতুন কিছু নয়। আশির দশকে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ শিক্ষিত নারীদের দেরিতে বিয়ে ও সন্তান কম নেয়ার বিষয়ে সরব হয়েছিলেন এবং গ্র্যাজুয়েট পাত্র-পাত্রীদের মেলামেশার জন্য রাষ্ট্রীয় সামাজিক উন্নয়ন ইউনিট (এসডিইউ) গঠন করেছিলেন। তবে নতুন এই ডেটিং অ্যাপ নিয়ে মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ কেউ একে পাবলিক ফান্ডের অপচয় ও ব্যক্তিগত জীবনে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বললেও, বিশেষজ্ঞরা এটিকে উদ্ভাবনী মানসিকতা হিসেবে দেখছেন। তবে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাসা ভাড়ার অতিরিক্ত খরচের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান না করে কেবল প্রযুক্তি দিয়ে তরুণদের বিয়ে ও সন্তান নিতে কতটা আগ্রহী করা যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
